উকুন ছড়া এটি স্থানীয় নাম। বাংলায় কি নামে ডাকে আজো জানা যায়নি তবে ইংরেজীতে বলা হয় Gloriosa Superba. এটা দেখতে যেমন সুন্দর কার্যকারীতায় এক আশ্চর্যজনক ঔষধি। এই গাছের নির্যাস তৈলের সাথে মাথায় দিলে একটা সমস্যার ক্ষেত্রে দারুণ ফলদায়ক। তার ভিতরেই উল্লেখ করা হয়েছে। উকুন ছড়া দৃষ্টি নন্দন লতা
এটি একটি খুবই সুন্দর লতাজাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা, কাণ্ড, লতা, ফুল, ফল, মূল সবই বিষাক্ত তবে প্রতিটি অঙ্গ দেখতে খুবই সুন্দর। অনেকে এটাকে শখের বসে পালন করে। বাগানের রোপণ করে। একদা বিক্ষিপ্ত ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেখা যেত। এই গাছের বাংলা নাম আমি আজো উদ্ধার করতে পারিনি। একদা পাহাড়ি ত্রিপুরা মহিলাদের এই গাছের রস মাথায় মাখতে দেখে প্রশ্ন করেছিলাম, এই কাজের হেতু কি? তারা বলল এটার নাম ‘উকুন ছড়া’। এই লতার মুলের রস উকুন ছড়ায়। এই তথ্যে আমারও আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। সে জন্য এই লতার নাম উকুন ছড়াই রাখা হয়েছে।
ছাত্রাবস্থায় আমার বাবা আমাকে একটি চারা সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন। ভারতীয় সীমান্ত এলাকার কোন পাহাড়ির মাধ্যমে তিনি এটি যোগাড় করেন। আমি তা আমাদের খামার বাড়ীতে নিতান্ত কৌতূহলের বসে চাষ করেছিলাম। ৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে সবই বিরান হয়ে যায়। অনুসন্ধান করলে এখনও হয়ত বাংলাদেশের কোথাও অযত্নে বেড়ে উঠা এই গুল্মের সন্ধান মিলে যেতে পারে।
এটি একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ। এটা খেলে মানুষ-প্রাণী এটা মারা যেতে পারে। তাই ঘাস ভুক কোন প্রাণী এটার লতা খায়না। তবে ইউনানি ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এটা ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। বাত-ব্যথা, ব্রণ, যৌনরোগ, চুলকানি, কুষ্ঠ, ক্ষত এসব কাজে এটার ব্যবহার আদিকাল থেকেই প্রসিদ্ধ। গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য অব্যর্থ ঔষধ এই লতার মূল থেকেই সৃষ্টি হয় এবং আদিকাল থেকেই এটা কার্যকরী ভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে সেই কথা মনে রাখতে হবে এটা বিষাক্ত ও প্রাণ সংহারক। একমাত্র ইউনানি হাকিম কিংবা আয়ুর্বেদ কবিরাজেরাই এটির খারাপ গুন নিয়ন্ত্রণ করে ঔষধ বানাতে পারে। উকুন ছড়া দৃষ্টি নন্দন লতা
এটার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল মাথার উকুন বিনাশ করার জন্য এটি খুবই কার্যকরী ভেষজ। ছাত্রাবস্থায় নিতান্ত কৌতূহলের বসে আমি একবার একমন তিলের তৈলে এই লতার মূলের রস যোগ করে অনেক মহিলার মাথায় দিয়েছিলাম। এই পরীক্ষা করার জন্য আমার ছোট খালাম্মা নিজের ক্ষেতের তৈল আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। দারুণ একটি সুগন্ধি মেখে এই তৈলকে মনমাতানো ঘ্রাণে বিন্যাস করেছিলাম। উকুন বিনাশে এটির প্রয়োগে আমি শতভাগ সফলতা পেয়েছি। অত্যাচার্য ঔষধী ক্ষমতা দেখে আমিও তাজ্জব হয়েছিলাম। তৈল মাথায় দিলে উকুন নিজেই হেটে হেটে মাথা থেকে নেমে আসে।
নিজের হাতে বানানো এই তৈল দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের অদূরের একটি গ্রামের সকল মহিলার মাথা থেকে সমুদয় উকুন নিশ্চিহ্ন করেছিলাম। ভুল বুঝবেন না, আমি বিপদজনক কিছু নিয়ে খেলতে নামি নি। তখন আমি ইউনানি মেডিসিন নিয়ে পড়া-শোনা করছিলাম তাই তৈল বানাবার নিয়ম, রসদ ও সরঞ্জাম আমার কাছে ছিল। তাছাড়া কলেজে আমার পড়ার বিষয় ছিল উদ্ভিদ বিজ্ঞান।





Discussion about this post