নিশ্চয়ই হুমায়ুন খান পন্নীর কথা ভুলে যান নাই। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার, চরম বিত্তশালী, যথেষ্ট ক্ষমতাবান ও দক্ষ রাজনীতিবিদ ছিলেন। খুনিরা যখন তার স্ত্রী সুলতানা খান পনীর মুখে স্কচ টেপ লাগিয়ে গলা টিপে হত্যা করছিলেন তখন তিনি চেয়ারে বসে এ দৃশ্য দেখছিলেন! যিনি একদা তর্জনী হেলিয়ে দাপটের সাথে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, সেই তিনি বৃদ্ধ বয়সে বড় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। বৃদ্ধা স্ত্রীর সাহায্য ব্যতীত উঠবসও করতে পারতেন না। স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্বল ছিল। সন্তানাদি সবাই বিদেশেই প্রতিষ্ঠিত। দেশের অগাধ অর্থ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা, গুছিয়ে রাখা এই বৃদ্ধার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তাই কিছু চাকর, চাকরানী, ড্রাইভার রেখে জীবন চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সুলতানা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন। স্থায়ী সম্পদ ছাড়াও তদানীন্তন সময়ে কয়েক লক্ষ টাকা শুধু ঘর ভাড়া থেকেই আয় হত। সম্পদ দান করার ব্যাপারটি তিনি গুছিয়ে এনেছিলেন কিন্তু এসব চাকর-বাকরের কাছে সেটা সহ্য হয়নি। তারা জানত তাদের গৃহ স্বামীর আলমারিতে অনেক টাকা গচ্ছিত আছে। দান করে দিলে তো সবই শেষ, তাই নগদ টাকাটা তারা ছিনিয়ে নিবে। টাকা আত্মসাৎ থেকে খুনের নেশায় তাদের পাইয়ে বসে। খুনিরা জানত তাদের গৃহ মালিক হুমায়ুন সাহেবের স্মৃতি শক্তি নষ্ট! তিনি বড়জোর শেষের দিকের কয়েক মিনিটের ঘটনা মনে রাখতে পারে! এভাবে দশ মিনিট পার হলে চোখের সামনে ঘটা মুল খুনের ঘটনাও ভুলে যাবে। তাই খুনিরা নিঃসংকোচে তার সামনেই স্ত্রীকে শুইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। বাংলাদেশ সংসদের ডেপুটি স্পীকার খুনিদের প্রশ্ন করেছিলেন, তোমরা কি করছ? খুনিরা রসিকতার ছলেই বলেছিল, “আমরা তোমার স্ত্রীকে খুন করছি”!
২০০৩ সালে ঘটা হৃদয় বিদারক এই ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাদের জীবনের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষের জন্য চিন্তার খোরাক জোটায়। চিন্তাশীল মানুষ আঁতকে উঠতে বাধ্য হবে, নিজেদের পরিণতি সম্পর্কে জানতে পেরে।
– তাদের অনেক অর্থ সম্পদ থাকার পরও সন্তানাদি কেউ দেশে থাকতে চায়নি কিন্তু আজো আমরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করে নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পাঠাচ্ছি তারা সুখে থাকবে বলে।
– তাদের পরিবার যথেষ্ট ক্ষমতাবান ছিল। আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিতে সমান তালে গ্রহণ যোগ্যতা ছিল। তাদের এই পরিচিতি কোন কাজে আসেনি। আজকে যারা নেতাকে খুশী করার জন্য আপন জনের সাথে বিরোধ বাড়ায়, অকালে তাদের জন্য কে কাছে থাকবে? এটা কেউ ভাবে না।
– তাদের অনেক অর্থ সম্পদ থাকার পরও সন্তানাদি কেউ দেশে থাকতে চায় নি কিন্তু আজো আমরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করে দেশে সম্পদ বাড়াচ্ছি আর বিদেশে জমা করছি সন্তানেরা দেশে-বিদেশে নিরাপদ ও সুখে থাকবে বলে। ভাবছি না এভাবে দুনিয়ায় কেউ সুখী হয়নি।
– মূলত এই পৃথিবীতে কেউ আপন বলতে নেই। না সন্তান, না আত্মীয়! আপন হল নিজের দেহ খানা। সে যতক্ষণ সচল থাকে, ততক্ষণই মানুষের কিছুটা মূল্য আছে, নতুবা মূল্যহীন। তাই স্বাস্থ্যের প্রতি সবার নজর রাখা উচিত।
– এই পৃথিবীতে নিজের সম্পদ বলতে কিছু নেই। প্রকৃত সম্পদ হল ‘সময়’। যা আমরা এখন অতিবাহিত করছি। তা যদি সঠিক পথে ব্যবহৃত হয়, তাহলে পরবর্তী বিকাল কিংবা আগামীকালের সকাল আমার জন্য কাজে আসবে, নতুবা নয়।
– তাই সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করাই হল বুদ্ধিমানের কাজ। কালকে খাবার জন্য সম্পদ গচ্ছিত করে কিংবা সন্তানের কাছে জমা রেখে অকালে ব্যবহার করার খায়েশ কোনদিনই সফল হবে না, হয়না।
– সময়কে যথাযথ কাজে লাগানো টাকে পবিত্র কোরআনে ফরজ করেছে। সময় নিয়ে কোরআনে একটি সুরা আছে। আমাদের সবার উচিত এ ব্যাপারে যথাযথ সজাগ হওয়া।

Discussion about this post