কেয়ামতের আগে ‘ঈমাম মাহদী’ আসবেন এবং পথহারা মুসলমানদের উদ্ধার করে, পথ দেখাবেন। এটা মুসলিম সমাজে অতি আকর্ষণীয় একটি উপলক্ষ। অনেকে ঈমাম মাহদীর জন্য অপেক্ষা করছেন, বহু মানুষ অপেক্ষা করতে করতে ইহ জগত ত্যাগ করেছেন। অনেকে আল্লাহকে ব্ল্যাক মেইলিং করার জন্য, নিজ প্রিয় পুত্রের নাম ‘মাহদী’ রাখেন। পুত্র নিজ গুনে যদি কোন মতে একরার ঈমাম বনে যেতে পারেন; তাহলে তাদের গোষ্ঠীতেই ঈমাম মাহদীর আবির্ভাব হবার গৌরব অর্জন করতে পারবে।
আবার কতক মানুষ আচানক নিজেকে ঈমাম মাহদী দাবী করে গর্জে উঠেন, বে-রসিক পুলিশেও ধরে কিন্তু তাকে রক্ষার জন্য কোন ঈমানদার মুসলমান এগিয়ে আসেনা! দাড়ি নাই, নামাজ নাই, বিশ্রী গালাগালি করেন; এ ধরনের কিছু ব্যক্তিও নিজেকে ঈমাম মাহদী দাবী করে কদাচিৎ আলোচনা আসে। ইরানে কত ব্যক্তি যে নিজেকে ঈমাম মাহদী দাবী গত হয়েছেন তার হিসাব করাটাও দায়। তারপরও মুসলিম সমাজ ঈমাম মাহদীর প্রতীক্ষায় এখনও দিন গুনে, প্রহর গুনে। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি প্রকৃত ঈমাম মাহদী একদিন আমাদের মাঝে এসেও যায় তাহলে আমরা তাঁকে চিনব কিনা বা চিনার উপায় টা কি। সে সম্পর্কে কিছুটা লিখাই হল আজকে লেখকের প্রতিপাদ্য বিষয়।
‘ইমাম মাহদী’ দুটো শব্দই আরবি। ঈমাম অর্থ নেতা। মাহদী অর্থ, হেদায়েত প্রাপ্ত, পথের সন্ধান প্রাপ্ত, সুপথ প্রাপ্ত ইত্যাদি। সরাসরি বাংলায় ঈমাম মাহদী শব্দের অর্থ হবে ‘সত্যপন্থী নেতা’। সাধারণ মুসলমান গন ভেবে থাকেন, তাঁর নামই হবে ঈমাম মাহদী, আর কাজে হবেন ইসলাম পন্থী। তিনি এসে মুসলমানদের কাছে নিজের পরিচয় প্রকাশ করবেন আমিই ঈমাম মাহদী। সুতরাং চোখ বন্ধ করে আমাকে অনুসরণ কর। ব্যাপারটি মোটেও সে ধরনের হবেনা।
ঈমাম মাহদীর কাজ হবে একজন সত্যপন্থী নেতার মত। তিনি যুগের সকল সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বলার মত প্রজ্ঞাবান মানুষ হবেন। তাঁর নাম অন্য আরেকটি হতে পারে কিন্তু তিনি কাজে আল্লাহর অনুগত এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর অনুসৃত পথই হবে তার লক্ষ্য। তাই তিনি ফরজ-সুন্নাত প্রতিষ্ঠায় হবেন অগ্রগণ্য। তিনি সৎ কাজের আদেশ দিবেন এবং অসৎ কাজ প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাবেন। তিনি সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার নির্মূলে তার জনবল নিয়ে প্রতিহত করবেন। রাষ্ট্র থেকে জুলুম উৎপীড়ন বন্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল মিথ্যা ও প্রতারণা বন্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আত্মনিয়োগ করবেন। মূলত এটাই হবে অনাগত ঈমাম মাহদীর মিশন।
আসুন বাস্তবতার আলোকে একটু দেখে নেই, যদি প্রকৃত ঈমাম মাহদী এখন আমাদের সমাজে এসেই পড়েন; আমরা তাঁর সাহায্যকারী শক্তি হব কিনা? এটা পরীক্ষা করার জন্য একটু বুদ্ধি খাটালেই আমরা বুঝতে পারব। আজ হয়ত ঈমাম মাহদী আমাদের মাঝে নাই কিন্তু তাঁর মিশন-ভীষণের মত কাজ করে যাচ্ছে এমন কিছু গোষ্ঠী বা মানুষ তো আছে! হতে পারে এঁদের কাজ পরিপূর্ণ মানের নয় কিন্তু লক্ষ্য ও ধরন সেই রকমের। আমরা এ ধরনের মানুষের সাথে থাকি কিনা? তাদের কাজকে মন্দের ভাল হিসেবে হলেও পছন্দ করি কিনা? তাদের উপর বিপদ-আপদ পতিত হলে নিজের মনে ব্যথা পাই কিনা? অন্তত নিজের মন তাদের পক্ষে কথা বলে কিনা!
যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে ভিন্ন কথা, যদি না হয় তাহলে বুঝতে হবে, ঈমাম মাহদী এসে চলে গেলেও আমরা মুসলমান হওয়া স্বত্বেও তাঁকে কোনদিন চিনতে পারব না। উল্লেখ্য, এখানে কোন দল বা ব্যক্তি বিশেষের চিহ্ন তুলে ধরা হয়নি। তুলে ধরা হয়েছে ঈমাম মাহদীর অনুসারীদের বৈশিষ্ট্যের কথা, তাদের সে বৈশিষ্ট্য আমাদের কে আকৃষ্ট করে কিনা। যদি এই বৈশিষ্ট্য আমাদের আকৃষ্টই না করে তাহলে বুঝতে হবে দাজ্জাল ও যদি দুনিয়ায় আবির্ভূত হয় আমরা দাজ্জালকে চিনতেও ভুল করব।

Discussion about this post