পরশ্রীকাতর শব্দের ‘পর’ মানে অন্য জন। আর ‘শ্রী’ শব্দের অর্থ অনেক, যেমন: সৌন্দর্য, সুনাম, সুখ্যাতি ইত্যাদি। ‘কাতর’ শব্দের অর্থ তো সবাই জানে। উত্তম কিছু সহ্য করতে না পেরে কাতর হয়ে পড়া। মূল ব্যাপার হল, অন্যের ভাল দেখে কেউ কাতর হয়ে গেলে তো দশজনের সমস্যা হয় না! সমস্যা তখনই হয়ে পড়ে, যখন তিনি অন্যের ভাল দেখে কাতর হয়ে হিংসাত্মক আচরণ করে। তার সর্বনাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। এই চরিত্রের মানুষের জন্যই পরশ্রীকাতর শব্দটি ব্যাপক ব্যবহার হয়।
পরশ্রীকাতরের প্রধান অস্ত্রই ‘হিংসা-বিদ্বেষ’! পরশ্রীকাতর তার প্রতিপক্ষকে সহ্য করতে পারেনা। সর্বদা তার ধ্বংস কামনা করে এমনকি প্রতিপক্ষ আঘাতে আঘাতে মরে যাবার পর তার কবরের অস্তিত্বতে পর্যন্ত সে ঘৃণার চোখে দেখে।
পরশ্রীকাতরতা কখনও ব্যক্তিতে, কখনও দলে-গোষ্ঠীতে, কখনও নেতৃত্বে চেপে বসে। এটা ব্যক্তির মধ্যে থাকলে সমাজ সংসার উচ্ছন্নে যায়। জাতির নেতৃত্ব যদি পরশ্রীকাতর ব্যক্তির হাতে পড়ে, সে জাতি কোনদিন সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না। বরং অতীতে জাতির উন্নতি যেখান থেকে শুরু হয়েছিল তারও পিছনে চলে যায়। পিছনের দিকে আগানোই সেই জাতীর বৈশিষ্ট্য হয়ে যায়।
পরশ্রীকাতর বিবেকহীন হয়ে পড়ে। সর্বদা নিজের নাক কেটে; নিজের ঘরে আগুন দিয়ে অন্যের সাথে দুষমনি জিইয়ে রাখে! এতে তার ব্যক্তিজীবন, বংশগৌরব, সমাজ ও রাষ্ট্রের যত লোকসানিই হোক না কেন, তাকে সেখান থেকে কেউ ফিরিয়ে আনতে পারে না। তাকে ফিরানোর জন্য চেষ্টা করা হলে, সে তা বরদাশত করতে পারেনা; ফলে ততোধিক ক্ষিপ্ত হয়ে যারা ফিরাতে সচেষ্ট হয় তাদেরও কঠোর হস্তে দমন করে! ফলে তার চারিদিকে অসংখ্য পরশ্রীকাতর মুখের আনাগোনা বাড়তে থাকে। নিজ স্বার্থে এরা প্রতিনিয়ত পরশ্রীকাতরতাকে ঘৃণার মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্র ঐক্যের উপর দাঁড়ানোর পরিবর্তে স্পষ্ট বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঐক্যের শক্তি বিনষ্টের কারণে সমাজ, দেশ ও জাতী ভঙ্গুর হয়ে পড়ে; সমাজের মানুষ খারাপ প্রতিবেশী আর জনগণ পার্শ্বের অবিশ্বস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসী জিহ্বাকে নিরাপদ মনে করে তার নিকটি আশ্রয় নেয়। এভাবে একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র সহজে অন্যের করতলগত হয়ে যায়।

Discussion about this post