আল্লাহকে কখনও দেখেছেন? চলুন না তাঁকে দেখে নেই!

আল্লাহকে কখনও দেখেছেন, চলুন দেখে নিই

আল্লাহকে কখনও দেখেছেন? 

আল্লাহ কে দেখার জন্য প্রথমে মন থেকে সবকিছু ঝেড়ে ফেলুন…

কিছুক্ষণের জন্য মনের ভিতর কনো কিছুর স্থান দিবেন না…

এতে আপনি চলে যেতে পারবেন চিন্তার সীমারেখার অনেক গভীরে..

এই লিখাগুলো আপনার মনের জন্য কিছু প্রশ্নের সৃষ্টি করবে…

একপর্যায়ে দেখবেন আপনার মন নিজেই তার উত্তর বানিয়ে দিচ্ছে…

ফলে আপনি ভিন্নভাবে বিরাট কিছু উপলব্ধি করার সুযোগ পাবেন…

মনে রাখবেন,
সত্য অনুসন্ধিৎসু মনই সর্বদা সত্যের সন্ধান পেয়ে থাকে…!
ছবিতে দেখানো এটার নামই পৃথিবী! এর বুকেই আমরা বসবাস করি। আমাদের বাবা, দাদা, তার বাবা, তার দাদা এখানেই বেড়ে উঠেছিলেন; যাদের কেউ এখন জীবিত নেই। আমরাও আমাদের সন্তানদের কাছে এর মালিকানা ছেড়ে দিয়ে চলে যাব; কেননা আমরাও চিরদিন জীবিত থাকব না। একই বৃত্তে আমাদের সন্তান, তাদের সন্তানও এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে। এর পরে যারা আমাদের শ্রমের অর্থে ক্রয় করা বাড়ী ও সহায় সম্পদের মালিক হবে তাদের সম্পর্কে আমাদের ন্যূনতম কোন ভবিষ্যৎ ধারনা নাই। কেননা আমরা বেশীর বেশী নিজের সন্তান ও নাতী পর্যন্তই ভাবতে পারি।

এটা হল দুনিয়াররাত্রি কালীন ছবির একটি দৃশ্য। রাত্রিবেলায় দুনিয়ার কোন স্থানে বেশী আলো কোন স্থান তুলনা মূলক অন্ধকার, সেটা বুঝানোর জন্যেই এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে আলো বেশী তারা ধনী ও সমৃদ্ধশালী; যেখানে আলো কম সেই জনপদের মানুষ পিছিয়ে পড়া, অর্থ-নৈতিকভাবে দুর্বল। পৃথিবীর সকল রূপ সকল সৌন্দর্য আমরা উপভোগ করতে পারি অথচ এতে আমাদের ন্যূনতম কোন অবদান নেই। এখানে মানবজাতির ইচ্ছা অনিচ্ছায় কিছুই আসে যায়না। আমাদের চোখ আছে শুধু দেখতে পারি। চিত্ত আসে শুধু উপভোগ করতে পারি। এর বাহিরে কিছুই করার ক্ষমতা মানুষের নাই।

 

উপরের ছবিটি চন্দ্র মাসের ১৪  তারিখের রাতের পূর্ণ চাঁদ। যাকে পূর্ণিমা হিসেবে বাংলা ভাষায় অভিহিত করা হয়। ফ্লোরোসেন্ট আলোর ন্যায় এর আলো প্রতিফলিত হয় সারা পৃথিবীর সর্বত্র। পৃথিবী থেকে এটি ৩,৮৪,৪০৩ কিমি দূরে অবস্থিত। যার ব্যাস ৩৪৭৬ কিমি, অর্থাৎ ৩৫০০ কিমি লম্বা একটি লম্বা রড এটার পেটে ঢুকিয়ে দিলে এদিক থেকে ওদিকে বেড়িয়ে যাবে, চাঁদ পৃথিবীর ৪ ভাগের এক ভাগের সমান। মানুষের কোন কৃতিত্ব, যোগ্যতা, দক্ষতা, মর্যাদা প্রাপ্তির মাধ্যমে এটা আকাশে উদিত হয়না। বিশাল এই টুকরাটিকে যদি কেউ একজন নিতান্ত দয়া করে এটাকে আকাশে উদিত না করাতেন, তাহলে পৃথিবীর সকল মানুষ গণভোট দিয়ে জয়লাভ করেও এটাকে আকাশে তুলতে, চারিদিকে ঘুরাতে কিংবা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হতেন না।
পৃথিবী কিভাবে সূর্যের আলো দ্ধারা আলোকিত হচ্ছে এটা তারই ছবি। পৃথিবী সূর্য থেকে খণ্ডিত একটি গ্রহ মাত্র। সূর্য থেকে ১৪,৯০,০০,০০০ কিমি দূরে এর অবস্থান এবং এর ব্যাস ১২,৭৫৬ কিমি। অর্থাৎ ১৩,০০০ কিমি লম্বা একটি রড এটার পেটে ঢুকিয়ে দিলে এদিক থেকে ওদিকে বেড়িয়ে যাবে।এভাবে হাজার বছর ধরে এই গ্রহে সকাল হয়েছে, সন্ধ্যা নেমেছে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরাও এটা দেখে এসেছে, অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাই দেখবে। এটাকে আপাত দৃষ্টিতে চিরস্থায়ী মনে হলেও মানুষ কিন্তু নশ্বর পৃথিবীতে একেবারেই ক্ষণস্থায়ী! পৃথিবী নিজের অস্তিত্বের জন্য কখনও মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা। বরং মানুষের অস্তিত্বের জন্য পৃথিবীকে তার প্রয়োজন অনেক বেশী। 
দিনের আলোতে পরিপূর্ণ পৃথিবীর দৃশ্য। যার তিন ভাগ জল একভাগ স্থল! তিন বৃত্তের এক বৃত্ত পরিপূর্ণ পানি দ্বারা পূর্ণ। বাকী দুই বৃত্তের মাঝেও পানির আধিক্য খোলা চোখেই নজরে পড়ে, আরো নজরে পড়ে পুরো দুটি মহাদেশ পরিপূর্ণ সাদা বরফে ঢাকা।
বাকী সামান্য স্থল বিশিষ্ট জায়গা নিয়ে আমরা বসবাস করছি। মানবজাতি দাবড়ে বেড়াচ্ছে এরই চামড়ার উপরে। একে অপরকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, হাজারো চেষ্টা প্রচেষ্টার ত্রুটি করছেনা। সামান্য ক্ষমতার দম্ভে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জনবসতিকে সদা তটস্থ করছে। বাহু শক্তি ও অর্থ শক্তির মত্তে, বিস্তীর্ণ জনপদকে বিরান ও ছারখার করে দিচ্ছে।

এখানে আমরা নীল বর্ণের পৃথিবীকে তার ছোট চার ভাই যথাক্রমে; শুক্র, মঙ্গল, বুধ, প্লটো কে দেখতে পাচ্ছি। দৃশ্যত ছোট্ট ভাইদের তুলনায় পৃথিবীকে বেশ বড়, অনেকটা সুন্দর ও এবং দারুণ দৃষ্টিনন্দন লাগছে! মূলতই পৃথিবী প্রকৃতির প্রাচুর্যে ভরা একটি গ্রহ!

 


এই চিত্রে আমরা নীল বর্ণের পৃথিবীকে তার ছোট চার ভাই সহ, বড় চার ভাই যথাক্রমে; ইউরেনাস, নেপচুন, শনি, বৃহস্পতির সাথে দেখতে পাচ্ছি। ভাল করে দেখুন, বড় ভাইদের তুলনায় পৃথিবীর ব্যাপ্তি কত ছোট্ট! কত ক্ষুদ্র! বুঝাই যাচ্ছে এই সৌরজগতে অন্যদের তুলনায় পৃথিবী একটি খুবই ক্ষুদ্র গ্রহ। মানবজাতি এই ছোট্ট গ্রহেই বসবাস করে!
এখানে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে সেটা হল সূর্য। সে হল পৃথিবীর মা! তাকিয়ে দেখুন পৃথিবীর আয়তনের তুলনায় সূর্যের আয়তনের কি বিশাল ব্যবধান! সূর্যের তুলনায় পৃথিবী একটি ক্ষুদ্র বিন্দুর মত। পৃথিবীর চেয়ে সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুন বড় এবং এর ব্যাস ১৩,৯০,০০০ কিমি। অর্থাৎ ১৪ লক্ষ কিমি লম্বা একটি ধাতব রড এর পেটে ঢুকিয়ে দিলে সেটি অপর দিকে বেড়িয়ে যাবে।
 
উল্লেখ্য, সূর্যের দূরত্ব যদি বর্তমানের চেয়ে বেশী হত, তাহলে পৃথিবী বরফের পিণ্ড হয়ে যেত। আর যদি বর্তমান সীমানার আরো কাছে হত, তাহলে পৃথিবী মরুভূমি হয়ে যেত। এই সূর্যে প্রতিদিন কোটি কোটি পারমানবিক বোমার মত বিষ্ফোরণ ঘটে। ফলে সেখানে ভয়ঙ্কর ভাবে কম্পন সৃষ্টি হয়। এই বিশাল আকৃতির অগ্নি-গোলককে শূন্যে ঝুলিয়ে প্রতিনিয়ত দহন করানো, লাটিমের মত ঘুরানো, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় জ্বালানী সরবরাহ, কিছুই মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার সাথে সম্পর্কিত নয়। মানুষ তা থেকে কেবল উপকার নিতে পারে। সূর্যকে অস্বীকার কিংবা অপ্রয়োজন ভাবার সুযোগ মানুষের নাই। কেননা এসব ইচ্ছা-অনিচ্ছা নির্ভর করে শুধু একজন মাত্র নিয়ন্ত্রকের হাতেই।

এখানে আমরা বৃহদাকায় Arcturus নক্ষত্রকে দেখতে পাচ্ছি। সেটার চরিত্র সূর্যের মত ভয়ঙ্কর টালমাটাল। তার বাম পার্শ্বে বহু দূরে অবস্থিত ক্ষুদ্র লাল গোলকটি আমাদের পৃথিবীর মা সুর্য! Arcturus হল একটি বৃহদাকার নক্ষত্র, সূর্যের চেয়ে বহুগুণে বড় এটি। এইই চিত্রে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ ‘বৃহস্পতিকে’ দেখাতে তীরের মাথায় সুঁচের মত পরিমাণ স্থান দেওয়া হয়েছে! এই চিত্রে পৃথিবীর অবস্থান বুঝাতে সুঁচের মত জায়গাও নাই। ভাবুন, আমরা পৃথিবীকে নিয়ে কোথায় অবস্থান করছি?

 

এই চিত্রে আমরা অতিকায় বিশাল Antares নক্ষত্রকে দেখতে পাচ্ছি! এখানে আবার আগের চিত্রের সেই বৃহদাকার Arcturus নক্ষত্রটিকে অতি ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে। এবং সূর্য কে বুঝাতে সূচের মাথার পরিমাণ আকার ধরা হয়েছে। পৃথিবী তো দূরের কথা চিত্রে বৃহস্পতি বলে কোন গ্রহ আছে সে কথাটাই প্রমাণিত হচ্ছেনা! Antares মহাকাশের ১৫ টি বৃহদাকার নক্ষত্রের একটি, যেটি পৃথিবী থেকে ১০০ আলোক বর্ষ দূরে। আমরা কি সবাই বুঝি ১ আলোক বর্ষ বলতে কি বুঝায়?
আমরা জানি, ১ সেকেন্টে আলোর গতি প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল! সেই গতি ও দূরত্ব নিয়ে আলো যদি অনবরত ছুটতে থাকে এবং সেটা ৬০ সেকেন্টে ১ মিনিট, ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টায় ১ দিন, ৩০ দিনে ১ মাস আর ১২ মাসের ১ বছরে আলোর সীমানা যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করবে, সেটাই ১ আলোক বর্ষ!
এটা Cassini-Huygens Probe স্যাটেলাইট থেকে তোলা। ১৯৯৭ সালে পাঠানো হয়, ২০০৪ সালে সেটি যখন শনি গ্রহের বৃত্তের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখনকার একটি পাঠানো ছবি। লাল বৃত্তের মাঝে সাদা দাগের মত বিন্দুটিই আমাদের প্রিয় পৃথিবী! যাকে আমাদের সৌরজগতের অন্য একটি গ্রহের অক্ষ থেকেই এতই ক্ষুদ্র দেখায়!
এই ছবির দৃশ্যে পৃথিবীর উপস্থিতি একটি ক্ষুদ্র বিন্দু ছাড়া আর কিছুই নয়! সাধারণের কাছে এই বিন্দুর ব্যাস, পরিধি, জ্যা কিংবা পরিমাপ করার কোন উপায় নেই। কাগজের এই বিন্দুর আয়তন নির্ণয় করাও অসম্ভব! সেটাই কিন্তু আমাদের পৃথিবী!
–
আবারো তাকিয়ে দেখুন, সে ক্ষুদ্র বিন্দুটির প্রতি! এবং একটু ভাবুন!
এই ক্ষুদ্র বিন্দুতেই আমরা সকলেই আছি একসাথে একত্রে…..!
এখানেই আমরা ঘটিয়ে চলছি যত আগ্রাসন, আর যত যুদ্ধ……!
আমাদের সকল সমস্যা, ঝামেলা এখানকার স্বার্থকে ঘিরেই…….!
এখানেই আমরা আমাদের শৌর্য-বীর্যের সক্ষমতা দেখাচ্ছি……!
এখানেই যত বিজ্ঞান, অঙ্কন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইতিহাসের সৃষ্টি……!
এখানেই আমাদের সভ্যতা বিনির্মাণ করছি, সমূদয় সৃষ্টিকুলকে সাথে নিয়ে….!
এখানেই আমাদের গতি, আমাদের সকল ধর্ম…..!
এখানেই আমাদের সকল জাতি, সকল দেশ, সকল সরকার, সকল কৃষ্টি….!
এখানেই আছে আমাদের সকল প্রিয়জন এবং সকল চরম ঘৃণিত ব্যক্তি…..!
তাদের সবাইকে নিয়ে বসবাস করছি একত্রে, একসাথে একাকার হয়ে!
পৃথিবীর ৮০০ কোটিরও বেশী আদম সন্তান!  আর…..
একটি দিনকে পেছনে ফেলে আরেকটি দিনের প্রত্যাশায় অবিরত লড়াই করছি!
এবার কিছুক্ষণের জন্য ভাবনাটি ছেড়ে দিন।
এবার একটু ভাবুন, দূরের ঐ নীল বিন্দুতে আপনি একাকী বসতি গড়ে তুলেছেন
সেখানে আপনি একা, বড় একা, আপনি চরম একাকীত্ব অনুভব করছেন! 
আপনি ভাবছেন, দূরের ঐ ক্ষুদ্র বিন্দুতে আপনি লুকিয়ে আছেন সংগোপনে! কেউ আপনাকে দেখতে পাচ্ছে না!
কেউ না এবং কেউ না অতএব কেউ না!
বিষয়টার উত্তর কি এমন সহজ? 
আপনি কি করছেন?
কোথায় যাচ্ছেন?
কি খাচ্ছেন?
সব কিছুই যেন গোপনীয় থাকছে। কেউ আপনার কর্মকাণ্ড অবলোকন করার পর্যায়ে নেই! আপনার জবাবদিহির কোন ভয় নেই, দুঃচিন্তা নেই, কোন কিছুর যেন পরোয়া নেই!
তবে, ব্যতিক্রম হিসেবে, মাত্র একজন আছেন!
যিনি, মানুষের মাথায় কয়টি চুল আছে, তারও সূক্ষ্ম হিসেব রাখেন।
কে মারা যাচ্ছেন কিংবা কে জন্ম নিচ্ছেন সবকিছুর ব্যাপারেই তিনি সম্যক অবগত।
কেননা,
 “তাঁর কাছেই রয়েছে অদৃশ্য জগতের চাবি। এসব তিনি ব্যতীত কেউ জানেনা; জলে ও স্থলে যা কিছু আছে, তিনিই এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। একটি পাতাও ঝড়ে না কিন্তু তিনিই জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকারে পতিত হয়না এবং সেটি আর্দ্র নাকি শুষ্ক; তা কিন্তু সব লিপিবদ্ধ রয়েছে প্রকাশ্য গ্রন্থে”। সূরা আল্‌ আন-আম ৫৯
 
অথচ, 
মানুষ অস্বীকার করে আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে! কিন্তু তারা তাঁর মহা সৃষ্টি সম্পর্কে এতটুকুন ভাবে না! মহা শূন্যের এই মহা বিস্ময়কর সৃষ্টি কি এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে, যার কোন একজন স্রষ্টা নাই? সৃষ্টির চেয়ে স্রষ্টা শক্তিশালী; সৃষ্টিতেই স্রষ্টার পরিচয় লুকিয়ে থাকে। বাতাসের আকৃতি আমরা না দেখেও তাকে বিশ্বাস করি যে, বাতাস বিশ্বজগতে প্রলয় ঘটাতে সক্ষম! শব্দ কম্পনকে না দেখেও তার উপস্থিতিতে যখন কাঁচের ঘর ভেঙ্গে বালিতে পরিণত হতে দেখি, তখন তার উপস্থিতিকে মেনে নেই! চুম্বক শক্তিকে ধরে দেখতে না পারলেও, যখন তা মানুষের সৃষ্টিকে বিকল করে দিতে দেখি, তখন তাকে বিশ্বাস করি! উড়ন্ত ‘সসারকে’ এখনও মানুষ কব্জা করতে না পারলেও, কেউ বলেনা যে, এটি, মহাশূন্যে এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে বরং বলা হয় “তাকে কেউ সৃষ্টি করেছে এবং মানুষের গতিবিধি বুঝার জন্য তাদের পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে! 
শুধুমাত্র আল্লাহর সৃষ্ট সম্পদের বেলায় কথা আসলে বলা হয়, তা এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে! এসব সৃষ্টির জন্য কোন স্রষ্টার প্রয়োজন নাই! দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের জন্য, উপরের বিস্তারিত বর্ণনাগুলোই কি আল্লাহকে দেখতে-চিনতে যথেষ্ট নয়! তার পরও কি মানুষ নিজেদের অনেক বড় ও শ্রেষ্ঠতম ক্ষমতাবান ভাববে!? নিজেদের সেরা বুদ্ধিমান মনে করবে!?
আল্লাহ বলেছেন,
“মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা অনুধাবন করেনা”। সূরা আল-মুমীন ৫৭
উপরে বর্ণিত আল্লাহর সমূদয় সৃষ্টি,
সৃষ্টির উদ্দেশ্য……
জানিয়ে দিতে……
চিনিয়ে দিতে…….
বুঝিয়ে দিতে…….
সত্য, সোজা ও সঠিক পথ দেখিয়ে দিতে,
মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে পাঠিয়েছেন, একজন প্রতিনিধি হিসেবে।
যিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ হতে দুনিয়া-বাসীর জন্য শ্রেষ্ঠতম উপহার। কেননা আল্লাহ যদি নিতান্ত দয়া ও অনুগ্রহ করে, তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে এসবের ব্যাখ্যা মানব সম্প্রদায়কে না জানাতেন, আমরা কখনও তা জানতাম না, বুঝতাম না। দুটি চোখ হাতে নিয়ে অন্ধের ন্যায় পৃথিবীর বিশাল ভূ-খণ্ডে দিকহারা পঙ্গপালের মত ঘুরে বেড়াতাম!!! অতঃপর চরম ক্ষতিগ্রস্ত হতাম!!!
 
তাই ভাবুন, বারংবার চিন্তা করুন, তাহলে মহান আল্লাহ সহায় হবেন। তাঁর কাছে সত্যের সন্ধান চাইলে, তিনি বান্দাকে ফেরত দেন না, কেননা হেদায়াত আল্লাহর পক্ষ হতে সবচেয়ে বড় মূল্যবান সম্পদ।
একজন ব্যক্তিও যদি আমার এই ক্ষুদ্র ধারনা থেকে উপকৃত হন, তাহলে আমিও উপকৃত হইব। যদিও এই লিখাটি পড়তে সর্বমোট পাঁচ মিনিট সময় লাগবে, তবে আমার যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে হয়েছে এর পিছনে। ভাবতে হয়েছে নানাভাবে, কিভাবে এটাকে উপস্থাপনা করা যায়? একজন মাত্র পাঠক, দর্শক এটা পড়ে ও দেখে যদি তার আত্মায় তৃপ্তি পায়, সেটাই হবে আমার জন্য সাফল্য। কেননা আমি আল্লাহকে ভালবাসি, আর ভালবাসি তাদের; যারা নিজেরাও মহান আল্লাহকে ভালবাসেন।

ব্লগ পোষ্ট – ০১-০১-২০১১

নজরুল ইসলাম টিপু – ব্লগার

আবুধাবী, সংযুক্ত আরব আমীরাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *