পরিচিতি
স্ন্যাক লিলি Snake lily ফুলের বাংলা নাম কি তা এখনও জানা যায়নি। যেহেতু এটা বাংলাদেশের উদ্ভিদ নয় তাই তার নতুন নাম আজো সৃষ্টি হয়নি। ইংরেজি থেকে সরল অর্থ করতে হলে নতুন অর্থ দাঁড়াবে, Snake মানে ‘সাপ’ আর lily মানে ‘পদ্ম’। সোজা বাংলায় “সর্প পদ্ম”। এই ফুলের দেহাবয়ব সাপের মত ডোরাকাটা চিহ্ন দিয়ে আঁকা। ভঙ্গিমা আবার ফণা তোলা হিংস্র সাপের মত। বাতাসের দোলায় যখন ফুলগুলো দুলতে থাকে, তখন দেখতে ঠিক সাপের ছোবল মারা দৃশ্যের মত অবিকল লাগে। তাই ‘সাপ’ এর সাথে মিলিয়ে তার নামটি মোটামুটি যুতসই হয়েছে। তাছাড়া এসব উদ্ভিদ এমন স্থানে জন্মে যেখানে স্বভাবতই সাপের আনাগোনা থাকে। তাই অজানা কেউ অন্যমনস্ক ভাবে এই উদ্ভিদকে পায়ের গোরায় কাছে এই পরিস্থিতিতে পেলে হয়তবা আঁতকে উঠতে পারে।
আরো পড়ুন…
- জনহিতকর ব্যাঙের ছাতা মাশরুম যখন বিরক্তকর
- অলিম্পিকের দেশে, ম্যারাথনের পদযাত্রা
- চিঠিপত্রে স্বাক্ষর ও সিল এর ব্যবহার যেভাবে শুরু
পরিবেশ
স্ন্যাক লিলি Snake lily বহু প্রজাতির দেখতে পাওয়া যায়। কিছু আছে ঘাস প্রজাতির। বনে জঙ্গলে বেড়ে উঠে কখনও টিউলিপ ফুলের নিচে আশ্রয় নেয়। বড় প্রজাতি দেখতে ঠিক আমাদের দেশের কচু উদ্ভিদের সমতুল্য। আমাদের দেশের সেঁতসেঁতে পরিবেশে কচু, ঢেঁকিশাক ইত্যাদি হয়ে থাকে। Snake lily বেঁচে থাকার জন্য ঠিক এই পরিবেশই বাছাই করে। শীতকালে ইউরোপের বনে জঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির Snake lily দেখতে পাওয়া যায়। সে হিসেবে এই উদ্ভিদ আমাদের দেশে জন্মাবার সম্ভাবনা প্রচুর। কেননা এটা বেচে থাকার জন্য যে পরিবেশ দরকার সেটা আমাদের জলবায়ুর সাথে খাপ খায়।
লিলি প্রজাতির গাছের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল এগুলো দেখতে সুন্দর, সামান্য খাদ্যে দীর্ঘদিন জীবিত থাকতে পারে। এগুলো বাতাসকে পরিষ্কার রাখে, ফলে তার চারপাশের পরিবেশ ঝরঝরে হয়ে উঠে। প্রচুর অক্সিজেন ছাড়ার কারণে বিপরীতে বেশী পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে থাকে। Snake lily চরিত্রেও একই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
চরিত্র
ও হ্যাঁ একটি কথা বলা হয়নি! এগুলো কিন্তু প্রাণী খাদক উদ্ভিদ! প্রাণীজ দেহ খেয়ে এরা প্রোটিনের অভাব পূরণ করে! তাই বলে মানব সন্তানের বাচ্চা খাওয়ার ক্ষমতা এদের নেই! লিলি ফুলের মুখের ভিতর থেকে লিকলিকে একটি আঠালো লতা বাহিরে বেরিয়ে থাকে। দেখতে অনেকটা সাপের লিকলিকে জিহ্বার মত। এটা থেকে খুবই হালকা এক প্রকার ঘ্রাণ বের হয়। মানুষ সেটার উপস্থিতি বুঝতে পারেনা কিন্তু পতঙ্গকুল ঠিকই বুঝতে পারে। ফলে তারা আকৃষ্ট হয়ে ফণা সদৃশ চোঙ্গার মধ্যে ঢুকে যায়। সেটা পিচ্ছিল, তৈলাক্ত বস্তু দ্বারা আচ্ছাদিত। একবার সেখানে পিছলে পড়লে উঠার সাধ্য থাকেনা। চোঙ্গার মধ্যে সে পতঙ্গ মরে-পচে উদ্ভিদের খাদ্যে পরিণত হয়। আমাদের দেশে মশা, মাছি, প্রজাপতি, ফড়িং জাতিয় পতঙ্গরাই এই উদ্ভিদের মূল খাদ্য।


Discussion about this post