সকল ধরনের ক্যাকটাসের শরীর অগণিত কাটায় ভরপুর। এগুলো মরুভূমির গাছ এবং মরুভূমির সকল গাছই কাঁটাযুক্ত। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সে শরীরে এত কাঁটার জন্ম দেয়। অন্যকথায় কাঁটা হল তার আত্মরক্ষায় অস্ত্র। মানুষের আঙ্গুলের আকৃতি যত ছোটই হউক না কেন, সতেজ ক্যাকটাসের দেহ স্পর্শ করা খুবই কঠিন। কাঁটা গুলো এক বৃত্ত থেকে জন্ম হওয়া স্বত্বেও চারিদিকে এমনভাবে ছড়িয়ে থাকে, যার ফাঁক দিয়ে আঙ্গুল প্রবেশ করানো কঠিন। ক্যাকটাসের বিপর্যয়ের কথা পবিত্র কোরআনেও বিবৃতি রয়েছে। দুনিয়ার ফণীমনসা জাহান্নামের যাক্কুম
সাপের ফণার মত আকার হবার কারণে তার প্রথম শব্দ ফণী। আবার মনসা হিন্দুদের সাপ দেবী। উভয় শব্দ যোগে হয়েছে ‘ফণীমনসা’। এটা বাংলা নাম। বস্তুত ফণীমনসা’র সাথে সাপের কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো খুবই নিরীহ প্রকৃতির গাছ কিন্তু মানুষের কাছে খুবই ভয়ঙ্কর। ফণীমনসার ইংরেজি হল Cactas. মূলত ক্যাকটাস দ্বারা একটি গাছ বুঝায় না। এই প্রজাতির বহু গাছ রয়েছে, তাদের সবাইকে ক্যাকটাস বলে চিহ্নিত করা হয়।
আরো পড়তে পারেন…
- স্ন্যাক লিলি Snake lily দেখতে অপূর্ব
- জায়ফল Nutmeg এর উপকারিতা
- হরিতকী- দেশের আশ্চর্যতম মহৌষধ
ক্যাকটাসের ফুল কিন্তু অনেক সুন্দর। গাছে থাকে অনেক কাঁটা কিন্তু ফুল বেজায় সুন্দর। তাই কৌতূহলী হয়ে অনেকে তার পাপড়ি গুলো ধরে, আদর করতে চায়। এই বোকামি যে করেছে, সে ধরা পড়েছে! এই গাছ তার বংশ রক্ষায়, ফুলের চারিদিকে খুবই স্বচ্ছ চিকন লম্বা কাঁটার সৃষ্টি করে। যা খালি চোখে দেখা যায় না। ফুলের গায়ে হাত লাগার আগে এই কাটা ফুটার সম্ভাবনা বেশী থাকে। দুনিয়ার ফণীমনসা জাহান্নামের যাক্কুম
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই গাছটিকে একটি বিশেষায়িত পদ্ধতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার জন্ম যেহেতু মরুতে। তাই পানির অভাবের কথা সে জানে। তার তো আর দুটো পা নেই যে, হেটে গিয়ে জলাধার থেকে পান করে আসবে! যেখানে জন্ম সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। তাই বৃষ্টির সুযোগে যখন পানি পায়, তখনই সে অনেক পানি পান করে শরীরের গোশতের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। সে জন্য তার শরীর বড় নরম। শরীরে ধারণকৃত এ পানি যাতে বের হয়ে না যায় সেজন্য সে খুব দুঃচিন্তায় থাকে।
গাছ তার খাদ্য তৈরি ও জলীয় বাষ্প ত্যাগ করে স্বীয় পাতার মাধ্যমে। ক্যাকটাসের গায়েও পাতা আছে! একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরাই সেটা দেখতে পায়! ক্যাকটাস তার পাতার কারণে, শরীরের পানি হারিয়ে ফেলতে পারে। এ ধরনের একটি দুঃচিন্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার জীবন প্রণালীর মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই ভয়ে ক্যাকটাস তার পাতাগুলোকে সরু সুচের মত বানিয়ে নেয়। যাতে করে এটা পাতার মত চ্যাপ্টা হয়ে পানি বের করে দেবার সুযোগ না পায়। সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো কাঁটা বলে মনে হলেও, এগুলোই ক্যাকটাসের পাতা। বেঁচে থাকার জন্যই পাতাগুলোকে সুঁই বানিয়ে নিয়েছে। দুনিয়ার ফণীমনসা জাহান্নামের যাক্কুম
হয়ত ভাবছেন, ক্যাকটাসের কোন শত্রু নেই। না মোটেও না। আল্লাহ যে জায়গায় যে ধরনের গাছ-পালা সৃষ্টি করেন। সে সব খেয়ে নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য প্রাণীও সৃষ্টি করে থাকেন। আমরা জানি, মরুভূমির অন্যতম প্রাণী হল উট। তার কাছে ক্যাকটাস হল উপাদেয় খাদ্য। শখের কারণে ক্যাকটাস আমাদের দেশেও গিয়ে পৌঁছেছে, আবাদও হয়। ওগুলোর কাঁটা দৈর্ঘ্যে একটু বেঁটে কিন্তু মরুভূমির ক্যাকটাসের কাটা শক্ত তো বটেই! তা যেমনি ধারালো, তেমনি লম্বা। চার ইঞ্চি পেরেকের মত হতেও দেখা যায়! অন্যদিকে উটের মুখ, ঠোট, জিহ্বা বেজায় ভোতা প্রকৃতির। ছোট কাঁটা তো বলাই বাহুল্য, চার ইঞ্চি লম্বা কাঁটার ক্যাকটাস পর্যন্ত সে, চনাচুর ভাজার মত করে অনায়াসে খেতে পারে।
ক্যাকটাসের মাংসল দেহ থেকে কোন মতেই পানি বের হয়না। বহুদিন পড়ে থাকলেও সহজে শুকোয় না। মুরুচারীরা চলার পথে ক্যাকটাসের বন খুঁজে নেয়। জীবন্ত কাণ্ডের গোড়ালিতে কাঁটা থাকেনা। সেখানেই তারা ডেকচি বসিয়ে নিচে আগুন লাগিয়ে দেয়। দিনের পর দিন খাদ্য তৈরি হয়ে যায় কিন্তু ক্যাকটাসের গায়ের ক্ষতি হয় না। ক্যাকটাসের কিছু ঔষধি গুন আছে বটে, তবে তার বিকল্পও আছে। এখন সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মানুষ ঘরেও পালন করে। দুনিয়ার ফণীমনসা জাহান্নামের যাক্কুম
পবিত্র কোরআনে ক্যাকটাস নিয়ে একটি কথা আছে। জাহান্নামীদেরকে ‘যাক্কুম’ নামক এক ভয়ানক বিষময় বৃক্ষ থেকেই আপ্যায়ন করা হবে। না খেলে তাদের পিটানো হবে। যাক্কুমের সারা গায়ে কাঁটা থাকবে। স্বাদে হবে তিতা। ভয়ানক দুর্গন্ধ যুক্ত এবং পেটে গেলেই শুরু হবে তীব্র কষ্টকর প্রতিক্রিয়া ও অনবরত বমি। সেই যাক্কুমের সাথে কাটার দিক দিয়ে ক্যাকটাসের একটা সাদৃশ্য রয়েছে। তাই ক্যাকটাসকে অনেকে দুনিয়াবি যাক্কুম বলে থাকে।
যাক্কুম সম্পর্কে কোরআনে কি বলা হয়েছে, চলুন দেখে যাই। আল্লাহ বলেছেন,
“এই গাছটিকে আমি জালিমদের জন্য ফিতনায় পরিণত করেছি।” সাফফাত-৬৩
“হে পথভ্রষ্ট অস্বীকারকারী, তোমাদের জন্য ‘যাক্কুম’ এর খাদ্য খাওয়ানো হবে।” ওয়াক্বিয়া-৫১-৫২
“যাক্কুম বৃক্ষ হবে পাপীর খাদ্য। তেলের তলানির মত। পেটের ভিতরে উথলাতে থাকবে ঠিক ফুটন্ত পানির ন্যায়।” সুরা দোখান


Discussion about this post