পেয়ারার ইংরেজি নাম Guava. জন্মগত-ভাবে পেয়ারা বাংলাদেশী ফল নয়। এটার মূল জন্মস্থান দক্ষিণ আমেরিকা। একদা চট্টগ্রামের বিরাট এলাকা পর্তুগীজদের দখলে ছিল। আবার পর্তুগীজেরা দক্ষিণ আমেরিকার বিশাল অঞ্চলেও শাসন ক্ষমতা জারি করেছিল।
মূলত তাদের মাধ্যমেই পেয়ারা বাংলাদেশে আসে। এই পেয়ারা বাংলাদেশের জলবায়ুতে বেড়ে উঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ পায়, ফলে সেটা প্রায় জাতীয় ফলে পরিণত হয়। বর্তমানে পেয়ারা বাংলাদেশের সর্ব-গ্রহণযোগ্য একটি ফল। যার এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য অনেক ফলে নেই। পেয়ারা : দেখা হয়েছে কিন্তু চেনা হয়নি
আরো পড়তে পারেন…
- মজাদার ফল মিষ্টি তেঁতুল
- স্ন্যাক লিলি Snake lily দেখতে অপূর্ব
- জনহিতকর ব্যাঙের ছাতা মাশরুম যখন বিরক্তকর
‘পেয়ারা’র নামটিও বাংলা দেশী নয়। পেয়েরা নামটি আমরা পর্তুগীজদের মাধ্যমে পেয়েছি। তাদের দেশে Pear নামে একটি সুস্বাদু ফল হয়। যেটা দেখতে কিছুটা পেয়ারার মত। স্বাদ, বর্ণ, গাছ, পাতা ও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এটা পেয়ারার কাছাকাছি।
পর্তুগীজেরা যখন দক্ষিণ আমেরিকায় যায়, তখন তাদের দেশের Pear এর মত দেখতে এই ভিন্ন ধরনের ফলটিকে দেখতে পায়। তারা বলতে থাকে এটাও Pear এর ভিন্ন বংশধর।
অতঃপর তারা ফলটিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং চাষ করে। পরে সময়ের বিবর্তনে বাংলাভাষীদের মুখে এই ফলটির নাম Pear থেকে ‘পেয়ারা’ হয়ে যায়।
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আগত ফলগুলো লাল বর্ণের থাকলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তা পরিবর্তন হয়ে সাদার কাছাকাছি হয়ে যায়। যদিও দেশে আজো কখনও লাল পেয়ারা দেখা যায়।
এগুলো বিদেশী গাছের চারা, তাই শুরুতে লাল থাকে। কালের পরিক্রমায় বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে মিশতে গিয়ে ধীরে ধীরে ওগুলোও সাদায় পরিণত হয়। যদিও এটা ঘটতে বহু যুগ সময় লাগে।
যাই হোক, পেয়ারা নামক ফলটিকে সবাই চিনে। এটি ভিটামিন ‘সি’ এর একটি আধার। ভিটামিন সি এর ক্ষেত্রে একটি আমলকীর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে। গায়ে পড়ে কেউ আমলকী খায় না, ঠেকায় পড়ে খায় কিন্তু পেয়ারা সবাই খায়।
একটি পেয়ারা কয়েকটি এসকোভিট তথা ভিটামিন ‘সি’ ট্যাবলেটের চেয়েও বেশী ক্ষমতাবান। একসাথে চারটি ট্যাবলেট খাওয়া ক্ষতিকর হলেও, একসাথে কয়েকটি পেয়ারা খাওয়া মোটেও ক্ষতিকর নয়। পেয়ারা : দেখা হয়েছে কিন্তু চেনা হয়নি
পেয়ারা খুবই সুস্বাদু। এটি দাঁতের গোঁড়া মজবুত, সান্নি বাতিক ও দাঁতের অনুশীলনের জন্য দারুণ কার্যকর। যাদের মুখে দুর্গন্ধ বেরোয়, তারা পাঁচদিন পেয়ারা খেলেই রোগ সেরে যায় অথচ ঔষধ খেলে আরো বেশীর টাকার গচ্ছা যায়।
পেয়ারার বিচি পেটের ভিতরের অন্ত্রগুলোর মধ্যে ঝাড়ুর মত কাজ করে। ফলে অন্ত্রের অনেক রোগ ভাল হয়ে যায়। যাদের কোষ্ঠ কাঠিন্য আছে তারা পেয়ারার মাধ্যমে নাড়ী-ভুঁড়ি পরিষ্কার করে নিতে পারে।
পেয়ারা খাওয়ার উত্তম সময় হল সকালে বেলা। বিকালে ও রাত্রে পেয়ারা খেলে বদ হজমের সম্ভাবনা থাকে।
পেয়ারাতে বহুবিধ ভিটামিন রয়েছে তবে এটির ভিটামিন সি সমৃদ্ধতার কারণে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে চিকিৎসকেরা ভিটামিন সি খেতে বলে। তাদের জন্য সর্বোত্তম উপায় হল এই পেয়ারা খাওয়া।
দৈনিক একটি করে পেয়ারা খেলে, যে কেউ খুব সহজেই রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তাছাড়া এটাতে শর্করার পরিমাণ পরিমিত তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ক্ষতিকর নয়।
আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই পেয়ারা পাওয়া যায়। কম যত্নেও এটা পরিবেশের সাথে লড়াই করে বড় হয় ও সন্তান দেয়। সহজলভ্য হবার কারণে, ফলে ধনী-বিত্তশালীরা এটাকে অবজ্ঞা করে এবং এটিকে গরীবের ফল মনে করে তাদের ডাইনিং টেবিলে স্থান দেয়না।
কিন্তু এই ফলের সাথে টেক্কা দিতে পারে এমন ফল আর দ্বিতীয়টি নেই। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ অন্য ফলে আবার গ্যাস্ট্রিকের পাদুর্ভাব বাড়ে কিন্তু পেয়ারা এদিক থেকেও উত্তম।
এটা বাংলাদেশের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিরাট নেয়ামত। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পেয়ারা বিদেশী আপেল, আঙ্গুরের চেয়ে বহু গুনে উত্তম। বিদেশের শপিং মল গুলোতে পেয়ারার দাম আপেল, কমলা এবং সেই বিদেশী পিয়ারের চেয়েও বেশী।
তাই চলুন এই দেশী ফলটিকে বেশী করে কাজে লাগাই। এটা দিয়েই একে অপরকে মেহমান দারী করি এবং বেশী বেশী উৎপাদন করতে থাকি।


Discussion about this post