এক সময় এই ছবিটি মুসলমানদের ঘরে ঘরে আয়না বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যেত। কিছু মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিল মাথাটা মানুষের ও শরীরটা ঘোড়া সদৃশ এই ছবিটি। পারস্য বা দূর প্রাচ্যে এটাকে বোরাক বলা হত, যার একটি অর্থ “সুন্দর মুখমণ্ডল সদৃশ জীব”। সে থেকেই হয়ত এমন অদ্ভুত জীবের ছবি বানানো হয়েছে। বোরাক ও মিরাজ
সপ্তদশ শতাব্দীতে মোগল চিত্রলিপিতে এমন একটি প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা হয়। যাকে বোরাক হিসেবে চিত্রিত করা হয়। মোগল দরবারে শিয়াদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল, যা সিরাজউদ্দৌলা আমল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পরবর্তীতে মোগলদের প্রভাব, শিয়া ধর্মীয় পণ্ডিতের স্বীকৃতি কিংবা সাধারণের বিশ্বাসের কারণেই হউক, এই ছবিটি মানুষের পছন্দের মধ্যে রয়ে যায়।
বোরাক মূলত আরবি শব্দ, যার অর্থ বিদ্যুৎ। অর্থাৎ এটি এমন একটি প্রাণী যার গতি বিদ্যুতের ন্যায় দ্রুত। হাদিস শরীফে এমন একটি প্রাণীর কথা বলা হয়েছে, যার পিঠে চড়ে রাসুল (সা) মিরাজের রাতে মুহূর্তের মধ্যেই মক্কা নগরী থেকে বায়তুল মাকদাসে পৌঁছে গিয়েছিলেন। যে প্রাণীটি দেখতে সাদা, গাধার চেয়ে বড়, খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং প্রচণ্ড গতিশীল। যার একটি পদক্ষেপে দিগন্ত পাড়ি দিত (হাদিসে কুদসী-৯৯)
বিজ্ঞানী আইনস্টাইন প্রথম ধারণা দেন যে, সেকেন্ডে সাত মাইলের বেশী গতিসম্পন্ন কোন দ্রুত যান যদি মহাকাশের দিতে ধাবিত করা যায়, তাহলে সেটা মধ্যাকর্ষনের সীমানা পাড়ি দিতে পারবে। এখন যত ধরনের রকেট দেখি সবগুলোই সাত মাইলের বেশী গতি সম্পন্ন।
আশ্চর্যের বিষয় হল, বোরাক শব্দের অর্থ বিদ্যুৎ। রাসুল (সা) এর যুগে বিদ্যুৎ সম্পর্কে এত ধারণা জম্মেনি। আর আমরা জানি বিদ্যুতের গতি সেকেন্ডে একলক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। সুতরাং বুঝাই যায় যে, বোরাকের মূল গতি কত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন। বিজ্ঞান বিশ্বাস করে, মানুষকে যদি মহাকাশ ভেদ করতে হয়, তাহলে বিদ্যুতের মত ক্ষমতা সম্পন্ন যানের পিঠে ছড়ে রওয়ানা হলে কিছুটা সম্ভব হতে পারে।


Discussion about this post