স্বপ্নের দেশ আমেরিকা আর জার্মানি যাবার জন্যে আমাদের দেশের শিক্ষিত যুবকদের কত কি প্রচেষ্টা কিন্তু তারা কি জানে উক্ত দুই দেশ আমাদের জন্যে কতবড় বিপদ রেখে গেছে। তার একটা হল ‘আমেরিকান তেলাপোকা’ অন্যটি ‘জার্মান তেলাপোকা’। এই দুটি পতঙ্গ বাঙ্গালীকে শত শত বছর ধরে জ্বালাচ্ছে, আশা করি ইনশায়াল্লাহ আরো হাজার বছর ধরে জালাতে থাকবে।
পৃথিবীতে ৪৬০০ প্রজাতির তেলাপোকা আছে। তার মধ্যে ৪টি প্রজাতি ক্ষতিকর ও উপদ্রব সৃষ্টিকারী। আমেরিকান তেলাপোকা, জার্মান তেলাপোকা, প্রাচ্যের তেলাপোকা ও ব্রাউন-ব্যান্ডেড তেলাপোকা হিসেবে এগুলো পরিচিত। সৌভাগ্যের বিষয় যে সবগুলো তেলাপোকাই আমাদের দেশের জাতীয় পতঙ্গ ও মানুষকে
ব্যস্ত রাখার অন্যতম কারিগর হিসেবে বিবেচিত।
ভেবে দেখুন, আমেরিকা-জার্মানি বড় সড় ধনী দেশ গুলোকে অস্ত্র দিয়ে কাবু করে রাখছে। আ
র আমাদের মত গরীব দেশকে পতঙ্গ দিয়ে কাবু করছে! যে জাতীর যোগ্যতা দক্ষতা যেমন, তাকে কাবু করার মাধ্যমও তেমন!
তেলাপোকা দিনের বেলা নালা, নর্দমা, ফাটল, আবর্জনা, পায়খানার ট্যাংক কিংবা ঘরের আসবাব পত্রের নীচে, থালা-বাসন, ডেকচীর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। আর রাতে বের হয় খাদ্যের সন্ধানে। এরা সহজে মরে না! এমন কি কিছু তেলাপো
কার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পরও এগুলো জীবিত থাকে। এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাবার জন্যে কখনও তেলাপোকা উড়াল দেয়। তেলাপোকার না
কের পাশে আছে দুটি এন্টেনা। ওগুলো নাড়িয়ে, উঁচিয়ে, ঘুরিয়ে আশে পাশের ভবনের কোন তলায় বাসি, পচা, অব্যবহৃত খাদ্য পড়ে আছে সেগুলোর অবস্থান নির্ণয় করে।
এরা সকল খাদ্যে মুখ লাগায় ও তাদের থুথু মেশায়। কড়াইয়ের পুরানো তেল, রুটি, মাংস, চর্বি, চিনি, কাগজ, সাবান, মানুষের চুল, মৃতদেহ এবং মানুষের মলও এদের খাদ্য তালিকায় থাকে। তাই তেলাপোকাকে প্রকৃতির ধাঙ্গড় বলা হয়।
এরা সকল বাজে জায়গায় চলা ফেরা করে বলে, তাদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে রোগ-জীবাণু চড়ে বসে। তাদের শরীর সদা তৈলাক্ত-স্যাঁতসেঁতে বলে, জীবাণু সদা কিলবিল
করে জীবিত থাকার সুযোগ পায়। এদের মল, লালা এবং খোলস হাঁপানি ও অ্যালার্জির কারণ হয়। তেলাপোকা খাদ্যকে দূষিত করে যার কারণে টাইফয়েড, কলেরা, ফুড পয়জনিং এর মতো রোগ ছড়িয়ে পরে।
তাহলে চলুন জানি, কেন আমেরিকা জার্মানি আমাদের উপর এমন শত্রুতা রেখে গেল?
মূলত তেলাপোকা কাঠের তৈরি জাহাজের মাধ্যমে প্রথমে আমেরিকা ও ইউরোপ পরবর্তীতে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়েছিল। যদিও আমাদের অঞ্চলেও তেলাপোকার অন্য প্রজাতির আবাস ছিল কিন্তু ক্ষতিকর পোকাগুলো আসার ভিন্ন ইতিহাস গবেষণার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে

আমেরিকান তেলাপোকার আদি বাস আফ্রিকাতে। দাস বাণিজ্য ও ট্রান্স আটলান্টিক বাণিজ্য তথা আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকার দাস ও বাণিজ্য জাহাজের বদনামীর সাথে, তেলাপোকার এই প্রজাতিকে আমেরিকান তেলাপোকা বলে।

জার্মান তেলাপোকার আদিবাস বার্মার আশে পাশের অঞ্চলে। এটা মানুষের আসবাবের সাথে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়ায়। পর্তুগীজ বণিকেরা যখন বাংলাদেশে আসা যাওয়া শুরু করে (১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে) তাদের সামুদ্রিক পণ্যে সাথে করে জার্মান তেলাপোকাও ইউরোপ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকা ও জার্মান পরস্পর শত্রু দেশ। সেহেতু একটা যদি হয় আমেরিকান তেলাপোকা তাহলে অন্যটি জার্মান হওয়াই মানানসই। সেই হিসেবে ওটা জার্মান তেলাপোকা!
চীনের কিছু অঞ্চলের মানুষের খাদ্য তেলাপোকা। ওরা তেলাপোকা দিয়ে ঔষধ তৈরি করে। তেলাপোকায় আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন ও পুষ্টি। এটা পালন করা সহজ এবং দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটায়। তাই চীন সরকার তেলাপোকাকে ভবিষ্যতের একটি টেকসই খাদ্য উৎস (sustainable food source) হিসেবে মূল্যায়ন করে।
ও হ্যাঁ! চীনের ওসব তেলাপোকা আমাদের এই মল-মূত্র খাওয়া তেলাপোকা নয় আবার আলাদাও নয়। আমেরিকান ও জার্মানি তেলাপোকাকে নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আবদ্ধ করে, তাদের জন্যে যুতসই বাসস্থান ও খাদ্য পরিবেশনের মাধ্যমে বড় করা হয় এবং সেগুলোকেই মজাদার ফ্রাইয়ের মাধ্যমে উপভোগ করা হয়। এই খাদ্য পৃথিবীর সকল দেশে চালু নেই। সৌভাগ্যক্রমে যারা চীনে যায়, তারা হোটেল-রেস্তোরার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তেলাপোকার মাংসের মুড়মুড়ে স্বাদ গ্রহণ করতে পারে।


Discussion about this post