তিব্বতের একটি অঞ্চলের মানুষেরা মৃতদেহকে আকাশে দাফন করে থাকে। এই পদ্ধতির নাম আকাশ সমাধি। আকাশে দাফন করার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াটি কিছুটা অদ্ভুত, দৃশ্যত ভয়ঙ্কর। Sky Burial আকাশ সমাধি
মৃত ব্যক্তির ছেলে, ভাই কিংবা নিকটাত্মীয়দের কেউ, মৃত দেহটি কাপড়ে মুড়ে, পিটের উপরে তুলে খুবই উঁচু একটি নির্দিষ্ট পাহাড়ে উঠেন।
প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতার এই পাহাড়ের উপরে ক্ষুধার্ত শকুন খাদ্যের অপেক্ষায় বসে থাকে। লাশটিকে শকুনের সামনে নামিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে খাইয়ে দেবার নামই মূলত আকাশ সমাধি।
অনেক নিকটাত্মীয়রা এভাবে আপনজনের লাশ কেটে ক্ষুধার্ত শকুনকে খাইয়ে দিতে পারে না। সেজন্য সেখানে রয়েছে আকাশ সমাধি সহযোগী। তারাই আত্মীয়ের উপস্থিতিতে যত্নের সহিত লাশ কেটে খাইয়ে দেয়।
শকুন শুধু নর মাংসই খায়, হাড় খায়না। অতঃপর মানব হাড়গুলোকে একত্রিত করে, মাস্তুল দিয়ে পিটিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরায় বিভক্ত করা হয়। অতঃপর বার্লি ও ময়দার কাইয়ের মণ্ডা পাকিয়ে কাক, বাজপাখি কিংবা সে ধরণের আগ্রহী পাখিদের খাইয়ে আকাশ সমাধি কার্যক্রম শেষ করে।
শুনতে বর্বরতা মনে হলেও, বৌদ্ধ ধর্মের এই অংশের মানুষেরা মৃত মানুষকে স্বর্গে পাঠানোর এটাই একমাত্র পন্থা মনে করেন। তাদের বিশ্বাস
“নরমাংসে শকুন যত-বেশী পরিচ্ছন্নতার খোঁচা মারে, মৃত মানুষ তত-বেশী পাপ-মুক্ত হয়।”
তারা বিশ্বাস করে মৃত দেহ একটি ফাঁপা পিঞ্জর মাত্র। এই পাপ দেহ দিয়ে সর্বশেষ সৎকর্মের মাধ্যমে আত্মাকে মুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, আমরা কখনও একটি তাজ্জব হবার মত ঘটনা দেখে থাকি। বহু বছরের পুরানো লাশ অবিকৃত অবস্থায় কবর থেকে বের হয়েছে। মানুষেরা ভেবে থাকেন, এটা কোন মহান মানুষের লাশ হবে বোধহয়। তারপরও যথাযোগ্য সম্মানের সহিত লাশটি আবারো দাফন করা হয়।
তিব্বতের যে স্থানে আকাশ সমাধি করা হয়, সেখানকার জলবায়ু একটু ব্যতিক্রম। সর্বদা ঠাণ্ডা পরিবেশ থাকে এবং সময়ে বরফ পড়ে। এখানকার মাটি পাথুরে প্রকৃতির। ফলে পাথর কেটে কবর বানানোটা খুবই দুঃসাধ্য।
তাছাড়া কবর খনন করে যদিওবা লাশ দাফন করা হয়, তাহলে সে লাশ আর পচেনা। বহু বছর পরে হুবহু সেই লাশটি অবিকৃত অবস্থায় উঠে আসে। এভাবে যত্রতত্র লাশ মানুষের সমস্যা বাধায়।
এখানে লাশ সৎকারে সমস্যা হয়। আগুনে জ্বালাতে গেলেও বিপত্তি কম নয়। ঠাণ্ডা পরিবেশে লাশ দাহ করতে অনেক সময় লাগে। তাছাড়া সে পরিমাণ কাঠও পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই মনে করে থাকেন যে, এই সমস্যা সমাধানে মূলত লাশ খাইয়ে দেওয়াই হল উত্তম ও বাস্তবসম্মত পন্থা।
ফলে বহু বছর ধরে এভাবেই চলছে এবং নানা ধরনের রীতিনীতি যোগ হয়ে একটি ধর্মীয় একটি প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কেননা মানুষ ধর্মীয় অনুশাসন নিষ্ঠার সহিত প্রতি পদে পদে অনুসরণ করে।