ধর্মে আস্থাহীন অনেকে মনে করেন যে, শয়তান থেকে বাঁচতে আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তোয়ানির রাজীম পড়তে হবে কেন? আল্লাহ মানুষকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে, কদাচিৎ শয়তানের কু-মন্ত্রণা রুখে দিতে কি অক্ষম? ব্যাপার খানা তাই নয়, এটা বুঝার ভুল। আগের পোষ্টে উল্লেখ করেছিলাম যে, পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের পিছনে একজন করে শয়তান নিযুক্ত থাকে। এটা ইবলিশ নিজ দায়িত্বে করে থাকে। সেভাবে নবী-রাসুলদের (সা) সাথেও শয়তান নিযুক্ত থাকে। নবীদের কাছাকাছি থাকার পরও এসব শয়তান আল্লার উপর ঈমান আনতে ব্যর্থ হয়! একমাত্র মোহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে থাকা শয়তান ইমান এনেছিল! অন্য কোন নবীদের সাথে থাকা শয়তান ইমান আনে নাই! (এ বিষয়ে আলাদা একটি পোষ্ট আসবে ইনশায়াল্লাহ) এই উদাহরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি একজন সাধারণ মানুষের যোগ্যতা-দক্ষতা ততটুকু নাই, যা দিয়ে শয়তানকে কাবু করতে পারে।
যেহেতু মানবিক যোগ্যতায় শয়তানকে কাবু করা সম্ভব নয়। সে দৃশ্যমান নয় এবং পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী তার চালবাজি বুঝে ফেলা সহজও নয়। সেহেতু বড় কোন মহা-শক্তির সাহায্য ব্যতীত নিজেকে রক্ষা করাও সম্ভব নয়। তাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের লক্ষ্য করে বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে চাও, তারা আমার নিকট আশ্রয় চাও। আমি তোমাদের রক্ষা করব। বস্তুত, আউজুবিল্লাহ দিয়ে, আল্লাহ মানুষের ইচ্ছা শক্তির পরীক্ষা নিতে চায়। যে ইচ্ছে করে তাঁর আশ্রয় চায়, সে নিরাপত্তা পাবেই। যে চায়না, সে সর্বদা শয়তানের শিকারে থাকবে।
শয়তানের দুষ্কর্ম থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আল্লাহ অগণিত ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন। যে মুমিন ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তোয়ানির রাজিম’ পড়ে আল্লাহর নিকট আন্তরিক সাহায্য চায়; আল্লাহর নির্দেশে সেসব ফেরেশতারা তাঁকে রক্ষার্থে সাথে সাথেই ভূমিকা রাখে। আল্লাহর করুণায় অনেক অঘটন থেকে মুমিন বেঁচে যায়, ঈমান রক্ষা হয়। আশ্রয় চাওয়ার পরও কোন ঘটনায় মুমিন ফেঁসে গেলে; সেটার নাম হয় পরীক্ষা আর যদি মৃত্যু হয়; তার নাম তকদির।
এতে দৃশ্যত মানুষের ক্ষতি হলেও তিনি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার কারণে তাঁর কাজ ও চিন্তা গুলো খাঁটি আমল হয়ে সংরক্ষিত হয়ে যাবে। এই আমল হাশরের ময়দানে তার পক্ষে দলীল হবে। আল্লাহর দেখিয়ে দেওয়া পদ্ধতির বাইরে আমল করলে, দৃশ্যত সেটা যতই ভাল হউক, দলীল হিসেবে কাজে আসবে না। এটিই মানব জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধারনা। মানুষ কত বিশাল ভাল কাজ করতে পারল, তার চেয়েও আল্লাহ দেখতে চান আন্তরিকতার সাথে তাঁকে কে কত বেশী ভাল বাসতে পারল! এ থেকে বুঝা যায়, মানুষের উত্তম ফলাফলের জন্য তার ভাগ্য দায়ী নয়; বরং দায়ী, তার ইচ্ছা শক্তি ও মন। আর অগ্রিম ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে কাজের পরিকল্পনা করাকেই বলে ‘নিয়ত’।
তাই আসুন, সর্বদা শয়তান থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর আশ্রয় চাই, তারই নিরাপত্তায় থাকি। প্রতিনিয়ত ইতিবাচক ও সুন্দর নিয়ত করি। সুন্দর নিয়তে মানুষের মন পরিচ্ছন্ন, কোমল ও সতেজ থাকে। উৎফুল্ল হৃদয়, বড় মনের আত্মা হয়। তাদের কোন শত্রু থাকেনা, শত্রুও একদা তার বন্ধুতে পরিণত হয়! পরকালের মহা-সাফল্যের ঘোষণা তো তার জন্য আছেই!

Discussion about this post