পাখিটি খুবই সুন্দর, চড়ুই পাখির আকৃতির, তার ঠোটের দিকে লক্ষ্য করুন। বিরাট বৈসাদৃশ্য দেখতে পাবেন। নীচের ঠোট ক্রস মেরে উপরের দিকে উঠে, গেছে আবার উপরের ঠোট একই ভাবে ক্রস হয়ে নীচে নেমে গেছে। দেখতে ব্যাপারটি সাধারণ কিন্তু এখানে আল্লাহর সৃষ্টির বিরল নিপুণতা এর বিরাট কারিগরি ক্ষমতা কার্যকর রয়েছে।
কেউ যদি এই পাখিটিকে প্রথম দেখে তাহলে সে বুঝতে সক্ষম হবে না যে, এই পাখিটি কি খায় কিংবা কিভাবে খায়? কেননা এই ধরনের ঠোট দিয়ে সে, চড়ুই পাখির মত ধান খেতে পারবে না। টিয়ার মত শস্যদানা ভাঙ্গতে পারবে না। হামিং বার্ড এর মত মধু চাখতে পারবে না। হাসের মত কেঁচো তুলতে পারবে না কিংবা দোয়েল-চন্দনার মত ঘাস পাতা উল্টিয়ে খাদ্য সন্ধান করতে পারবে না!
আরো পড়তে পারেন…
- ছবির ভিতরে কি ভুল
- চোতরা পাতার ফাতরামি
- অধিক ঘনিষ্ঠতায় সম্পর্ক নষ্ট
তবে প্রকৃতিতে এই পাখির একটি অবদান নিশ্চয়ই আছে। কেননা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “যিনি সৃষ্টি করেই তাকে সু-সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন” আলা-২। এই কথার অর্থ দাঁড়ায় মানুষের দৃষ্টিতে তার ঠোটের বৈসাদৃশ্য তথা বাঁকা হলেও, তার একটি নিপুণ কার্যকারিতা রয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টির বিরল নিপুণতা
মূলত আল্লাহ এই পাখিটিকে সৃষ্টি করেছেন, একটি গাছের কল্যাণে। এই পাখি সেই গাছের ফল খেয়ে জীবন ধারণ করে। আবার সেই পাখি, এই গাছের বীজ গুলোকে দূর দূরান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়। এতে করে গাছের বংশবৃদ্ধি তড়িৎ হয়। এরা উভয়ে একে অপরের উপর নির্ভরশীল!
সুন্দর এই পাখিটির নাম ক্রসবিল ‘Crossbill’. ঠোটের দিকে লক্ষ্য করেই তার নাম হয়েছে। পুরুষ পাখির বর্ণ ভিন্ন। তাদের ঠোঁটে ‘প্লাস’ টুল তথা ‘Plier’ এর মত প্রবল ক্ষমতা রয়েছে। আবদ্ধ শক্ত বিচির খোলসে কোনমতে ঠোটের মাথা ঢুকাতে পারলেই চলে। চোয়ালকে এমন ভাবে ঘুরাবে যাতে করে ঠোট দুটো প্লাসের মত কাজ করে। বিচি তার শক্ত খোলস খুলতে বাধ্য হয়।
পবিত্র কোরআনে প্রাণীদের সৃষ্টি-নৈপুণ্য একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। এসব কথা তাফসির হচ্ছে, আজো তাফসীরের ব্যাখ্যা বাড়ছেই। এই পাখির খাদ্য নিয়ে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের তথ্য-নির্ভর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
“মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে বিদারিত করি এবং তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙ্গুর, শাক-সবজি, জয়তুন, খেজুর, বহুবৃক্ষ সদৃশ উদ্যান, ফল এবং গবাদির খাদ্য, এটা তোমাদের এবং তোমাদের পশুগুলোর জীবন ধারণের নিমিত্তে। (আবাসা: ২৪-৩২)।
“মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক” দৃশ্যত কথাটি খুবই ছোট কিন্তু ব্যাখ্যা করতে গেলে বালামের পর বালাম সৃষ্টি হবে। এই পাখির খাদ্য প্রণালীর দিকে তাকালেই কোরআনের এই আয়াতের বিরাট অন্তর্নিহিত অর্থ বেরিয়ে আসবে। আল্লাহর সৃষ্টির বিরল নিপুণতা
পাইন গাছ! পাশ্চাত্যে কিংবা শীতপ্রধান দেশে বিস্তর জন্মে। তার বীজটি ওজনে হালকা কিন্তু মজবুত। কারো পক্ষে হাতের আঙ্গুল দিয়ে সতেজ ফলের হালকা-পাতলা ঢাকনা খোলা সম্ভব নয়। হাতে ধারালো ছুরি থাকলেও কাজটি বিপদজনক! বিচির গঠন বৈশিষ্ট্যই এমন। তার ভিতরে লুকিয়ে থাকে পাতলা দানা। সেটাই ক্রসবিল পাখির খাদ্য।
এসব বিচি পেকে যাবার পরও দীর্ঘদিন গাছে লটকে থাকে। আবার এক বছর মাটিতে পড়ে থাকলেও নষ্ট হয় না। তাই বিনা মৌসুমেও ক্রসবিল দুর্ভিক্ষে পড়েনা। বেশী পুরানো হলে বীজ নিজের আরবণ খুলে দেয়। ফলে ভিতরে বাতাস ও পানি ঢুকে মাটিতে পরিণত হয়।
আল্লাহ তার ঠোটটিকে সেই পাইন গাছের বিচি খাওয়ার মত যুতসই, কার্যকর কারিগরি পন্থায় বানিয়ে দিয়েছে। এবং তার মগজে এমন জ্ঞান ঢুকিয়ে দিয়েছে, যাতে করে সে বুঝতে পারে সেই শক্ত খোলসের ভিতরেই রয়েছে তার আহার। ফলে উভয়ের জন্মও একই পরিবেশে হয়েছে।
বর্তমান কালে আমরা না বুঝে, চিন্তা না করে নিতান্ত শখের বসে, ভিন দেশের গাছ, ঘাস, প্রাণী নিয়ে আসি এবং নিজের দেশে উৎপাদন করি। ইউক্যালিপটাস গাছের ন্যায় কখনও এই কাজ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়। আল্লাহ নিজেই পৃথিবীর পরিবেশকে সৃজন করেছেন এবং সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণীও সৃষ্টি করেছেন। এর মাধ্যমে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল হবে আবার পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা হবে। এটাও আল্লাহ প্রদত্ত একটা নিদর্শন।


Discussion about this post