আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন, ‘কালো জিরা ‘সাম’ ছাড়া যাবতীয় রোগের ঔষধ’। ইবনু শিহাব বলেছেন, ‘সাম’ এর অর্থ হল মৃত্যু এবং কালো জিরাকে ‘শুনীয’ও বলা হয়। বুখারী-৫৬৮৮
খুবই সহজলভ্য বলে কালো জিরাকে অনেকে পছন্দের তালিকায় রাখেন না! অনেকে মনে করে ভাল জিনিষ কিন্তু হালকা তেতোর এই দানা খাই কিভাবে? না পারতে কেউ ভাজিতে, কেউ সবজিতে মিশিয়ে খায়। মাছ, গোশত কিংবা সু-সাধু আইটেমে ভুলেও কেউ কালো জিরা মেশায় না! ফলে মানবজীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই ভেষজ মানুষের অবহেলা এবং আকর্ষণের বাহিরেই থেকে যায়।
প্রাচীন কাল থেকেই কালো জিরার গুনের কথা মানুষের মুখে মুখে। সে জন্য ইউনানি-আয়ুর্বেদে শাস্ত্রে এটাকে ‘কালো জিরা না বলে কালো হিরা’ বলে থাকে। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগে কালো জিরার সুনাম-সুখ্যাতি চারিদিকে জয়জয়কার। হার্বাল তথা ভেষজ চিকিৎসায় এর কোন বিকল্প নাই। কি নাই এর ভেতরে? আর কোন কাজে আসেনা এটি? ফেসবুকের ছোট্ট দেওয়ালে উল্লেখ করতে গেলে পাঠক ত্যক্ত-বিরক্ত হবে।
পেটের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে, রুচি বাড়াতে, বায়ু নাশকে, আমাশয় নিরাময়ে, ফুসফুসের প্রদাহ, মাথার যন্ত্রণা, জণ্ডিস, সর্দি-কাশি, রোগ, মাথার চুল মজবুত, দাঁতের গোড়া মজবুত, চামড়ার সমস্যা নিবারণে, জরায়ুর গঠনে, মহিলাদের ঋতু সমস্যায়, পেটের কৃমি ধ্বংসে, প্রস্রাব পরিষ্কারে অগণিত সমস্যা সমাধানে কালো জিরা অনেক ভূমিকা রাখে।
তাই আসুন, নিজেদের স্বাস্থ্য অটুট ও সুঠাম রাখতে রীতিমত কালো জিরাকে আপন করে নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে উপকারী বস্তুকে আল্লাহ সকল মানুষের জন্য সহজলভ্য করেছেন। এটা তার বড় দান। তাই অবহেলায় স্বাস্থ্য বরবাদ করতে নেই। হাশরের ময়দানে নেয়ামতের শোকরিয়ার বেলায় প্রথমেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তোমার স্বাস্থ্যকে কোন কাজে ব্যয় করেছ।

Discussion about this post