এর নাম চুকাই এক ব্যতিক্রমী বাণিজ্যিক পণ্য। ইংরেজিতে এর নাম Roselle এবং আরবিতে ‘কারকাদে’। এর ফল ও পাতা উভয়ই স্বাদে টকস্বাদ যুক্ত, তাই এর পাতাকে স্থানীয় ভাবে টক শাক ও বলা হয়। এর প্রচুর স্থানীয় নাম আছে, লেখার কলেরব বৃদ্ধি হবার ভয়ে সেই তালিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকলাম।
পৃথিবীর বহু-দেশেই বাণিজ্যিক ভাবে চুকাইয়ের চাষ হয়। বাংলাদেশের সর্বত্র এটার জন্ম হয় কিন্তু বাণিজ্যিক ভাবে চুকাইয়ের চাষ হয় না। কারণ একটাই, কোন কিছুর উৎপাদন করলেই হয়না, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণ করে এসবকে মান সম্মত করে গড়ে তোলার ব্যর্থতা। কিংবা আমাদের দেশে অনাদরে গুরুত্বহীন ভাবে বেড়ে উঠা এসব জিনিষের আন্তর্জাতিক মান ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা না থাকা।
চুকাই ফলের টক স্বাদের সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা এটিকে বহু কাজের ব্যবহার করে। ইরান, জর্ডান, লেবানন ও মিশরীয়দের এটা অন্যতম খাদ্য। চিনি দিয়ে চুকাইয়ের এর ক্যান্ডি বানানো হয়। স্বাদের মাত্রা এমন হয় যে, অনেক খেলেও মুখের রুচি বিভ্রাট ঘটে না।
নিজেদের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করে এমন সব মানুষকে চুকাইয়ের লজেন্স খেয়ে দিনাতিপাত করতে দেখেছি। চুকাইয়ের হালুয়া, আচার, শরবতের ব্যবহার আরবের ঘরে ঘরে। বাণিজ্যিক ভাবে চুকাইয়ের চা, জ্যাম, জেলি, আচার শপিং মল গুলোতে পাওয়া যায়।
আরবিদের ডাইনিং হলে চুকাইয়ের লজেন্স সাজানো থাকে, যাতে করে কেউ ইচ্ছামত খেতে পারে। আমাদের দেশে চুকাইয়ের পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। অনেকটা টক বলে চুকাইয়ের শাক সরাসরি ব্যবহার হয়না। অন্য শাকের সাথে কয়েকটি পাতা মিলিয়ে দারুণ ডিস বানানো যায়।
ডালের বিপরীতে চুকাই কাঁজি খুবই সুস্বাদু ও রূচিদায়ক। ছোট মাছের ঝোলের সাথে এর পাতার জুড়ি নেই। চুকাইয়ের সাথে কাচা মরিচ আর রসুন যোগে শুটকি রান্না করে খাবার ভিন্ন এক পদ্ধতি মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের ঘরে ঘরে সমাদৃত।
মিশরীয়দের কাছে চুকাই তথা “কারকাদের” শরবতের ডিমান্ড অনেক বেশী। কারকাদ তথা চুকাই শরবত দিয়ে ওরা মেহমান দারী করে। শরীরের ভিতরের উষ্ণতা অতি সহসা নিয়ন্ত্রণে আনে। আমি নিজেও বহুবার এই কারকাদ নামক চুকাই শরবত পান করেছি। দারুণ টেস্ট। হ্যাঁ! চুকাই শরবত বানানোর নিদ্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। গরম পানিতে সিদ্ধ করে অতঃপর ঠাণ্ডা করে শরবত বানালে এক ধরণের উপকার আর সরাসরি ঠাণ্ডা পানিতে বার ঘণ্টা ভিজিয়ে শরবত বানালে অন্য ধরনের উপকার।
মিশরীয়দের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি, গরম পানিতে সিদ্ধ করা “কারকাদের” শরবতে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়। আবার ঠাণ্ডা পানির শরবতে শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। সুতরাং একই জিনিষের দুটো ভিন্ন চরিত্র আছে। এটা তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলছি, আমার নিজের কথা নয়।
চুকাইয়ের বিচি বার ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেটার সাথে চিনি মিশিয়ে পান করতে হয়। বার ঘণ্টা পরে কারকাদ নামক চুকাই ব্যবহার করা হলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় না। এভাবে আরো চার-পাঁচ দিন একই জিনিষকে বারবার ব্যবহার করা যায়।





Discussion about this post