নামে চিন্তে কষ্ট হলেও, জায়ফল অনেকেই দেখে থাকবে। দম বিরানি, আন্নি বিরানি কিংবা পোলাওয়ের মসল্লার অন্যতম উপকরণ হল জায়ফল।
অনেক মিষ্টান্ন দ্রব্যেও জায়ফল ব্যবহার করে থাকে। প্রাচীন গ্রীস ও রোমে জায়ফলকে বহুবিধ চিকিৎসা কাজে ব্যবহার করত।
ইউনানি চিকিৎসা বিজ্ঞান তথা গ্রীক চিকিৎসা শাস্ত্রে জায়ফলের ব্যবহার বহুবিধ। অসম্ভব ঔষধি গুন সম্পন্ন এই ভেষজ উদ্ভিদের বেশীর ভাগই জন্মে ইন্দোনেশিয়া আর গুয়েতেমালায়। মধ্য যুগে ইউরোপের বাজারে জায়ফলের কদর ছিল আকাশ চুম্বী।
ভারতীয় উপমহাদেশ হয়ে, জায়ফল সড়ক পথে তুর্কি পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছত। মাঝপথে অটোম্যানেরা রাস্তা বন্ধ করে দিলে, ইউরোপের মসল্লার জন্য হাহাকার দেখা দেয়।
পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান বণিকেরা ভারত মহাসাগরে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ভাষ্কো দা গামা থেকে শুরু করে যত সামুদ্রিক দস্যু ভারতে হানা দেয়, তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল মসল্লা সংগ্রহ করা।
তখনকার সময়ে এক থলে জায়ফল নিয়ে ইউরোপে পৌছতে পারলে, তার বিক্রিত টাকায় সারা জীবন বসে খাওয়া যেত।
একটি ইতালীয় প্রবাদে আছে, “একটি জায়ফল তোমার উপকারে আসবে, দুটো জায়ফল তোমার ক্ষতি করবে, আর তিনটে জায়ফল তোমায় মেরে ফেলবে”। অর্থাৎ পরিমাণের বেশী জায়ফল খেলে মানুষের মৃত্যুর কারণ ঘটতে পারে।
জায়ফলের বহিরাবরণ একটু শক্ত প্রকৃতির। ঝাঁঝালো ঘ্রাণ যুক্ত। অনেকেই জানেনা যে, জায়ফলের কোন অংশটি কি কাজে লাগে। তাই দেখতে ক্ষুদ্রকায় নারিকেলের মত পুরো জায়ফলটিই তরকারীতে দিয়ে দেয়!
মূলত নারিকেলের মত শক্ত খোলসের অভ্যন্তরেই লুকিয়ে থাকে জায়ফলের মুল শাঁস। এটিই মূলত মসল্লা হিসেবে খাওয়া হয়। দেখতে সুপারির মত, তবে মুড়মুড়ে কাঠের ন্যায়।




Discussion about this post