ইতিপূর্বে জায়ফল নিয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম। মূলত পৃথিবীতে যত মসল্লা আছে তার মধ্যে জায়ফলেরই রয়েছে এক ভিন্ন পরিচিতি। কেননা এই একটি মাত্র ভেষজ উদ্ভিদ থেকে দুটো মহামূল্যবান মসল্লার জন্ম হয় এবং দুটো মসল্লাই সারা বিশ্বে খুবই সমাদৃত। ভারতীয় উপমহাদেশে জয়ত্রিকের ব্যবহার বহুবিধ। ঔষধ ও রন্ধন শিল্পে জয়ত্রিকের ব্যবহার অপ্রতিরোধ্য। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মাংস সিদ্ধ করাতে ও পেটের বায়ু নাশে জয়ত্রিকের কোন তুলনা নেই। জয়ত্রিক পোলাও বিরিয়ানির জন্য সর্বাধিক মসল্লার নাম। মূলত জয়ত্রিক তেমন কিছু নয়, এটাও জায়ফলের বহিরাবরণ থেকেই সৃষ্ট আরেকটি ভিন্ন মসল্লা। ইংরেজিতে এটাকে Mace হিসেবে পরিচয় করানো হয়। জায়ফল বিচি দেখতে নারকেলের মত ঢাকনা সদৃশ। পাকা জায়ফল বিচির চারিদিকে উজ্জ্বল লাল বর্ণের একটি আস্তরণ থাকে। সেটা আলাদা করে শুকানোর পর যে অংশ বের হয়, সেটাই জয়ত্রিক। এটা দেখতে সুন্দর, খুবই ঘ্রাণ-যুক্ত। গাছপালা সবই আল্লাহর নেয়ামতের অংশ কিন্তু যে কেউ একজন জয়ত্রিকের ঘ্রাণ নিলে বুঝতে পারবে, জগতের জন্য এই গাছ আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্যতম নেয়ামত। জয়ত্রিক খেলে তো পেটের বাতাস কমেই এমনকি এটার গন্ধ নাকে নিলেও অনেক উপকার হয়। জয়ত্রিকের গাছ সম্পর্কে জানতে চাইলে, ইতি-পূর্বেকার জায়ফল বিষয়ক পোষ্টটি দেখে নেবার অনুরোধ থাকল।
জয়ত্রিকের বহুবিধ ব্যবহারের কয়েকটি তুলে আনা হল,
– জয়ত্রিক খাদ্য হজমে দারুণ সহযোগিতা করে।
– কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
– বমি ভাব দূর ও ডায়রিয়ায় উপকারী।
– এটা খাবারে রূচিবোধ সৃষ্টি করে এবং ক্ষুধা-ভাব সৃষ্টি করে।
– রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ও রক্তকে পাতলা করতে সহায়তা করে।
– দাতে গঠন মজবুত ও মুখের দুর্গন্ধ বন্ধ করে।
– এটার এত ঔষধি গুনের কারণে বহু দেশে এটাকে ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করত।


Discussion about this post