কোন মানুষই এই পৃথিবীতে নিজের আগ্রহ-ইচ্ছায় আসেনি। দুনিয়াতে কেউ আসতে চায় কিনা এ ব্যাপারে কারো ইচ্ছা, আগ্রহ-আপত্তি যাচাই-বাছাইও করা হয়নি। শিশুকালের শুরুতে দুনিয়ায় রঙ্গ-ঢং দেখে সবাই হাসতে থাকে, এই নির্মল হাসি দ্বারা মানুষ স্বীকৃতি দেয় যে, দুনিয়াতে আসতে পেরে সে খুশীই, তাই তার এত হাসি! পরবর্তী কথা হল, দুনিয়াতে আসতে পারার জন্য কেউ দরখাস্ত করার সুযোগ পায়নি। এমন সুযোগ রাখাও হয়নি যে, তাদের কারো কাছে প্রশ্ন পত্রের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, তোমাকে দুনিয়াতে পাঠাবার চিন্তা ভাবনা চলছে! তোমার কি অভিমত? কিংবা কি তোমার চাহিদা? এ কথাটির সত্যতা আল্লাহ কোরআনের এভাবে তুলে ধরেছেন, “নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজন-কালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজন-কালেও না” (সুরা কাহাফ-৫১)। মোদ্দা কথা এই যে, কারো একজনের একক চিন্তার ফলে আমরা সবাই দুনিয়াতে এসে গেছি। এখানে আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন সুযোগ ছিলনা। এটার নাম তকদির। যিনি আমাদের এভাবে পাঠালেন তিনিই্ হলেন আল্লাহ। বস্তুতই যে কোন কিছু সৃষ্টি করতে হলে কারো একক ভূমিকাই থাকতে হয়। নতুবা কখনো সৃষ্টির পরিপূর্ণতা পায়না।
যেহেতু আমাদের কোন ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা দুনিয়াতে আসার পথে বিবেচনায় আনা হয়নি। মানুষ যত বছর পৃথিবীতে বেচে থাকে, জীবনের এই বেচে থাকার ফাকেও মানুষের ইচ্ছা গুরুত্ব পায়না। কে কিভাবে মারা যাবে, কোথায় কখন মরতে তার ইচ্ছা এসব প্রশ্ন তাকে করা হয়না। সে যতই জ্ঞানী ও সুচতুর হউক না কেন, দুনিয়া ত্যাগের ইচ্ছা-স্বদিচ্ছায় তাকে কোন নিরাপদে রাখেনা। এটা স্রষ্টা তথা আল্লাহর হাতেই সীমাবদ্ধ। তিনি নিজের ইচ্ছায় যেভাবে মানুষকে দুনিয়াতে এনেছেন, একই ইচ্ছায় তিনি তাদের আবার নিয়ে যাবেন। মানুষ কেবল আল্লাহর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে, তার দেখিয়ে দেওয়া পথে, বলে দেওয়া কথার মত চলতে পারে। মানুষের মানা, না-মানার মধ্যে তকদিরের সেই সিস্টেমে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের সুযোগ নেই। মানুষ শুধু এতটুক করতে পারে মাত্র, “হয় সন্তুষ্ট চিত্তে সবই মেনে নিলাম অথবা অসন্তুষ্ট চিত্তে মানতে বাধ্য হলাম”। এভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে মাত্র। দুনিয়ার জীবনের ভাবের এই প্রকাশই মানুষকে হয় জান্নাতে নিবে নতুবা জাহান্নামে।
যুক্তির খাতিরে একটা কথা। স্রষ্টা মানুষের কাছে প্রশ্ন করে সৃষ্টির কাজে হাত দিলে তাতে সমস্যা হতো। অনেক মানুষ ফেরাউনের যুগে আসতে চাইত, কেউ চাইত শাহজাহানের যুগে আসতে। তবে চলমান দুনিয়ার এই যুগে কেউ আসতে চাইত কিনা সেটা নিয়ে ভাবনার কথা আছে! অধিকন্তু মানুষের ইচ্ছা যাচাই করে দুনিয়ায় পাঠানো হলেও, সে দুনিয়াতে এসে বিতর্ক করত, তাকে আমেরিকায় না পাঠিয়ে, কেন বাংলায় পাঠানো হল। বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হতো, কে কোন ধনী ব্যক্তির ঔরসে জন্ম নিলে কেমন সুখী হত, কোন জমানায় জন্ম হলে জগতের কি উপকার হত। দেখুন, কোন অনুমতি ব্যতীরেকে দাড়ি-কেশ মানুষের মুখমণ্ডলে গজায়। দাড়ি যদি অনুমতির জন্য অপেক্ষা করত, তাহলে মানুষের মুখে আর সে জন্ম নেবার সুযোগ পেত না।
তকদিরের কোন বিষয়ই প্রকাশ যোগ্য নয়। মানুষ যদি জানে তাহলে সে আর দুনিয়াদারী করতে পারবে না। আমাদের স্রষ্টা আল্লাহ। তিনি আমাদের নিজ ইচ্ছায় জন্ম দিয়েছেন। আমাদেরকে পৃথিবীতে এনে ভাগ্যবান করেছেন। মানুষের ঘরে জন্ম দিয়েছেন, চোখের আলো দিয়েছেন, জ্ঞান দিয়েছেন, চলার সুযোগ দিয়েছেন, বলার ক্ষমতা দিয়েছেন, দেখার ভাগ্য দিয়েছেন। জীবন-মৃত্যুর দোলাচল, দুনিয়ায় আগমন ও প্রস্থানের জন্য তিনি একটি নির্দ্দিষ্ঠ সময় নিরূপণ করে রেখেছেন। এটার সমুদয় ব্যাখ্যা কিংবা মৃত্যুর সঠিক সময় ও ধরণ জানিয়ে দিলে মানুষ সেই সময়টি এগিয়ে আসার ভয়ে সদা পেরেশানিতে থাকত। এটাই তার দুঃচিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে উঠত। ফলে মানুষ কখনও দুনিয়ায় হাসতে পারত না, খেতে পারত না, বংশবৃদ্ধির জন্য উৎফুল্লতা ও দুনিয়ার সুখা-নন্দ উপভোগ করতে পারত না।এটার নাম তকদির।
তকদিরের পিছনে আল্লাহ তার বান্দার কাছে একটা জিনিষ প্রত্যাশা করে। সেটা হল, মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে। মানুষের পক্ষে কখনও আল্লাহর কাজের মূল্য দেওয়া সম্ভব নয়। বিনিময় দেওয়া তো দূরহ, উপযুক্ত বদান্যতা দেখানো আরো কঠিন। মানুষ কোনদিন ফুসফুসের এয়ার ফিল্টারের দায় পরিশোধ করতে পারে না। রক্ত-পানি পরিশোধনের জন্য কিডনির উপকারিতা বিনিময় দিতে পারেনা। এভাবে সকল কিছুতেই অবদান শুধু আল্লাহর। তিনি এসব মানুষকে ব্যবহারের জন্য মুফত দিয়েছেন। বিনিময়ে মানুষ আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। আল্লাহর উপর নিশ্চিন্ত ভরসা ও নির্ভরতা রাখাই হল আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। উদাহরণ হিসেব দেখা যায়, একজন পুণ্যবান মানুষ, ঘর থেকে বের হবার সময় বলে “বিসমিল্লাহির তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” অর্থ : আল্লাহর নামে বেরুলোম, তার উপরই ওপরই নির্ভর করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছু থেকে বিরত থাকা ও কল্যাণ লাভ করার শক্তি কারো নেই। এই দোয়া পড়ে ঘর থেকে বেরুলে তিনি যে আজকেই মরে যাবেন ব্যাপারটি এমন নয় আবার তিনি সকল বিপদ-আপদ উৎরে ঘরে ফিরে আসতে পারবেন তাও নয় এবং এই দোয়াও গুরুত্বহীন হয়ে যায়না। মূলত এটার একটাই অন্ত-নিহিত মর্ম, তিনি আল্লাহকে এই ব্যাপারে ঘোষণা দিচ্ছেন যে, আমি আমাকে তোমায় জিম্মায় রেখে ঘর হতে বের হলাম। পথে অপ্রস্তুত অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত যা কিছুই ঘটুক না কেন, তা তোমার থেকেই আমার জন্য ধার্য ছিল। আমি তা মেনে নেব এবং তোমার খুশীতেই আমি সন্তুষ্ট থাকব। এ ধরনের একটি ঘোষণা এবং এ ধরনের একটি ব্যক্তিজীবন আল্লাহ মানুষের কাছে প্রত্যাশা করে। যে মানুষ এটা জেনে বুঝে দুনিয়ায় পদচারণ করে, তার কোন ভয় থাকেনা, তার কোন দুঃচিন্তা থাকেনা। মৃত্যুর সময় আসলে মানুষের মেনে নেওয়া আর না নেবার মধ্যে কোন ফরাক পড়েনা। তাই মেনে নেওয়াই হল সর্বোত্তম চিন্তা।
জীবনে চলার পথে, বিপদের মুখোমুখি হলে তকদিরের উপর নিজেকে সঁপিয়ে দিয়ে, হাত-পা গুটিয়ে বসে না থেকে আল্লাহর কাছে নির্ভরতা চাইতে হয়। আশু বিপদ দেখলে মানুষ বুঝতে পারে না, তার চূড়ান্ত পরিণতি কি হতে পারে। এই সংশয় সন্দেহে না থেকে তার সক্ষমতা অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হয় এবং এই বিপদ উদ্ধারে নিজের হাতেই মোকাবেলা করতে হয়। এখানেও আল্লাহ দেখতে চায় কে তাকে কেমন করে অনুভব করে? এটা আল্লাহর অবহেলা নয়! মানুষ ব্যতীত পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিও এভাবেই জীবন ধারণ করে। তাই পৃথিবীতে যত বিপদ আসুক, এটার মোকাবেলা করতে হয়, হাত দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে। এটার নাম নির্ভরতা তথা তাওয়াক্কুল। পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল দুনিয়াতে এসেছিলেন, সবাই বিপদের মুখে পড়েছিলেন। তাদের সাথে আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতার ঘোষণা থাকার পরও তাদের নিজেদের ইচ্ছা শক্তি ও দৈহিক চেষ্টায় সে সব উৎরে উঠতে পেরেছিলেন। তাই আসুন, আল্লাহকে স্মরণ করি, আমরা বিপদ মোকাবেলা করি এবং শেষ পর্যন্ত লড়তে থাকি। পরিণতি যাই হোক উভয়টাই সে সব মানুষের জন্য কল্যাণ, যারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে এবং তকদিরের ফয়সালাকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে।
যেহেতু আমাদের কোন ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষা দুনিয়াতে আসার পথে বিবেচনায় আনা হয়নি। মানুষ যত বছর পৃথিবীতে বেচে থাকে, জীবনের এই বেচে থাকার ফাকেও মানুষের ইচ্ছা গুরুত্ব পায়না। কে কিভাবে মারা যাবে, কোথায় কখন মরতে তার ইচ্ছা এসব প্রশ্ন তাকে করা হয়না। সে যতই জ্ঞানী ও সুচতুর হউক না কেন, দুনিয়া ত্যাগের ইচ্ছা-স্বদিচ্ছায় তাকে কোন নিরাপদে রাখেনা। এটা স্রষ্টা তথা আল্লাহর হাতেই সীমাবদ্ধ। তিনি নিজের ইচ্ছায় যেভাবে মানুষকে দুনিয়াতে এনেছেন, একই ইচ্ছায় তিনি তাদের আবার নিয়ে যাবেন। মানুষ কেবল আল্লাহর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে, তার দেখিয়ে দেওয়া পথে, বলে দেওয়া কথার মত চলতে পারে। মানুষের মানা, না-মানার মধ্যে তকদিরের সেই সিস্টেমে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের সুযোগ নেই। মানুষ শুধু এতটুক করতে পারে মাত্র, “হয় সন্তুষ্ট চিত্তে সবই মেনে নিলাম অথবা অসন্তুষ্ট চিত্তে মানতে বাধ্য হলাম”। এভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে মাত্র। দুনিয়ার জীবনের ভাবের এই প্রকাশই মানুষকে হয় জান্নাতে নিবে নতুবা জাহান্নামে।
যুক্তির খাতিরে একটা কথা। স্রষ্টা মানুষের কাছে প্রশ্ন করে সৃষ্টির কাজে হাত দিলে তাতে সমস্যা হতো। অনেক মানুষ ফেরাউনের যুগে আসতে চাইত, কেউ চাইত শাহজাহানের যুগে আসতে। তবে চলমান দুনিয়ার এই যুগে কেউ আসতে চাইত কিনা সেটা নিয়ে ভাবনার কথা আছে! অধিকন্তু মানুষের ইচ্ছা যাচাই করে দুনিয়ায় পাঠানো হলেও, সে দুনিয়াতে এসে বিতর্ক করত, তাকে আমেরিকায় না পাঠিয়ে, কেন বাংলায় পাঠানো হল। বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হতো, কে কোন ধনী ব্যক্তির ঔরসে জন্ম নিলে কেমন সুখী হত, কোন জমানায় জন্ম হলে জগতের কি উপকার হত। দেখুন, কোন অনুমতি ব্যতীরেকে দাড়ি-কেশ মানুষের মুখমণ্ডলে গজায়। দাড়ি যদি অনুমতির জন্য অপেক্ষা করত, তাহলে মানুষের মুখে আর সে জন্ম নেবার সুযোগ পেত না।
তকদিরের কোন বিষয়ই প্রকাশ যোগ্য নয়। মানুষ যদি জানে তাহলে সে আর দুনিয়াদারী করতে পারবে না। আমাদের স্রষ্টা আল্লাহ। তিনি আমাদের নিজ ইচ্ছায় জন্ম দিয়েছেন। আমাদেরকে পৃথিবীতে এনে ভাগ্যবান করেছেন। মানুষের ঘরে জন্ম দিয়েছেন, চোখের আলো দিয়েছেন, জ্ঞান দিয়েছেন, চলার সুযোগ দিয়েছেন, বলার ক্ষমতা দিয়েছেন, দেখার ভাগ্য দিয়েছেন। জীবন-মৃত্যুর দোলাচল, দুনিয়ায় আগমন ও প্রস্থানের জন্য তিনি একটি নির্দ্দিষ্ঠ সময় নিরূপণ করে রেখেছেন। এটার সমুদয় ব্যাখ্যা কিংবা মৃত্যুর সঠিক সময় ও ধরণ জানিয়ে দিলে মানুষ সেই সময়টি এগিয়ে আসার ভয়ে সদা পেরেশানিতে থাকত। এটাই তার দুঃচিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে উঠত। ফলে মানুষ কখনও দুনিয়ায় হাসতে পারত না, খেতে পারত না, বংশবৃদ্ধির জন্য উৎফুল্লতা ও দুনিয়ার সুখা-নন্দ উপভোগ করতে পারত না।এটার নাম তকদির।
তকদিরের পিছনে আল্লাহ তার বান্দার কাছে একটা জিনিষ প্রত্যাশা করে। সেটা হল, মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে। মানুষের পক্ষে কখনও আল্লাহর কাজের মূল্য দেওয়া সম্ভব নয়। বিনিময় দেওয়া তো দূরহ, উপযুক্ত বদান্যতা দেখানো আরো কঠিন। মানুষ কোনদিন ফুসফুসের এয়ার ফিল্টারের দায় পরিশোধ করতে পারে না। রক্ত-পানি পরিশোধনের জন্য কিডনির উপকারিতা বিনিময় দিতে পারেনা। এভাবে সকল কিছুতেই অবদান শুধু আল্লাহর। তিনি এসব মানুষকে ব্যবহারের জন্য মুফত দিয়েছেন। বিনিময়ে মানুষ আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। আল্লাহর উপর নিশ্চিন্ত ভরসা ও নির্ভরতা রাখাই হল আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। উদাহরণ হিসেব দেখা যায়, একজন পুণ্যবান মানুষ, ঘর থেকে বের হবার সময় বলে “বিসমিল্লাহির তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” অর্থ : আল্লাহর নামে বেরুলোম, তার উপরই ওপরই নির্ভর করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছু থেকে বিরত থাকা ও কল্যাণ লাভ করার শক্তি কারো নেই। এই দোয়া পড়ে ঘর থেকে বেরুলে তিনি যে আজকেই মরে যাবেন ব্যাপারটি এমন নয় আবার তিনি সকল বিপদ-আপদ উৎরে ঘরে ফিরে আসতে পারবেন তাও নয় এবং এই দোয়াও গুরুত্বহীন হয়ে যায়না। মূলত এটার একটাই অন্ত-নিহিত মর্ম, তিনি আল্লাহকে এই ব্যাপারে ঘোষণা দিচ্ছেন যে, আমি আমাকে তোমায় জিম্মায় রেখে ঘর হতে বের হলাম। পথে অপ্রস্তুত অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত যা কিছুই ঘটুক না কেন, তা তোমার থেকেই আমার জন্য ধার্য ছিল। আমি তা মেনে নেব এবং তোমার খুশীতেই আমি সন্তুষ্ট থাকব। এ ধরনের একটি ঘোষণা এবং এ ধরনের একটি ব্যক্তিজীবন আল্লাহ মানুষের কাছে প্রত্যাশা করে। যে মানুষ এটা জেনে বুঝে দুনিয়ায় পদচারণ করে, তার কোন ভয় থাকেনা, তার কোন দুঃচিন্তা থাকেনা। মৃত্যুর সময় আসলে মানুষের মেনে নেওয়া আর না নেবার মধ্যে কোন ফরাক পড়েনা। তাই মেনে নেওয়াই হল সর্বোত্তম চিন্তা।
জীবনে চলার পথে, বিপদের মুখোমুখি হলে তকদিরের উপর নিজেকে সঁপিয়ে দিয়ে, হাত-পা গুটিয়ে বসে না থেকে আল্লাহর কাছে নির্ভরতা চাইতে হয়। আশু বিপদ দেখলে মানুষ বুঝতে পারে না, তার চূড়ান্ত পরিণতি কি হতে পারে। এই সংশয় সন্দেহে না থেকে তার সক্ষমতা অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হয় এবং এই বিপদ উদ্ধারে নিজের হাতেই মোকাবেলা করতে হয়। এখানেও আল্লাহ দেখতে চায় কে তাকে কেমন করে অনুভব করে? এটা আল্লাহর অবহেলা নয়! মানুষ ব্যতীত পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টিও এভাবেই জীবন ধারণ করে। তাই পৃথিবীতে যত বিপদ আসুক, এটার মোকাবেলা করতে হয়, হাত দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে। এটার নাম নির্ভরতা তথা তাওয়াক্কুল। পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল দুনিয়াতে এসেছিলেন, সবাই বিপদের মুখে পড়েছিলেন। তাদের সাথে আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতার ঘোষণা থাকার পরও তাদের নিজেদের ইচ্ছা শক্তি ও দৈহিক চেষ্টায় সে সব উৎরে উঠতে পেরেছিলেন। তাই আসুন, আল্লাহকে স্মরণ করি, আমরা বিপদ মোকাবেলা করি এবং শেষ পর্যন্ত লড়তে থাকি। পরিণতি যাই হোক উভয়টাই সে সব মানুষের জন্য কল্যাণ, যারা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে এবং তকদিরের ফয়সালাকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে।


Discussion about this post