‘পীর’ শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে আগত। আরব দেশের মানুষ এই শব্দ কিংবা পদবীর সাথে পরিচিত নয়। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনার পীর কে? তারা তাজ্জব হয়ে উল্টো প্রশ্ন করবে, পীর আবার কি জিনিষ? পীর ও বীর সংক্রান্ত তাৎপর্য
আরবি ভাষায় পীর শব্দটিকে হুবহু উচ্চারণ করার সুযোগ নেই। কেননা আরবিতে পীর এর উচ্চারণ হবে ‘বীর’ হিসেবে। আরবিতে ‘পী’ উচ্চারণ নেই কিন্তু ফার্সিতে আছে।
আরবিরা ‘পী’ এর উচ্চারণ সদা ‘বী’ এর মত করে থাকে। তাই আরব দেশে ‘পুলিশ’ হয়ে যায় ‘বুলিশ’, ‘বুট-পালিশ’ হয়ে যায় ‘বুট-বালিশ’ আর ‘প্লাষ্টিক’ হয়ে উঠে ‘ব্লাষ্টিক’। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ‘পীর’ কেন ‘বীর’ হবে!
যাহোক ফার্সি ভাষায়, পীর শব্দের অর্থ বয়োবৃদ্ধ, জ্ঞানী, মুরুব্বী, বেশী জানা মানুষ ইত্যাদি। তাই তাবলীগ জামায়াতে এমন ব্যক্তিদেরকে ‘মুরুব্বী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
আরো পড়ুন…
- চাকুরীর সময়ে সালাতে ফাঁকি
- যেমন বক্তা তেমন শ্রোতা
একজন মুরুব্বী সাধারণের চেয়ে একটু বেশী জানেন বলেই, তার পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। পারস্যের সুফিবাদেও একই প্রথা প্রচলিত ছিল, তারা এমন ব্যক্তিদেরকে ‘পীর’ বলত।
মূলত সে ভাবেই পারস্যের সুফিবাদের পীর, আমাদের সমাজে গোড়াপত্তন করে। যা বর্তমানে সম্মানিত ইসলামী পরিভাষা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এদেশে পীর শব্দের এত প্রভাব যে, অনেক অনুসারীরা ভেবে থাকেন যে, কিছু পীর মক্কা-মদিনার সেরা আলেমের চেয়েও কামেল তথা পরিপক্ব। অনেকের পোশাকাদিতেও মোগল সম্রাটদের চেয়েও বেশী জৌলুস ভর করে।


Discussion about this post