– প্রজ্ঞা মানবজীবনের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন গুণাবলী।
– রাষ্ট্রনীতি ও গন-মানুষের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে একমাত্র প্রজ্ঞাবান মানুষেরা।
– সকল প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ পৃথিবীতে অমর; তাঁদের কথা প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়।
– পৃথিবীর সকল ধর্মবেত্তা-গন প্রজ্ঞাবান ছিলেন।
– আল্লাহ মুমিন-মুসলমানদেরকে কুরআনের পাতায় পাতায় প্রজ্ঞাবান হবার নসিহত করেছেন।
– প্রজ্ঞা থাকলে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিও নিজেকে সেরাদের সেরা আসনে তুল আনতে পারেন।
– প্রজ্ঞা জিনিষটা মূলত কি? এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা খুব কম মানুষের রয়েছে।
– সকল বিষয়ে রচনা থাকলেও প্রজ্ঞার পরিচিতির উপর লিখা খুবই অপ্রতুল।
– স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা উচ্চতর ডিগ্রী নিলেই প্রজ্ঞাবান হওয়া যায়না।
– এ জন্য দরকার অধ্যয়ন, অতীতের সমৃদ্ধ জ্ঞান দিয়ে, বর্তমান সমস্যার সামঞ্জস্যতা দেখা।
– ভিন্ন ভাবে, যারা মন দিয়ে ইতিহাস পড়ে ও বিশ্লেষণ করে, তারা একপর্যায়ে প্রজ্ঞাবান হতে পারে।
– প্রজ্ঞার মূল কথা হচ্ছে, মানুষের মনস্তত্ব অনুধাবন করে, সে অনুযায়ী আচরণ করা।
– মানুষের মনের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে, নিজের লক্ষ্য অর্জনের দিকে তাদের ধাবিত করা।
– প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একই পরামর্শ না দিয়ে, ব্যক্তির খাসিয়ত-আগ্রহানুসারে কর্ম-বণ্টন করা।
– কোন মানুষ কোন সমাজ থেকে এসেছে, সে ধারণা রাখা এবং তাদের রুচি, অভিরুচি অনুসারে পরামর্শ দেওয়া।
– সবাইকে একই দণ্ডে খবরদারী না করা, তাদের পরিবেশ, শ্রেণী ও সমাজের কাঠামো সমর্পকে ধারণা রেখে কাজ করা।
– নিজে যা জানি ও বুঝি সেটা অন্যের মাথায় সহজে ঢুকিয়ে দিতে পারার নামই প্রজ্ঞার পরিচয়।
– তিনি আগামী কাল, আগামী বছর, আগামী দশক, আগামী শতাব্দীর চিত্র নিজ চোখে দেখতে থাকেন।
– চলার পথে বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা ও বিরোধিতার বিপক্ষে প্রজ্ঞাবান মানুষ চৌকশ ও দূরদর্শী হয়।
– যত প্রতিকূলতা সৃষ্টি হবে, তার বিপরীতে আরেকটি মত ও পন্থা হাজির করতে যিনি পারেন তিনিই প্রজ্ঞাবান।
– আধুনিক যুগ জিজ্ঞাসায় প্রায় সকল প্রশ্নের সম্যক জ্ঞান রাখতে হয় একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে।
– শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ ও ধনী-দরিদ্র সকল শ্রেণীর মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ব্যক্তিত্ব থাকতে হয়।
– মানুষের দুঃখ-বেদনা, ভাবাবেগ-উত্তেজনা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তড়িৎ সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাবানেরাই নিতে পারে।
– প্রজ্ঞাবান পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুধাবন না করে সমস্যার ভিতরে কখনও হাত দেয়না।
– প্রজ্ঞাবানেরা ভুল কথা বলে পরে অনুতপ্ত হয়ে দুঃখিত বলার চেয়ে, প্রয়োজনে কম বলে কিংবা কিছুই বলে না।
প্রজ্ঞার ভিন্নতর দিক,
– দুনিয়ায় যেসব জীবন ব্যবস্থা চালু আছে সেখানে রয়েছে উন্নত পর্যায়ের বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাশীল লোকদের অংশগ্রহণ।
– দুনিয়ার বহু দেশ প্রবল চিন্তাশক্তি সম্পন্ন মেধাবীদের শুধু চিন্তা করার নিমিত্তে কাজে লাগায়।
– দুনিয়ার বহু দেশ শুধুমাত্র ভাবুক মানুষদের পিছনে অকাতরে অর্থ ব্যয় করে।
– দুনিয়ার বহু দেশ কল্প বিজ্ঞান নিয়ে বাস্তব-অবাস্তব সম্ভাব্য সকল ধরণের লিখায় অনুপ্রেরণা যোগায়।
– দুনিয়ার বহু দেশ শিশুদের অদ্ভুত ও কাল্পনিক চিন্তাকেও গুরুত্ব দেয় এবং তার পক্ষে ছায়াছবি বানায়।
– দুনিয়ার বহু দেশ উন্নত ধারণাকেও মূল্য দেয় এবং সে বিষয়ে সম্ভাব্য গবেষণা করার জন্য বৃত্তি দেয়।
– দুনিয়ার বহু দেশ অলীক ধারনা, অদ্ভুত ধারণা, অচিন্তনীয় ধারণাগুলো সংগ্রহ করে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করে।
– এসব ধারণা হয়ত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ফলপ্রসূ হয়না। তবে দশ শতাংশ ফলপ্রসূ হবেই, এতেই দুনিয়ার খ্যাতি তার।
– যারা মানুষের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ, দেয় মানুষ তার কেনা গোলামে পরিণত হয়।
– সে জন্য শিশু-কিশোরেরা, কদাচিৎ বৃদ্ধরাও অলিক কার্টুন, থ্রিলার, এনিমেশন, হরর মুভি দেখে চিত্ত শানিত করে।
– এটাও প্রজ্ঞার একটা ভিন্ন রূপ, যেটা দিয়ে বৈষয়িক দুনিয়াকে সহজে করায়ত্ত করা যায়।
– বৈশয়িক দুনিয়া যার; কথা চলবে তার, ক্ষমতা আর দাপটের পরিধি বাড়বে তার।
– বিজ্ঞানী আইনস্টাইন পৃথিবীর কেন্দ্রে তথা তলদেশে কিংবা মহাকাশে যেতে পারেন নি।
– তিনি ধারণা দিয়েছিলেন সেখানে গেলে ওজন হারিয়ে যাবে।
– তিনি ধারণা দিয়েছিলেন সেকেন্ডে সাত মাইলের বেশী গতির বস্তু দিয়ে তার সীমাবদ্ধতা ভাঙ্গা যাবে।
– তার ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে বহু মানুষ অনিশ্চিত লক্ষ্যে কাজ করেছে, অবশেষে তারা সফল হয়েছে।
– আজ মহাকাশ বিজয় হয়েছে, আইনস্টাইনের অলীক কল্পনাকে ধার করেই।
– এখানেই প্রজ্ঞার বিজয়, দৃঢ় চিত্ত ও সিদ্ধান্তের বিজয়।
সর্বোপরি,
– মানুষ যতই সরলমনা, সৎ লোক হউক; চিন্তা ও তীক্ষ্ণবুদ্ধি না থাকলে মানবজীবনের কোন উপকারে আসেনা।
– মানুষ যতই ধার্মিক ও পরহেজগার হউক; বৈষয়িক দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের ধারনা দিতে না পারলে কোন লাভ হবেনা।
– মানুষ যতই বাগ্মী ও জ্ঞানী হউক; অর্থনৈতিক মুক্তির রাস্তা দেখাতে না পারলে তার দ্বারা কোন কল্যাণ নাই।
– মানুষ যতই আলোচিত ও দর্শক নন্দিত হউক না কেন, চিন্তার রাজ্যে স্ট্রাইক করতে না পারলে গুরুত্ব নাই।
– আলেম-প্রফেসর যতই খ্যাতিমান হউন না কেন; অনুসারীদের হাতকে যথাযথ কাজে লাগাতে না তারা ব্যর্থই।
– তবে একজন প্রজ্ঞাবান মানুষ উপরের সবগুলো কাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে শতভাগ সক্ষম হয়।
– সে জন্য জাতির ভাগ্যে যদি প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব জোটে, তাহলে সে জাতি অচিরেই নিজের পায়ে দাড়াতে পারে।
– যে জাতি প্রজ্ঞা ও বৈষয়িকতায় এগিয়ে থাকে ইতিহাস তারই হয়, তাকেই মানুষ অনুসরণ অনুকরণ করে।
x

Discussion about this post