– এই পৃথিবীর সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সেই, যে স্বহস্তে উপার্জন করে খায়।
– স্বহস্তে উপার্জিত অর্থে যারা নির্ভর করে তারা কোনদিন অকৃতজ্ঞ হয়না।
– সন্তান দিয়ে কেউ যদি উপকৃত হতে চায়, তাকে যেন স্বহস্তে আয়ে পালন করে।
– আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দু’জন ব্যক্তিকে তাঁর ‘হাবীব’ তথা অন্তরঙ্গ বন্ধু বলেছেন।
– তাঁদের একজন হলেন, জগতের সবার প্রেরণার প্রতীক মোহাম্মদ (সাঃ)।
– অন্যজন হলেন, ‘স্বহস্তে উপার্জন কারী ব্যক্তি, যিনি এই অর্থ থেকেই খরচ করে’।
– শেখ সাদি বলেছেন, ‘স্বহস্তে আয় কারী ব্যক্তির উপার্জন, হাতেম তাইয়ের দানের চেয়েও সেরা।
– মানব সৃষ্টির পর থেকেই আল্লাহ স্বহস্তে উপার্জন কারীর জন্য জন্য অগণিত কল্যাণ লুকিয়ে রেখেছেন।
– স্বহস্তে উপার্জিত জিনিষ কোরবানি কিংবা দান করলে তা মুহূর্তেই আল্লাহ কবুল করেন।
– স্বহস্তে উপার্জিত জিনিষে নির্ভর করে যে দোয়া করে; তা কখনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
– পবিত্র কোরআনের শুরুটাই হয়েছে, এ জাতীয় উপার্জন থেকে খরচ করার কথা দিয়ে।
– আমাদের পিতা আদম (আঃ) পৃথিবীতে এসেই স্বহস্তে উপার্জন শুরু করেছিলেন।
– দাউদ (আঃ) শক্তিশালী ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন।
– অগণিত অর্থকড়ি মালীক এবং অপরাজেয় রাজ্য ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
– নিজের হাতে অর্জিত অর্থে খাওয়ার লক্ষ্যে তিনি লৌহ শিল্পের কাজ করতেন।
– সুলায়মান (আঃ) সারা দুনিয়ার অন্যতম বাদশাহ ও শ্রেষ্ঠতম নাবিক ছিলেন।
– তদুপরি স্বহস্তে উপার্জনের বরকত পেতে, নিজ হাতে থলে সেলাই করতেন।
– পরিবার পরিজন চালানো, অধিক অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে জন্য তামা শিল্পের কাজ করতেন।
– দুনিয়ার সকল নবী-রাসুলই জীবিকার জন্য নিজ হাতে কাজ করতেন এবং সংসার চালাতেন।
– এমন কোন নবী-রাসুল দুনিয়াতে আসেন নাই যিনি, যিনি কারো চাকর হয়ে জীবিকার সন্ধান করেছেন।
– আলী (রাঃ) পাহাড়ে গিয়ে লাকড়ি সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে স্ত্রী-পুত্রদের খাওয়াতেন।
– তাঁর পুত্রদ্বয় হাসান-হোসেন (রাঃ) জগতের বিখ্যাত সু-সন্তান ছিলেন।
– আসমা (রাঃ) স্বামী যোবায়ের (রা) অনেক ধন সম্পদের মালীক হন।
– তারপরও সন্তানকে পবিত্র খাদ্য জোগান দেবার জন্য তিনি অনেক ছাগল-ভেড়া পুষতেন।
– তাঁর সন্তান আবদুল্লাহ ইবনে যোবায়ের মক্কা-মদিনার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় ছিলেন।
– ওমর (রাঃ) শাসন ক্ষমতায়; বেশী আয়ের অভাবে সন্তানকে ঈদে এক টুকরা কাপড় কিনে দিতে পারে নাই।
– সেই সন্তান আবদুল্লাহ ইবনে ওমর জগতের সকলের নিকট সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন।
– মরু বেদুইন কন্যা আমেনা, নিজ হাতে শ্রম দিতেন কিন্তু মায়ের আদেশেও দুধে পানি মিশায় নাই।
– তাঁর বংশের অধস্তন সাত পুরুষ পর্যন্ত সকল মানুষই ইতিহাসের সেরা ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন।
– আফগানের সবচেয়ে ধনী রমণী ‘জয়নাব বেগম’ একটি সু-সন্তানের আশায় নিজ হাতে উপার্জনের নিয়ত করেন।
– তিনি দুধ-দই, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল, তরি-তরকারী নিজ হাতে উৎপাদন করে সন্তানকে খাওয়াতেন।
– সেই সন্তান ইতিহাসের খ্যাতিমান আফগান শাসক ‘দোস্ত মোহাম্মদ’, যিনি দুররানী সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দেন।
– দিল্লীর বাদশাহ নাসিরুদ্দিন নিজ হাতে কোরআন নকল করে তা বাজাকে বিক্রি করে খেতেন।
– গুজরাটের বাদশাহ আহমেদ শাহ ৩২ বছর শাসন কালের পুরাটাই টুপি সেলাই করেছেন।
– হুগলীর বিখ্যাত জমিদার হাজি মোহাম্মদ মুহসিন কোরআন নকল টুপি সেলাই দুটোই করতেন।
– তাই আসুন স্বহস্তে উপার্জন করি এবং নিজেকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করি।
– যিনি তার দু’টি হাতকে কাজে লাগাতে চায়, পৃথিবীর আয়তন তার জন্য বড় হয়ে যায়।
– যে কোন পরিস্থিতিতে এ ধরনের মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়না, ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন হয়ই।
– দু’হাতে আয়ের প্রেরণা যার; বয়স, পেশা, শিক্ষা, বংশ, মর্যাদা কিছুই আটকায় না তাকে।
– শিক্ষা ও পেশার সাথে সামঞ্জস্য আয়ের উপায় না পেয়ে অকর্মণ্য হয়ে বসে থাকার সুযোগ নাই।
– অকর্মণ্য; কোটি পতির সন্তান হলেও, শেষ বিকেলে তাকে কারো কাছে হাত পাততেই হয়!
– তার চেয়ে ভাল, এখনই কাজে নেমে পড়ি; কেননা এ’কাজের একটি টাকা সাহায্যের কোটি টাকার চেয়েও উত্তম।
– তাও যদি না পারি,
– তাহলে পরিশ্রমী ও শ্রমজীবী মানুষকে যেন শ্রদ্ধা করি।
– তাদের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে যেন পারিশ্রমিক দিই।
– তাদের নিকট থেকেই যেন মালামাল কিনি।
– তাদের সাথে যেন রূঢ় আচরণ না করি।
– গ্রামের চাষা-ভূষা মানুষের খবর রাখি।
– তাদের জীবনাচরণ নিয়ে যেন আগ্রহ দেখাই।
– কৃষি খামারীদের কে উৎসাহ প্রদান করি।
– কামার, কুমার, তাঁতি, ম্যাকানিকদের সম্মান জানাই।
– কেননা তারা ভালভাবে বেঁচে থাকলেই, দুনিয়ার সকলের কল্যাণ।
– তাদের আয়ের হিসাব নিকাশ হয়, সপ্তম আসমানের উপরেই।
– তাদের জন্য বরকত ও ভাগ্য নির্ধারণ হয় আরশে আজিম থেকেই।

Discussion about this post