প্রবাল পাথর মূলত একপ্রকার সামুদ্রিক প্রাণী। ইংরেজীতে এটাকে Coral বলা হয়। প্রবাল সাধারণত কলোনি তৈরি করে একত্রে বসবাস করে। দেখতে এরা ডিমের কুসুমের একটি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন অংশের ন্যায়। কলোনির সকল প্রবালের ধরন, বর্ণ, আকৃতি একই রকমের হয়। এরা প্রাণী হলেও, পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় সাগরতলে কোন দৃঢ় তলের উপর শক্ত করে গেঁড়ে বসে এবং নিশ্চলভাবে বাকি জীবনটা সেখানেই পার করে দেয়। ক্ষুদ্র প্রবাল যেখানে গেড়ে বসে, সেখানে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসরণ করে। ক্যালসিয়াম কার্বনেটের এই নিঃসরণ তার শরীরের বাহিরে একটি অসম্ভব শক্ত পাথুরে খোলস তৈরি করে। প্রবাল মারা গেলেও, মৃত্যুর পরে খোলসটি সেখানেই রয়ে যায় এবং তা একটি শক্ত গাঁথুনির আকার ধারন করে। সেই গাঁথুনিকে শক্ত তল ভেবে নতুন প্রজন্মের প্রবাল পুঞ্জ তার উপর আসন গেড়ে বসে। এভাবে ধীরে ধীরে প্রবাল বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে এটি কঠিন শিলায় পরিণত হয়। এটাই এক সময় প্রবাল পাথর হিসেবে পরিচিতি পায়। এগুলো এত শক্ত ও মজবুত হয়, দুর্ঘটনাক্রমে কোন জাহাজের তলার সাথে যদি এর ঘষা লাগে। তাহলে জাহাজের তলা ফেঠে যেতে পারে।
আরো পড়ুন…
- ত্রিভুবন বলতে কি বুঝায়
- সুফি বলতে কাদের বুঝায়
প্রবাল পাথর বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে এবং এগুলোকে মসৃণ করলে, উজ্জ্বলতা বাড়ে। প্রবালের জন্ম প্রাণীদেহ থেকে তেরী হলেও, মশৃণ প্রবাল রত্ম আর কঠিন পাথরের মধ্যে, খালি চোখে পার্থক্য বুঝা যায় না। সমুদ্র তলদেশে হাজারো রং বেরংয়ের প্রবাল দেখে বুঝা যায়, কি অদ্ভুত রং দিয়ে আল্লাহ সমুদ্রকে সাজিয়েছেন। এই প্রবাল অলঙ্কার তৈরিতে বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। লাল রঙ্গের লোহিত প্রবালের কদর সারা দুনিয়াময়। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন নামের পুরো দ্বীপটাই একটি প্রবাল দ্বীপ। পবিত্র কোরআন মজিদে সূরা আর রহমানে ‘মারজান’ নামে যে রত্মের প্রশংসা করা হয়েছে, সেটা এই প্রবাল পাথরই।

Discussion about this post