মুক্তা মোতি হল পৃথিবীর দামী রত্ন গুলোর অন্যতম একটি। এটাকে ইংরেজীতে Pearl বলে। এটির গঠন প্রনালী হীরা ও মানিকের মত তৈরি নয়। হীরা, মানিক, পান্না মৌলিক পদার্থ থেকে সৃষ্ট কিন্তু মুক্তার জন্ম প্রাণী দেহ থেকেই। তাই মুক্তা ও প্রবালের গঠন প্রনালী পৃথিবীর অন্য পাথর থেকে ভিন্ন।
মুক্তার আরেক নাম মোতি। এক সময় এই মোতি, রাজা বাদশাহদের পোষাক অলঙ্করণে ব্যবহৃত হত। এটা দুষ্পাপ্য জিনিষের তালিকায় ছিল।
সাগর-নদী তল্লাশী করে মুক্তা সংগ্রহ করতে হত বিধায় এটা কেবল মাত্র রাজা-বাদশাহদের পরিধেয় বস্ত্রে ব্যবহার করতে পারত। মুক্তার অলঙ্কার
আরো পড়ুন…
- প্রবাল পাথর
- ত্রিভুবন বলতে কি বুঝায়
- রাষ্ট্রীয় সম্পদ মেরে ধনী হবার পরিণতি
মুক্তার বানিজ্যিক চাষ
মুক্তাকে এখন মানুষ বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাদা, ধূসর, উজ্জ্বল গোলাপি, হালকা পিঙ্ক বর্ণের মুক্তা বা মোতির জন্ম হয়।
অসতর্কতা বশতঃ কোন শক্ত বালি কণা কিংবা ক্ষুদ্র পাথর ঝিনুকের দেহাভ্যন্তরে ঢুকে যায়; ঝিনুক তখন চরম অস্বস্থি বোধ করে।
সেটা এটাকে বের করে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠে। যখন সে এটা বের করতে পারে না।
ঝিনুক তখন তার অস্বস্থি দূর করতে, দেহ থেকে এক প্রকার লালা দিয়ে সেটাকে পেঁচাতে থাকে।
এই লালার উপাদান যোগ হয়ে, দিনে দিনে বালির কণাটি বড় হতে থাকে। এই দানাটি খুবই শক্ত আকার ধারণ করে।
একদিন এই পিচ্ছিল কণাটি নিজের রং হারিয়ে ঝিনুকের খোলসের ভিতরের বর্ণ ধারণ করে।
পরিশেষে এটিই মুক্তা হিসেবে মানুষের হাতে আসে এবং রমণীর গলায় ঝুলে। মুক্তার অলঙ্কার
ঝিনুকের আকৃতি ও বয়সের উপর নির্ভর করে মুক্তার আকার আকৃতি নির্ভর করে।
মুক্তা এক সময় শুধুমাত্র রাজা-রানী ও ধনীদের গলায় শোভা পেলেও, বর্তমানে মুক্তা বা মোতির চাষের কল্যাণে, মুক্তাকে গহনা বানিয়ে গলায় ঝুলানো অনেকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে।
সকল প্রকার মুক্তা দেখতে এক ধরনের হলেও মিঠা পানির মুক্তা আর লোনা পানির মুক্তার মধ্যে আভ্যন্তরীণ গঠনে ভিন্নতা আছে।
মুক্তা গঠিত হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট যৌগ দ্বারা। কোরআন মজিদে সূরা আর রহমানে ‘লুলু’ তথা মোতির প্রশংসা পাওয়া যায়।
বেহেশতি মানুষের পোশাকে স্বর্ণ-রৌপ্যের সাথে মুক্তার বহুবিধ ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। Mohs Scale of Mineral Hardness সূত্রানুযায়ী মুক্তার কাঠিন্য হল ২.৫।


Discussion about this post