বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বত্র এটাকে বাথুয়া – Bathua শাক হিসেবে চিনে থাকে। উদ্ভিদটি দেখতে খুবই আদরণীয়। পাতাগুলো মাংসল। ক্ষেতে খামারে কৃষকের অনিচ্ছা স্বত্বেও এটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠে বলে, অনেকে এটাকে ‘বন্য পালং’ ও বলে থাকে। এর পাতার সাথে পালং শাক এর কিছুটা সাদৃশ্য আছে বলেই হয়ত এভাবে নামকরণের কারণ। কিছু শাকের পাতা বর্ণিল আকার ধারণ করে। বাথুয়া : লড়াকু উদ্ভিদের উপকারিতা
আরো পড়তে পারেন…
- মারুলা ফল প্রকৃতিকে করে পাগল
- কর্ক শিল্প ও আমাদের পাটখড়ি
- কালোজিরা : নিয়ত করে খেলে যে বিচি রোগ সাড়ায়
এই আকৃতির গাছ ও পাতার ধরনের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদ গুলোকে Chenopodium album হিসেবে চিত্রিত করা হয়। তবে নির্দিষ্ট করে বাথুয়া শাকের ইংরেজি নাম হল White Goosefoot.
কৃষক তার ক্ষেতের ফলন বাড়াতে গোল-আলু, মিষ্টি-আলু, মরিচ ক্ষেতে সার প্রয়োগ করার দুইদিন পর ক্ষেতে গেলে দেখা যাবে, আলু, মরিচের চারা মাটির সাথে মিশে আছে কিন্তু বাথুয়া শাকের পাতা তরতর করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে, নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। কোত্থেকে হঠাৎ করে এটার আবির্ভাব হয়েছে! কৃষক বুঝে উঠতে পারে না। ফলে কৃষকের মেজাজ খারাপ হয় এবং বেচে বেচে উপড়ে ফেলে।
এটি কৃষকের বড় উপকারও করে থাকে কিন্তু খুব কম সংখ্যক কৃষক এ ব্যাপারে সম্যক জ্ঞাত। পাতা খেকো লেদা পোকার কাছে, গাছের কচি পাতার প্রতি বেজায় লোভ থাকে। ক্ষেতের ভিতরে উঁচু লম্বা স্বাস্থ্যবান বাথুয়া শাকের উদ্ভিদ দেখে পাতা খেকো পোকামাকড় গুলো তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ক্ষেতের পোকা-মাকড় এককেন্দ্রিক হয়ে উঠে। ফলে পাখির পক্ষেও তাদের সাবাড় করা সহজতর হয়ে উঠে। এতে করে আলু, মরিচের চারা রক্ষা পায়। তাই ক্ষেত থেকে এই গাছের চারা সমূলে বিনষ্ট করা উচিত নয়।
প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা উদ্ভিদের মধ্যে এটি অন্যতম। পোকা মাকড় এত পাতা খেলেও, পরদিনই নতুন সতেজ পাতার জন্ম দিতে পারে। গাছের এই খাসিয়তের কারণে ভারতের বিভিন্ন স্থানে এটার চাষ করা শুরু হয়েছে। এটি শাক হিসেবে খুবই দারুণ ও মজাদার। সুপের মেনুতে এই শাকের অবস্থান উচ্চে। যাদের পায়খানা শক্ত, তাদের পেটের অবস্থা পরিবর্তন করতে এই শাকের কোন তুলনা নেই।
পশুখাদ্যের জন্যও বাথুয়া শাক বহুল ব্যবহৃত। মুরগীর খামারে খাদ্যের সাথে বাথুয়া শাকের পাতার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এই উদ্ভিদের প্রচুর পরিমাণ ক্ষুদ্র মিহি আকৃতির বীজের জন্ম হয়। এগুলো বাতাসে উড়ে কিংবা মাটিতে লুকিয়ে থাকে। পাখিরা এসব ক্ষুদ্র বিচি খেতে খুব পছন্দ করে। তাদের মাধ্যমে এই গাছের বিচি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠা এবং জীবিত থাকার কারণে এই শাকের মধ্যে বহুবিধ খনিজ উপাদান বিদ্যমান যা অন্য শাকের মধ্যে দেখা যায় না। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা এবং ফসফরাস রয়েছে। আবার ভিটামিন এ, বি, সি এর সাথে প্রোটিন, শর্করা রয়েছে।
একটি বিষয় মনে রাখা খুবই দরকার, দুনিয়ার সকল প্রকার ফল-মূল, সবজিতে খনিজ উপাদান ও ভিটামিন বিদ্যমান থাকে। রান্না করলে কিংবা গরম করা হলে সেটার ভিটামিন আর কার্যকরী থাকেনা। তবে খনিজ উপাদান ঠিকই থাকে। তাই ভিটামিনের অভাব পূরণ করতে হলে তা কাঁচা কিংবা পাকা খেতে হয়। যেমন, আমরা আম, জাম, কাঁঠাল, লেটুস, গাজর খেয়ে থাকি। গরম সুপে লেবুর রস দিলে স্বাদের ভিন্নতা আসে বটে কিন্তু ভিটামিন-সি এর কার্যকারিতা আর থাকেনা।


Discussion about this post