রাস্তা দিয়ে চলার পথে হঠাৎ করে একটি দোকানের সাইন বোর্ডের প্রতি নজর চলে যায়। নাম তার “ফারাও ফ্যাশন”! কতটুকু পথ চলেই গিয়েছিলাম মনে খটকা লাগাতে আবারো ফিরে আসলাম। যা ভেবেছিলাম তাই, সত্যিই কাপড়ের দোকানের নাম “ফেরাউনের ফ্যাশন”! ফেরাউনের ফ্যাশন ও নগীব মাহফুজ
আরো পড়তে পারেন…
- নামের মাহাত্ম্য ও আরবের বিশ্বাস
- দূরদৃষ্টি Prudence অর্জনের গুরুত্ব
- Broken Chair ভাঙ্গা বেদি ভাস্কর্য
ফেরাউনদের আবার ফারাও বলা হয়। ইংরেজিতে Pharaohs লিখা থাকায় উপরের আরবি বোর্ডের দিকে তেমন নজর পড়েনি। মাথায় আসল Pharaohs বলতে তো ফেরাউনকে বুঝিয়ে থাকে। এই দোকানের সাইন বোর্ডে অন্য কোন অর্থ বুঝাল কিনা। ফিরে এসে আরবি দেখার পরই বুঝলাম, আসলেই ফ্যাশন কোম্পানির নাম “ফেরাউন”! ইতিহাসে ফেরাউন এমন এক ব্যক্তি, যাকে মুসলিম বিশ্বে একজন গজব প্রাপ্ত সম্রাট হিসেবে চিনা হয়। যিনি মুসা (আঃ) কে খুবই কষ্ট দিয়েছিলেন এবং চরম শত্রুতা পোষণ করত। অবশেষে সে নীল নদীর পানিতে ঢুবে সশস্ত্র সৈন্যবাহিনী সহ মারা যায়।
উপরের কাহিনী কমবেশি সবাই জানে। পবিত্র কোরআন পাঠ করতে গেলেও ফেরাউনের নাম ধরে বহু কথা পাওয়া যায়। মূলত ফেরাউন কোন এক ব্যক্তির নাম নয়; মিশরে রাজত্ব করত এমন সম্রাটদের উপাধি এটি। পবিত্র কোরআনে ফেরাউনের নাম ধরে শাস্তির কথা বলার কারণে, শব্দটি মুসলমানদের কাছে একজন চরম অত্যাচারী নিষ্ঠুর শাসকের ছবি মানস-পটে ভেসে উঠে। ইহুদী, খৃষ্টান, মুসলিম সবার কাছেই ফেরাউন ঘৃণিত। অথচ কিছু মানুষের কাছে আজো ফেরাউন সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন! হৃদয়ে কতটুকু টান থাকলে তাদের নামে প্রতিষ্ঠানের নাম দিতে পারে, বলাই বাহুল্য!
মিশরীয় সাহিত্যিক “নগীব মাহফুজ” ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত হন। তিনি তার সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে যে বক্তৃতাটি দেন, তা আজো আমার মনে আছে। তিনি তার ঐতিহাসিক বক্তৃতাটি শুরু করেছিলেন নিজেকে ফেরাউনের সন্তান দাবী করে! ফেরাউনেরা কিভাবে সারা দুনিয়ার মানুষের কাছে মিশরকে উচ্চমার্গে পৌঁছিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন বক্তব্যে।
তিনি কায়দা করে বুঝিয়েছিলেন যে, দুনিয়াতে শিক্ষার জননী হল মিশর। যদিও নগীব মাহফুজ নামের মিশরী ফেরাউনের এক সন্তান স্বীকৃতি পেতে অনেকটি দেরী হয়ে গিয়েছিল। যে দেশে মুসা (আ) জন্মেছেন এবং সারা জাতিকে মুক্তি ও সমৃদ্ধি দিয়েছিলেন, তার বক্তব্যের কোথাও তার ছিটেফোঁটা ছিলনা! তবুও তার বক্তব্যে একটি দারুণ চাতুর্যটা ছিল যে, যার মাধ্যমে শেখা যায়, নিজেদের হারানো ঐতিহ্যকে কিভাবে অন্যদের কাছে তুলে ধরা যায়। মনে হল দোকানদারে মাথাতেও একটি চিন্তা কিলবিল করেছিল, তাইতো তার প্রতিষ্ঠানের নাম ফেরাউন ফ্যাশন হয়ে উঠে।


Discussion about this post