বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ হল, মানুষ দুনিয়াতে আসার পরে দুনিয়ার পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে, পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে; এখানে টিকে থাকতে শিখেছে। এই ব্যাখ্যাটা প্রাণীদের জন্যে খাপ খায়, ধোপে টিকে। যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রমাণও পেশ করা যায়। বিজ্ঞানে-নবীদের-ভূমিকা
তবে এমন ব্যাখ্যা মানুষের জন্যে খাটে না। মানুষকে নিয়ে যতই গবেষণা করা হয়, ততই বিষয়টি জটিল হয়। হবেই তো, কেননা স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন,
“আমি সুঠাম ও সু-সামঞ্জস্য করে মানুষ সৃষ্টি করেছি” ইনফিতর-৮২
অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টিটাই স্পেশাল, এই দেহটাতে সামান্যতম গড়মিল নেই। তাই অন্য প্রাণীদের সৃষ্টি বৈচিত্র্যের সাথে মানুষের তফাত থাকবেই। আজকের দুনিয়ার জীব বিজ্ঞানের সাথে ইসলামের মূল লড়াই চলছে এই পয়েন্টে।
তাছাড়া বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ হল, প্রয়োজনের কারণেই মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখেছে, অস্ত্র বানিয়ে আত্মরক্ষা করতে শিখেছে। এভাবে তাদের সভ্যতা বিকাশ হয়েছে। সেখানেও ইসলাম জোরালো ভাবে দ্বিমত পোষণ করে।
কেননা আল্লাহ নিজেই দাবী করেছেন যে সবকিছুর সাথে আদম কে পরিচয় করে দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কিভাবে বিজ্ঞানের সূচনা হল? সে ব্যাখ্যা আমরা নবী-রাসুলদের জীবনী থেকেই পাই।
নূহ (আঃ) এর যুগে নৌকা থাকলেও ইতিপূর্বের কেউ সামুদ্রিক জাহাজ বানাতে জানতেন না। তিনিই প্রথম সর্ববৃহৎ জাহাজ বানালেন। বিজ্ঞানে-নবীদের-ভূমিকা
ইব্রাহীম (আঃ) যুগে মানুষের ছোট ঘর থাকলেও, তার আগে কেউ পাথর দিয়ে ইমারত বানাতে জানতেন না। তিনিই দূরের পাহাড়ে অবস্থিত বিরাট পাথর সংগ্রহ করে, ক্বাবার সুউচ্চ দেওয়াল বানালেন।
দাউদ (আঃ) এর পূর্ববর্তী যুগে মানুষ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, পাথর নিক্ষেপ করে আত্মরক্ষা করতেন। তার আগে কেউ লোহা নির্মিত তৈজসপত্র ব্যবহার জানতেন না। তিনি লোহা গলিয়ে, ধাতব নির্মিত নিত্য ব্যবহার্য জিনিষের সাথে সাথে তরবারি, বল্লম সহ নানাবিধ অস্ত্র বানালেন।
সোলায়মান (আঃ) আগের কেউ পিতল গলাতে জানতেন না ফলে পিতলের ব্যবহার জানতেন না। আগুনের তেজকে বহুগুণে বৃদ্ধির কৌশল দিয়ে, পিতলের মত ভারী ধাতু গলানোর কারিগরি বের করলেন।
ঈসা (আ) যুগে প্রচুর মানুষ কুষ্ঠ রোগে মারা যেতেন, এ রোগের ঔষধ কিংবা ডাক্তার ছিলনা। কেউ কুষ্ঠ রোগী ভাল করার নিয়ম জানতেন না। তিনি রীতিমত একজন সফল চিকিৎসকের মত জাতিকে কুষ্ঠ রোগ মুক্ত করলেন।
এমনতর বহু উদাহরণের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাব। মানুষ সবকিছু প্রকৃতির কাছে ঠেকায় পড়ে শিখে নি। বরং তারা শিক্ষা নিয়েই দুনিয়াতে আগমন করেছেন।
এটা থেকেই বুঝা যায়, দুনিয়াতে কারিগরি জ্ঞানের যে বিপ্লব শুরু হয়েছে, তার অগ্রে ছিলেন নবী-রাসুলগন। নবী-রাসুলের যুগে তাদের চেয়ে জ্ঞানী, বিজ্ঞ, দক্ষ, অভিজ্ঞ, করিৎকর্মা ও কর্মঠ মানুষ আরেকজন ছিল না।
তারাই সর্বাগ্রে থাকতেন। কয়েকজন নবীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে মাত্র, বাকী সকল নবীগনও ধর্মীয় জ্ঞানে যতটুকু অভিজ্ঞ ছিলেন, বৈষয়িক জ্ঞানে ততোধিক দক্ষ ছিলেন।
পিতৃ প্রদত্ত তথা আদম (আঃ) এর জ্ঞানের প্রভাবে, মানুষের জিন ও রক্তের মাধ্যমে বংশ পরম্পরায় অনেক শিক্ষা মানুষের মধ্যে চলে এসেছে বটে তদুপরি অনেক জ্ঞান এসেছে আল্লাহর পক্ষ হতে ওহীর মাধ্যমে ও স্বপ্নের দ্বারা। যে জ্ঞান দ্বারা নবীগন সময়ের শ্রেষ্ঠতম কারিগরি জ্ঞান বিতরণ করে মানুষকে করেছে অগ্রগামী, জগতকে করেছে সমৃদ্ধশালী।
এভাবেই মানুষ কারিগরি জ্ঞানে উৎকর্ষতা লাভ করে। বিজ্ঞানীদের দাবী মত, মানুষ ঠেকায় পড়ে কারিগর বনেছে, এর ব্যাখ্যায় ইসলাম যে প্রামাণ্য দাবী উত্থাপন করেছেন, তা অনেক বেশী শক্তিশালী, যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক।
উপসংহারে বুঝা যায়, নিয়াণ্ডারথাল দেখতে মানুষের মত হলেও, তারা স্বভাব-চরিত্রে মানুষ ছিলেন না। মানুষের উপকারার্থেই মানুষের প্যাটার্নে কিছু প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছিল।
নিয়াণ্ডারথালও তেমন একটি। এটার পিছনেও মহান আল্লাহ মানুষের জন্যে কল্যাণ রেখেছেন। যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ করোনা বিপর্যয়ের ধকল কাটাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
যেমন, শিম্পাজির দেহ অনেকটা মানুষের কাছাকাছি তাই তাদের দেহের RNA এর মাধ্যমেই প্রথমে Covid-19 Vaccine এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় এবং ফাইনালি এই পদ্ধতির কল্যাণেই Covid-19 Vaccine তৈরি করে, মানব জাতীকে সম্ভাব্য মহামারী থেকে বাচাতে সক্ষম হয়েছে। সাদৃশ্যপূর্ণ দেহ বৈশিষ্ট্যের এটি একটি বৈজ্ঞানিক সুবিধা।


Discussion about this post