ইসলামে নারীর পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত বলা হয়েছে। স্বামীর চারিত্রিক সার্টিফিকেট দেবার ক্ষমতা স্ত্রীকে দেয়া হয়েছে। কন্যা পালন করাকে সর্বোত্তম কর্ম ঘোষণা করা হয়েছে। তিন কন্যার পিতাকে সর্বোচ্চ জান্নাতের বাসিন্দা বানানোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নারীকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ সম্পদ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পোশাক স্বরূপ বলা হয়েছে। স্ত্রীর প্রতিটি পারিবারিক কাজে স্বামীর সহযোগিতাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য এমন কাজে নারীকে সমান অধিকার না দিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিপদ-মুসিবতে মুক্তি পেতে প্রথম সুবিধাভোগী হিসেবে নারী ও শিশুদের কথা বলা হয়েছে। নারী ব্যতীত পুরুষের জীবনকেই অর্থহীন করা হয়েছে। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে গেলে, নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেই হবে, এই শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নারী-পুরুষের জন্য শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নারীকে ঘরের মূল রক্ষক করেছেন। আল্লাহ মানব জাতীর জন্য সালাম পাঠাতে একজন নারীকে বাছাই করেছেন। শত-কোটি হাজী ছাফা-মারওয়ায় না দৌঁড়ালে হজ্ব পরিপূর্ণ হয়না, তা একজন নারীর অবদানের জন্যই করা হয়েছে। খৃষ্টানেরা যীশুকে অনুসরণ করে, ইসলাম সেই যীশুর মায়ের জন্য যে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দেখায়, পুরো দুনিয়ার খৃষ্টানেরাও তা করতে পারে না!
নারীকে পিতার, স্বামীর ও সন্তানের সম্পদের ভাগীদার করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজন ব্যবসায়ী হলে, এতে স্ত্রীর ব্যবসা স্বামীর চেয়ে বড় হওয়া স্বত্বেও, স্ত্রীর জন্য ঘর, পোশাক, নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা সহ সকল কিছুই স্বামীকেই বহন করতে হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও সকল প্রকার সিল্ক সামগ্রী পুরুষের জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করে তা শুধুমাত্র নারীদের জন্যই সংরক্ষিত করা হয়েছে।
বিয়ে করতে হলে নারীকে তার চাহিদা মোতাবেক নিরাপত্তা গ্যারান্টির সমুদয় অর্থ অগ্রিম নগদ পরিশোধ করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নারীকে প্রদেয় টাকা রাষ্ট্রীয় কর মুক্ত, স্বামী, সন্তান এবং পিতার দাবী ও উপদেশ মুক্ত করা হয়েছে। এই টাকার ব্যবহারকে রাষ্ট্র, স্বামী, সন্তান এবং পিতা থেকেও জবাবদিহিতা মুক্ত করা হয়েছে!
নারীকে বিয়ে করে ঘরে আনার পর, স্বামী স্ত্রীর জন্য ঘর, চাকরানী দেওয়ার হুকুম জারী করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে স্বামীর ঘরে স্ত্রী ঢুকতে পারবে কিন্তু বিনা অনুমতিতে স্বামী স্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত ঘরে ঢুকতে হলে বাধ্যবাধকতার ব্যবস্থা আছে। তুলনা মূলক ভাবে পৃথিবীর অন্য সকল ধর্ম ও জাতির চেয়ে নারীর অবদান ইসলাম যতটুকু দেয় পৃথিবীর বাকী সকল ধর্মের অবদানও ততটুকু নয়।
প্রসঙ্গত, ইসলাম ধর্মীয় ভাবে নারীর এই অধিকার ঘোষণা করেছে সুতরাং সকল মুসলমান পুরুষ এই কথাগুলো মানতে বাধ্য। কোন পুরুষ এসব সুবিধা দিতে না চাইলে, তাকে জোড় খাটাতে হবে। এই জোড় খাটানোর দায়িত্ব পড়ে রাষ্ট্রের উপর। এখন রাষ্ট্র যদি এসব আদায় করিয়ে দিতে কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে সেটা রাষ্ট্রের দোষ, ইসলামের দোষ নয়। ইসলামের নিজের আইন-কানুন প্রতিষ্ঠা করতে তাকে শাসন ক্ষমতায় থাকতে হয়। শাসন ক্ষমতা ব্যতীত ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ অকেজো হয় থাকে। ব্যক্তি জীবনে বা কোন জনসমষ্টি আগ্রহী হয়ে কোন শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা, করলে প্রচলিত আইনে তাকে ফৌজদারী অপরাধে দোষী করা হবে। কোরআন হাদিসে অনেক কথা থাকলেও, রাষ্ট্রে ইসলামী শাসন ব্যতীত এসব সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।
তাই রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘ইসলাম ও রাষ্ট্রক্ষমতা দুই সহোদর ভাই। তাদের একজন অপরজন ব্যতীত সংশোধন হতে পারেনা। ইসলাম হল কোন অট্টালিকার স্তম্ভ আর রাষ্ট্রক্ষমতা তার পাহারাদার। যে অট্টালিকায় কোন স্তম্ভ নেই, তা যেমন পড়ে যেতে বাধ্য, তেমনি যার পাহারাদার নাই তাও ধ্বংস হতে বাধ্য’। আল হাদীস (কানযুল উম্মাল)
তাই রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘ইসলাম ও রাষ্ট্রক্ষমতা দুই সহোদর ভাই। তাদের একজন অপরজন ব্যতীত সংশোধন হতে পারেনা। ইসলাম হল কোন অট্টালিকার স্তম্ভ আর রাষ্ট্রক্ষমতা তার পাহারাদার। যে অট্টালিকায় কোন স্তম্ভ নেই, তা যেমন পড়ে যেতে বাধ্য, তেমনি যার পাহারাদার নাই তাও ধ্বংস হতে বাধ্য’। আল হাদীস (কানযুল উম্মাল)


Discussion about this post