মানুষের জীবনে বিয়ে হয় মাত্র একবারই। সেটা তাদের প্রথম বিয়ের সময়। সকল নর-নারী জীবনের প্রথম বিয়েতে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে, বাকি জীবনের কোন ধাপেই তা করতে সক্ষম হয়না। বিয়ে
তরুণ বয়সের একটি সংসারের স্বপ্নে, কাল্পনিক পরিকল্পনা, হৃদয়ের গভীর উচ্ছ্বাস, নীল আকাশে হারিয়ে যাবার তামান্না, সমুদ্রের জলে ভেসে থাকার দুর্বিনীত আকাঙ্ক্ষা, ধীরে ধীরে ধনী হওয়া, ধাপে ধাপে সুখী হওয়া, শ্রেষ্ঠ জুটি হবার সুপ্ত বাসনা, ছোট পরিবার, সুন্দর সংসার, প্রথম শিশুর বাবা-মা হবার ঐকান্তিক ভাবনা সব, সবই প্রথম বিয়েকে কেন্দ্র করেই ঘটে।
পরবর্তীতে কেউ যদি আরো অনেক বিয়ে করে, সেটা শুধু নির্ভরতার জন্যই হয়, স্বপ্ন গড়ার নিমিত্তে হয় না। দ্বিতীয়বারের বিয়েতে কখনও, কোনদিন প্রথম বিয়ের মত মানসিক উপাদান থাকেনা। যেখানে স্বপ্ন থাকেনা, সেখানে কল্পনা বাসা বাঁধে না। যেখানে কল্পনা থাকেনা, সেখানে মন কাজ পায়না। মন যেখানে কাজ পায়না, সেখানে মানসিক অস্থিরতার বিকাশ ঘটবে। সংসার যতই বিত্তশালী হউক, এখানে উদাসীনতা ভর করবে।
স্বামী-স্ত্রীর অবর্তমানে দ্বিতীয় বিয়েতে নিষেধ নাই; ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতেও আরো বিয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু অফিসে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর অর্থ ও মুখশ্রীর প্রতি অনুরাগী হয়ে পরকীয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের পর্যায়ে গড়ালে সেটা হবে ভয়ানক অশান্তির মূল কারণ। কেননা বিয়ে করার জন্য যে উপাদানের প্রয়োজন পরকীয়াতে তার কোনটাই থাকেনা। যে তার প্রথম সংসারের প্রতি বিরাগী হয়ে, অন্যায় ভাবে পরকীয়া করতে পারে; তার বিয়ে যতবার যত যায়গাই হউক, এই অন্যায় তার অভ্যাসে পরিণত হবে।
তাজা আঙ্গুর বুড়ো হলে কিসমিস হয়। একই ভাবে মানব যৌবনের মুখশ্রী বুড়ো হলে সেই চেহারাও কিসমিসের মত হয়ে যায়। সুন্দর মন কোনদিন বুড়িয়ে যায় না। তাই মানব জীবনের একটি সুন্দর মনকে বেশী মূল্য দিন, চেহারার সৌন্দর্যকে নয়। চেহারাকে পরিচর্যা করা হয় আগের রূপ ধরে রাখার জন্য। আর মনকে পরচর্যা করলে অতিমানবীয় রূপের জন্ম হবে, যা সবার জন্য কল্যাণকর। তাই পরকীয়া এড়িয়ে চলুন, শরীয়ত মত জীবন ধারণ করুন। প্রথম বিয়ের সংসারকে সময় দিন, মূল্য দিন, মানবিকতাকে শানিয়ে তুলুন।