বিস্ফোরক শসা! কথাটির মধ্যে একটি সাসপেন্স আছে। মূলত এটি একটি গুল্ম যার ফলটি প্রায় ৯৫ কিমি গতিতে ফেটে যায়। অদ্ভুত ধরনের এই ঔষধি গুল্মের জন্ম ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশ গুলোতে। এই গুল্মের ফলগুলো দেখতে আমাদের দেশের কাঁকরোলের মত। তবে আকৃতিতে কিছুটা ছোট। এই গুল্মের পাতা, ফুল, ফলের প্রায় সবটাই মুড়মুড়ে স্বভাবের গয়। ফলে ফলের বৃন্তে একটু ধাক্কা লাগলে খুব সহজেই ফলটি ছিঁড়ে যায়। কৌতূহলী উদ্ভিদ বিস্ফোরক শসা
আরো পড়ুন…
- সাগুদানার (Sago pearls) উৎপত্তি ও উপকারিতা
- আফিম – যে গাছ মানব সভ্যতাকে দুমরে-মুচড়ে দেয়
- লাল চন্দন Red Sanndalwood এর বিশ্বজোড়া কদরের কারণ
চিত্তাকর্ষক বিষয় হল, ছিঁড়ে যাবার সময় ফলটি বিস্ফোরিত হয়। ফলের পেটের ভিতর ফাঁপা থাকে, এই ফাঁপা স্থানে প্রবল বায়ুচাপ সহ পানি ও ফলের বিচি দিয়ে দ্বারা আবদ্ধ থাকে। যখনই ফলে ধাক্কা খায় তখন ফলের মুখ বিস্ফোরিত হয়ে ঘণ্টায় ৯৫ কিমি গতিতে পানি বের হয় ও বিচিগুলো চারিদিকে বিভিন্ন দূরত্বে ছড়িয়ে পড়ে।
এই গাছের মূল ইংরেজি নাম Squirting Cucumber. আরবিতে قثاء الحمار (কুচ্ছা আল হেমার) তথা গাধার শসা। কেন এটার নাম গাধার শসা জানা যায়নি তবে উদ্ভিদের ফল বিস্ফোরিত হয় বলে এটাকে Exploding Cucumbers ও বলা হয়।
এই গুল্মটি নরম ও ক্ষণভঙ্গুর বলে বলে খুব সহজেই মারা পড়তে পারে। তাই তার মনের মধ্যে একটা দুঃচিন্তার ভাব সদা জাগ্রত থাকে। তাই যখনই তার দেহ থেকে ফল ছুটে যাবার কারণ ঘটে, তখনই সে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফলের অভ্যন্তরের বীজগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করে দেয়। সে ভাবে এতে করে তার বংশধর রক্ষা পাবে।
অদ্ভুত চরিত্রের এই গাছটি বিষাক্ত। এর সবজি খাওয়া হয়না। বিস্ফোরণ কাণ্ড ঘটে বলে অনেকেই শখের বসে উদ্ভিদটিকে নিজের বাগানে স্থান দেয়। তবে এটাতে রয়েছে বিস্ময়কর ঔষধি গুন। শরীরের বাহিরের ব্যথা-বেদনা দূর করতে এই গাছের প্রলেপ দারুণ কার্যকর। সাইনোসাইটিস ও মূত্রনালির সংক্রমণের জন্য এই উদ্ভিদ থেকে হার্বাল (ইউনানি) ঔষধ তৈরি হয়। লিভার সিরোসিসের জন্য এই গুল্মটি একক ভাবে ব্যবহার হয়। বলা যায় কলিজায় পিত্ত ছড়িয়ে পড়লে কিংবা পাণ্ডু রোগ (জণ্ডিস) তথা হেপাটাইটিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এটি একটি একক কার্যকরী ঔষধ।
জর্ডানের অধিবাসী এক প্রকৌশলীর বাড়ির চারিদিকে এই গাছ আগাছা হিসেবে ছড়িয়ে থাকে। তার কাছে এই গাছ সম্পর্কে প্রশ্ন রেখেছিলাম।
সে এক অত্যাচার্য তথ্য দিয়েছিল! একসময় তার মায়ের সারা দেহে পিত্ত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সারা দেহ হলুদ বর্ণের হয়ে যায়। কয়েকদিন মেডিক্যালে থাকার পর কিছু পথ্য ও রুটিন মেনে চলার তাগিদ দিয়ে, রোগীকে বিদায় করা হয় কিন্তু মুখমণ্ডল থেকে হলুদ ভাব তখনও যায়নি।
এক বেদুইন বৃদ্ধা মহিলার সাথে, কিভাবে তাদের সাক্ষাত হয়। মহিলা বললেন, এটা তো সাধারণ রোগ! আমরা মরুভূমিতে “গাধার শসার” রস দিয়েই রোগ ভাল করে ফেলি। তিনি দুই ফোটা রস, তার মায়ের নাকে ঢুকিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণ পরেই তার মায়ের নাক দিয়ে হলুদাভ পানি ঝরা শুরু হয়। দিনে একবার করে তিনদিন ব্যবহারের ফলে, তার মায়ের শরীর আগের মত হয়ে যায় এবং তিনি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।
তিনি বললেন, আমি নিজে ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু কিভাবে কাজটি হল বুঝে আসেনি। মেডিকেলের ডাক্তার ও কৌতূহলী হয়ে গাছটির কার্যকারিতা দেখার জন্য যোগাযোগ করে। লেখক হিসেবে, এটা আমার শোনা কথা। অন্যের অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করেছি মাত্র। আমার কাছেও এর পক্ষে কোন প্রমাণ নেই, তবে নেট ঘাটাঘাটি করে যা পেয়েছি, তাতে দেখেছি এটা লিভার তথা কলিজার রোগে বেশ কার্যকরী একটি উদ্ভিদ। আর কোন কারণে পিত্ত কলিজায় ছড়িয়ে পড়লেই মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। সারা দেহ হলুদ বর্ণের হয়ে যায়।


Discussion about this post