Tipu vai
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
No Result
View All Result

বেয়াড়া ছাত্রের শিক্ষার ভার, ঢেঁড়স চৌধুরী জিন্দাবাদ! পর্ব-৩৪ (ধারাবাহিক রোমাঞ্চকর কাহিনী – এক পিকুলিয়ার মানুষ)

মার্চ ১৬, ২০১৬
in এক পিকুলিয়ার মানুষ
7 min read
0
বেয়াড়া-ছাত্রের-শিক্ষক

বেয়াড়া-ছাত্রের-শিক্ষক

শেয়ার করুন
        
ইয়াকুব চৌধুরীর ঘর কোথায়, তা জিজ্ঞাসা করার জন্য কোন মানুষ-জন পাচ্ছিলাম না। এমন সময় শিশু-কিশোরদের একটি মিছিল আসতে দেখলাম। জনা বিশেষ শিশু হাতে লাটি নিয়ে, লাটির মাথায় কি যেন একটা বেঁধে মিছিল করছে।

ঢেঁড়স চৌধুরী কি, জিন্দাবাদ।

ঢেঁড়স তুমি এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে।

ঢেঁড়স ঢেঁড়স ঢেঁড়স চাই, ঢেঁড়স ছাড়া উপায় নাই।

এক দঙ্গল শিশু-কিশোর লাটির মাথায় ঢেঁড়স বেঁধে, ঢেঁড়সের মিছিল করছে, ব্যাপার খানা না বুঝেও একপ্রকার হাসি আসল। এমন সময় লাটি হাতে কোত্থেকে এক ব্যক্তির হঠাৎ অভ্যুদয় হল! তার সাথে আমার চোখাচোখি হতেই বুঝলাম প্রচণ্ড রাগ তাঁর চেহারা থেকে ঝরে পড়ছে। তিনি হঠাৎ করেই শিশুদের মিছিলে পুলিশী স্টাইলে পিছন দিক থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন! মুহূর্তেই শিশুরা দিক-বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেল!

ততক্ষণে মর্ম বুঝলাম ঢেঁড়সের সাথে এই ব্যক্তির কোন যোগসূত্র আছে এবং তিনিই বা কেন লুকিয়ে এসেছিলেন! তার চেয়েও বেশী বুঝলাম, ধুরন্ধর শিশুগুলো আগে থেকেই জানত, মিছিলে যে কোন দিক থেকে হামলা আসতে পারে, তাই তারা এসব সতর্কতা নিয়েই মিছিল করছিল আর যখনই মিছিলে হামলা হল, মুহূর্তে সকলেই পগার পাড়!

জীবনে বেশ কয়েকটি টিউশনি করেছি, পরিস্থিতির জঞ্জালে পড়ে লজিংও করতে হয়েছে। তন্মধ্যে তিন জন ছাত্রের কথা আজো মনে পড়ে। একজন ছিল চরম বেয়াড়া, আরেকজন ছিল বলী, দশ জনও তাকে পরাস্ত করতে পারত না! তৃতীয় জন ছিল মেধাবী ও শান্ত। ভিন্ন স্বভাব ও পরিবেশের এই ছাত্রদের সাথে আমার সুন্দর মধুর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যেগুলো খুবই চিত্তাকর্ষক। জীবনের প্রথম লজিং বাড়ীর উদ্দেশ্যে রিক্সা থেকে নেমেই বাচ্ছাদের ঢেঁড়স মিছিল পণ্ড হতে দেখলাম!

তখনও কোন মানুষের দেখা নাই। মনে পড়ল আজকে বাজারের দিন, তাই শক্ত-সামর্থ্য সকল মানুষ বাজারেই। যার কারণেই মানুষের দেখা মিলছে না, যাক ততক্ষণে শিশুদের মিছিল ভঙ্গ করে সেই তিনি এদিকেই আসছেন, আর নিজে নিজে বক বক করে কি যেন বলছেন। চোখে চোখে হওয়াতে তাকে বললাম, চাচা ইয়াকুব চৌধুরীদের বাড়ীটা কোন দিকে?

–চোখে মুখে রাগের ভাব নিয়ে বললেন, আমাকে চাচার মত লাগে?

–আমি দুঃখিত, ভুল হয়েছে, আপনি তো আমার বড় ভাইয়ের মত। তা চৌধুরী সাহেবের বাড়ীটা কোন দিকে?

–কি মনে করে, গলা একটু নরম করে বললেন, ‘দেখেন এখানে আমরাই প্রকৃত চৌধুরী। ইয়াকুব মিয়া কোন চৌধুরীই নয়, ভবিষ্যতে আমার সামনে আর কোনদিন ইয়াকুব মিয়াকে চৌধুরী হিসেবে বলবেন না! সে হল ব্যবসায়ী এবং মাস্তান। তার গোষ্ঠীর সবাই মাস্তান! তা ইয়াকুব সদরের (সওদাগর) সাথে আপনার কি কাজ?

–আমি তাঁর ছেলেকে পড়াব।

–বা,বা, বাহ্। আপনিই সেই বজ্জাতের মাষ্টার হয়ে এসেছেন! তার বাপে বলেছিল ছেলেকে মানুষ বানাইতে ভাল মাষ্টার আসিতেছে। তাহলে আপনিই সেই ভাল মাষ্টার, আপনাকে দেখে আমার নয়ন জুড়াইয়া গেল। আমি গত তিন বছরে যারে ঠিক করতে পারি নাই; আপনি তারে মানুষ বানাইবেন!

আল্লাহ মালুম সেই ছাত্র উল্টো আপনাকেই জানোয়ার বানাইয়া ছাড়ে কিনা! তাই চিন্তা করিতেছি!

তিনই বলতে রইলেন,

‘শুনেন নতুন মাষ্টার সাব, কিছুক্ষণ আগে তো আপনি এই খানে দাঁড়াইয়া ছেলেদের মিছিল দেখিয়া দাঁত কেলাইয়া হাসিতেছিলেন। খবরদার এই গ্রামে থাকিতে হইলে, আর কোনদিন এই কাম করবেন না। সেই মিছিলের যে নেতা ছিল, তার নাম ইমরান, আপনি সেই বজ্জাতের স্যার! আমি যদি বজ্জাতেরে সুযোগ মত পাইয়া যাই, তাহলে আপনার আর কষ্টকরে মাস্টারি করা লাগবে না! শাসন কারে কয়, মাষ্টার-ছাত্র সবাইরে দেখাইয়া দিমু’।

আমি তাজ্জব হইয়া তন্দ্রা মুগ্ধের মত শুনিতেছিলাম,তার কথায় তন্দ্রা ভঙ্গ হল,

–শুনেন, সামনে গিয়া রাস্তার বাম পাশে, যে সুন্দর ডেইরী ঘর (বাহিরের ঘর) আছে সেটাই ইয়াকুব আলীর ঘর। ঘৃণায় আমি তাদের বাড়িতে যাইনা, আপনি নিজেই যান। আপনার সাথে আমার বহু কথা বার্তা বাকি আছে, পরে আবার দেখা করবেন।

ভাবতে রইলাম, জীবনের প্রথম মাস্টারি, কোন ধরনের ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি বুঝলাম না। ফ্রি’তে খানা খেতে এসে যদি, নিজের চোখই কানা হয়ে যায়, তাহলে পুরাই লোকসান। আমাদের বাড়ীতেও লজিং মাষ্টার আছে, আমরা সম্মান করি, মর্যাদা দেই কিন্তু যার বাড়ীতে লজিং যাব, তাদের বাড়ীতে যাবার আগেই এত বিপত্তি! বাকি দিন কেমন কাটে সেই চিন্তা মাথায় নিয়ে ইয়াকুব চৌধুরীর বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলাম।

ইয়াকুব মিয়া চৌধুরীর বাড়ীর সামনে দাড়াতেই দেখি, তিনি হন্তদন্ত হয়ে বাজার থেকে চলে এসেছেন। বাজারে গিয়েই শুনেছেন যে, আমি তাদের বাড়ীর পথে, তাই তিনি জলদি চলে আসলেন। মূলত তারা তিন দিন আগেই আমার আসার কথা ছিল। লজিংএ যাওয়া ঠিক হবে কিনা দুদোল্যমানতার কারণে দিন গুলো পিছিয়ে গিয়েছিল। সিনিয়র ভাইয়েরা সাহস ও সম্ভাবনার লোভ লাগানোতে অগত্যা এসেই গেছি।

ইয়াকুব মিয়া চৌধুরী খুবই বদান্যতার সহিত আমাকে গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন, আমি নিজেও লজিংএ থেকে লেখাপড়া করেছি। একজন লজিং মাষ্টারের কি প্রয়োজন, কি চাহিদা, সেটা আমি নিজেই বুঝি। সুতরাং আমার কাছে আপনার কিছু প্রয়োজন হবার আগেই আমি জেনে যাব। তারপরও কিছুর সমস্যা হলে, আমাকে জানাবেন। আমি নিজে বিদেশ ছিলাম, টাকার পিছনে সময় দিয়েছি, ছেলেরা বরবাদ হয়ে যাচ্ছিল। তাই বিদেশ থেকে চলে এসেছি। আমার ছেলেটি উচ্ছল, চঞ্চল সেটা অনেকে পছন্দ করেনা। বিশেষ করে ঢেঁড়স চৌধুরী! (ততক্ষণে সম্ভাব্য ছাত্র-ছাত্রীরা এসে পড়েছে) আমি আপনার কাছে বেত, রসি, কলম, বই ও টুপি রেখে গেলাম। এগুলোর ব্যবহার দিয়ে তাদের মানুষ করবেন। ছেলে-মেয়েদের রেখে গেলাম। ওদের শরীরে শুধু হাড় গুলো থাকলেই আমার জন্য যথেষ্ট।

চৌধুরী বের হয়ে গেলেন, আবার ফিরে এলেন! ও হ্যাঁ, আমি আপনার পরিবারের বিস্তারিত খবর নিয়েছি। আপনার বাবা দরবার শরীফের ভক্ত, জিয়াউল হক মাইজ ভাণ্ডারী ও আপ নার বাবা একই ক্লাসে পড়েছেন, এমনকি ভাণ্ডারীর শ্বশুড় বাড়ীও আপনাদের বাড়ীর পাশে। আপনাদের আকিদা ও আমাদের আকিদা একই হওয়াতে, আমি খুশী হয়েছি। সে জন্য আপনাকে আনার জন্য লেগে ছিলাম। আমি কিন্তু মওদূদী বাদ, শিবির, ওহাবীদের একদম পছন্দ করিনা। আপনি খেয়াল রাখবেন যাতে করে ওহাবী, শিবিরের কোন ছেলে ফেলে যাতে এই এলাকায় মাষ্টার হয়ে না আসে। তারা বড় ফেতনাবাজ, খবর পাইলেই আমাকে জানাবেন, বাকি দায়িত্ব আমার।

অদ্ভুত মানুষ, বিদঘুটে পরিবেশ, বিচিত্র জঞ্জাল যেন মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ল! চিন্তা করলাম এত তাড়াতাড়ি হতাশ হওয়া যাবেনা। ভাবলাম দেখা যাক কি করা যায়, হয়ত এর একটা বিহিত করতেই পারব।

ছৈয়দ আলী চৌধুরী যৌবন কালে কোন বন্ধুর বিয়ে খেতে গিয়ে, রাত্রে পয় নিঃসরণের দরকার হয়ে পড়ে। হঠাৎ পায়খানার সন্ধান না পেয়ে, পাশের ঢেঁড়স খেতে বসে কাজটা সেরে ফেলেছিলেন। এটা তারই বন্ধুরা দেখে ফেলে। তার পরদিন থেকে তাঁর সেই দুঃখ-লজ্জার কথা মনে করিয়ে উত্ত্যক্ত করতে বন্ধুরা ‘ঢেঁড়স’ বলে উচ্চারণ করতেন। এতেই তিনি ক্ষেপে যেতেন। এলাকার কেউ ভুলেও প্রয়োজনে ঢেঁড়সের নাম নিতে পারতেন না। একদা তার স্ত্রী বাজার থেকে ‘ঢেঁড়স’ আনতে বলায় বহু বড় লঙ্কা কাণ্ড ঘটে যায়, ঘটনাটি প্রায় বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে গড়িয়ে যায়। যাক, এলাকায় ঢেঁড়সের প্রকৃত নাম ‘ভেণ্ডি’। সম্পদশালী ছৈয়দ আলী চৌধুরী মানুষটিও একটু ত্যাড়া ধরনের, যার পিছনে লেগে বসে, তার আর নিস্তার নাই। তার অন্যান্য ভাইদেরও এই ধরনের বিদঘুটে উপাধি আছে। আজকে আমি ঢেঁড়সের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকব। অনর্থক ঝগড়া এড়াতে এলাকার কেউ প্রয়োজনেও ঢেঁড়সের নাম নিতে পারে না। এতদসত্বেও এলাকার শিশুগুলো ছিল অধিকমাত্রায় ফাজিল। তারা ছৈয়দ আলী চৌধুরীকে দেখা মাত্রই ঢেঁড়স বলে দৌড় লাগাতেন। আর ঢেঁড়স চৌধুরী সেই ছেলের পিছনে লেগেই থাকতেন যতক্ষণ না তার পিতা-মাতা চৌধুরীকে খুশী করার মত শাসন করতে না পারে। ছেলেরা এভাবে শাসন আর মার খেতে খেতে তারাও একপ্রকার ‘তেঁদড়’ এর মত হয়ে পড়েছিল, তারাও ঢেঁড়স চৌধুরীর এই কাজের প্রতিশোধ নিতে ছেলেমি কৌশলে শত্রুতা হাসিল করত। এগুলো ছিল অভিনব ও অদ্ভুত।

ছেলেদের এই দলের নেতা হল আমার হবু ছাত্র এমরান! ঢেঁড়স চৌধুরী এমরানের বিরুদ্ধে তার পিতার কাছে বিচার নিয়ে গেলে, নিয়ে সোজা বলে দেন, জগত বাসি আপনাকে ঢেঁড়স চৌধুরী হিসেবেই চিনে, আমার ছেলে বললে যত দোষ, চেয়ারম্যান সাহেব বললে তো কিছুই করেন না। সবাইকে ঢেঁড়স ঢেঁড়স বলতে দেন। আপনি না খেপলেই তো ছেলেরা বলা ছেড়ে দিবে। আপনার যা দশা তাতে রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল যদি ঢেঁড়স নিয়ে কবিতা লিখে আপনি তাদেরকেও জগত ছাড়া করবেন! এসব কি পেয়েছেন? বুড়ো বয়সে ফাজলামি ছাড়েন।

এই ধরনের কথা শুনে ঢেঁড়স চৌধুরী চলে আসার মত ব্যক্তি নয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ওদের বাড়ীর সামনে দাড়িয়ে তিনি প্রতিবাদ করতে থাকবেন, মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলবেন, সন্তান দিয়ে যাতে এসব জুলুম না করে। তার পরদিন সকালে যথারীতি হাজির হয়ে, গতকালে ঝগড়া যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে পুনরায় শুরু করবেন। ‘যেমন বুনো ওল, তেমন বাধা তেঁতুল’ কেউ কাউকে ছাড় দেয়না। সে জন্য আমার লজিং হোল্ডার ও ছাত্র ঢেঁড়স চৌধুরীর আজন্ম শত্রু আর তাদের বাড়ীতে যোগ দিয়ে প্রথম দিনেই চক্ষু শুলে পরিণত হলাম।

দুদিনের মধ্য খবর পেলাম ঢেঁড়স চৌধুরীর এক বোনকে আমার নানার বাড়ীতে বিয়ে দিয়েছেন, আমি তাঁকে নানী বলে ডাকি সে সূত্রে ঢেঁড়স চৌধুরী আমার নানা হন। তাঁকে বুঝিয়ে বললাম, আপনি আমার সম্পর্কে নানা হন, তাই আমার ছাত্রের বেয়াদবি আমি বরদাশত করব না। সে আর আপনার বিরুদ্ধে লেগে থাকবে না, তাকে আমি দমন করব, শাসন করব এবং আপনাকে খুশী করব। আমার ঘোষণায় তিনি খুবই খুশী হলেন। আমিও চিন্তামুক্ত হলাম। ছাত্রকে বুঝালাম, এসব করেনা, ভাল মানুষ এগুলো করেনা। ছাত্র বলল আগে করত, তার পিতার গরু মারা শাসনে সে আর ওগুলো করেনা, তবে অন্য কেউ করলে ঢেঁড়স চৌধুরী সেটা আমার নামে চালিয়ে দেন এবং আমার বাবার মাধ্যমে আমাকে মার খাওয়ায়। আমি ওসব দেখবে বলে তাকে নিশ্চিত করলাম এবং কাল থেকে যাতে আর নতুন কিছু না হয়, সে জন্য সে ওয়াদা করে।

কুয়াশা ভিজা সেই ভোরে, ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার প্রাক্ষালে আবছা অন্ধকারে দেখতে পেলাম, কেউ একজন নিজের লুঙ্গি দিয়ে দেওয়ালের কিছু একটা পরিষ্কার করছে। কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলাম আপনি কে? কি করছেন?

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, দেখছেন না কি করছি! দেওয়াল থেকে লিখা মুছতেছি, এখন লিখাটা পড়ে যান সকালে দেখা হবে। আজ বড় বিচার হবে। অনেক চেষ্টা করেও আবছা অন্ধকারে সেই লেখাটা আমি পড়তে পারিনি, তবে কৌতূহল চলে যায়নি। মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসার সময় দেখতে পাই, দেওয়ালের লিখা মুছে ফেলা হলেও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

চুলার পোড়া কাঠের কয়লা দিয়ে দেওয়ালে বড় বড় অক্ষরে লিখা ছিল,

‘ঢেঁড়স তুমি এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে’

‘ঢেঁড়স ঢেঁড়স ঢেঁড়স চাই, ঢেঁড়স ছাড়া উপায় নাই’।

আমি শতভাগ নিশ্চিত এবং বিশ্বাস যে, আমার ছাত্র এগুলোতে নাই।

মসজিদের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে শুনি, মসজিদের গণ শৌচাগারের ভিতরে কেউ একজন উত্তেজিত হয়ে চিল্লাচ্ছেন। তিনি কাউকে গালাগালি করছেন ভিতর থেকে লাথি মেরে শৌচাগারের দরজা ভেঙ্গে ফেলার জোগাড় করছেন। একজন চিন্তা করলেন শৌচাগারের দরজা বন্ধ হয়ে কেউ আটকে পড়েছেন। তিনি গায়ে পড়ে উপকার করতে গেলেন। তিনি কাছে গিয়ে দেখে যা বুঝলেন, ব্যক্তিটি পয়ঃকাম সাড়ার জন্য কাপড় খুলে বসেছিলেন এমনি সময় দেখতে পেলেন, টয়লেটের দেওয়ালে কয়লা দিয়ে কেউ লিখে গেছে ‘ঢেঁড়স তুমি এগিয়ে…………’। অমনি ঢেঁড়স চৌধুরীর মেজাজ গেল চড়ে! তিনি সেই অবস্থাই লুঙ্গির বর্ধিত অংশ দিয়ে তা মুছতে লেগে গেলেন এবং গালাগালির চূড়ান্তে পৌঁছলেন। ভদ্রলোক দূর থেকে আমাকে ইঙ্গিত দিয়ে বুঝালেন, আমি যাতে পুকুর ঘাট থেকে তাড়াতাড়ি চলে যাই। কেননা এই দোষ যথারীতি আমার ছাত্রের কাঁধে পড়বে এবং সেই অবস্থায় আমাকে সামনে পেলে দু-কথা শুনিয়ে দেবে। আমিও সম্ভাব্য ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেটে পড়লাম।

নাহ্! পুকুর পাড় থেকে নির্বিঘ্নে কেটে পড়লেও কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি বিপদ এখনো কাটে নাই। আজ ছাত্রের বাংলা পরীক্ষা, সে ঘর থেকে সবার নিকট থেকে দোয়া নিয়ে আমার নিকট এসেছে দোয়া নিতে। যেই মাত্র বের হতে যাবে ঠিক তখনও গজ গজ করতে করতে ঢেঁড়স চৌধুরী আমার কক্ষে হাজির! তিনি উত্তেজিত হয়ে বলতে রইলেন,

মাষ্টার সাব, আপনি বলছিলেন এই বেয়াদপের বিচার করবেন, এখন আপনি তার বিচার করুন। আপনি যথাযথ বিচার না করা পর্যন্ত আপনার ঘর থেকে বের হবনা, ছাত্রকেও কোথাও যেতে দিবে না।

প্রশ্ন করলাম, সে কি দোষ করেছে?

উত্তরে বলল, সে কোন দোষটা না করে আছে?

আপনি পরিষ্কার প্রমাণ সহ উল্লেখ করে বলুন তার কি অপরাধ!

তিনি জানালেন গত রাত্রে চৌধুরী বাড়ির দেওয়ালে ও গন শৌচাগারে আপনার এই গুনি ছাত্র আমার বিরুদ্ধে বাজে কথা লিখে এসেছে। আপনি এটার বিচার করুন আর এই নেন বেত, একশ ঘা দিলেও এই বেত ভাঙ্গবে না!

মাথায় কাজ করছে না কি ভয়ঙ্কর মুসিবতে পড়তে যাচ্ছি। পরীক্ষার হলে যাবার আগে ছাত্র মারলে পরীক্ষার ক্ষতি হবে, তাছাড়া গতরাত ১১টা পর্যন্ত সে আমার সামনে বসে পড়েছিল। দেওয়ালে যদি সে লিখেও থাকে, অত দূরের টয়লেটে গিয়ে লিখে আসাটা সম্ভব নয়।

চৌধুরীকে বললাম, আচ্ছা নানা, আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে, এই কাজটি সে করেছে?

তিনি খুব ক্ষিপ্রতার সহিত এমরানের হাতে থাকা বাংলা নোট বইটি কেড়ে নিয়ে খুলে দেখালেন এই দেখুন, দেওয়ালে লিখা ‘ঢ’ আর তার হাতের লিখা খাতার ‘ঢ’ একই। সুতরাং এই কাজ সেই করেছে।

মোক্ষম যুক্তি বটে! কঠিন স্বরে প্রশ্ন করলাম, এমরান তুমি কি এই কাজ করেছ?

সে সাথে সাথে উত্তর দিল, সে এই কাজটি কখন করবে, তার তো সময়ই নাই। সে এটা করেনি।

ঢেঁড়স চৌধুরী ছাত্রের প্রতি আমার প্রশ্ন করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেলেন, তিনি বললেন, চোর বুঝি সহজে কোন কথা স্বীকার করে, আগে বেত দিয়ে কয়েকটা লাগিয়ে দিন, তারপর দেখবেন হর হর করে বলে দিয়েছে।

এই ধরনে কঠিন পরিস্থিতিতে কি করব চিন্তা করছিলাম। হঠাৎ বুদ্ধি আসল, আমি ছাত্রকে বললাম, তুমি না করলেও ধরলাম তুমি একাজ করেছ। বিকালে এসে আমাকে জানাবে কে করেছে একাজ। আর এই মুহূর্তে তুমি তোমার দাদা চৌধুরীর পা ধরে মাপ চাও, আর বল আর কোনদিন এই কাজ করবে না।

কাল বিলম্ব না করে, এমরান ঢেঁড়স চৌধুরীর পা ধরার জন্য বসে গেল এবং বলতে রইল দাদা এই কাজ আর করব না, আমাকে মাপ করে দিন।

আমিই বললাম, এখন পরীক্ষার হলে যাও, লেখাপড়ায় মন দাও।

এমরান মুহূর্তেই ঘর থেকে বের হয়, চলে গেল।

নানা ঢেঁড়স চৌধুরীর চেহারা লক্ষ্য করলাম, তাঁর চেহারায় প্রচণ্ড ক্ষোভ ও বিরক্তির আভাস দেখতে পেলাম। বুঝলাম বিচার পছন্দ হয়নি! তুবও বললাম, আজকে তো আপনি তাকে মাফ করে দিয়েছেন, পরের বারে এমন ঘটলে আমি তার দেহে চামড়াই রাখব না।

চৌধুরী ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, ‘আপনি বিচারের বাল ছিঁড়ে তাল তলায় রাখবেন, এটাই করতে পারবেন মাত্র’

কেন কি হয়েছে? তাকে দিয়ে তো আপনার পা ধরাতে পারলাম আগেও তো সেটাও হয়নি!

ঢেঁড়স চৌধুরী তার পা খানা আমাকে দেখিয়ে বললেন, দেখেন তো আপনার ছাত্র আমার পা ধরে মাফ চেয়েছে, নাকি তার ধারাল নখ দিয়ে আমার পায়ের চামড়াকে আঁচড়ে দিয়েছে!

আমার সামনে টেবিল, টেবিলের ওপাশে দাড়িয়ে দুজন। বসে পা ধরতে দেখেছিলাম কিন্তু কি ঘটেছে দেখিনি! তাকিয়ে দেখলাম, এমরান পা ধরে মাপ চাওয়ার সাথে সাথে চৌধুরীর পা দুটোকে তার ধারাল নখ দিয়ে আঁচড়িয়ে ডিজিটাল মানচিত্র বানিয়ে ছেড়েছে!

আমি আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, তিনি প্রচণ্ড আক্রোশ নিয়ে গড়গড় করতে করতে আমার ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন। ভাবলাম ভাগ্যিস ঢেঁড়স চৌধুরীকে কৌশলে নানা বানিয়ে ফেলেছিলাম নতুবা আজকে আমার উপর দিয়ে ছাত্রের কল্যাণে অনেক ঝড় তুফান বয়ে যেত।

আমার বুঝা আমি বুঝে গিয়েছি ‘যেমনি বুনো ওল, তেমনি বাধা তেঁতুল’ কেউ কাউকে ছাড়ার পাত্র নয়। মনিন্দ্র লাল স্যারের তিক্ত অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছিলাম এই ছেলেকে মারের মাধ্যমে কাজ হবেনা।

চতুর্থ শ্রেণীর সিনিয়র ছাত্র ‘পলাশ’ কে মনিন্দ্র লাল স্যার পড়া না পাড়ার জন্য বেদম মার দিতেন। পলাশ, স্যারের দু’পা জড়িয়ে ধরত, তারপরও স্যারের তেজ কমত না। পাশের ক্লাসের ছাত্ররাও ভয়ে কদাচিৎ কান্না জুড়ে দিত। পলাশ দের গ্রামের সামনের বিলের মাঝখান দিয়ে যে রাস্তা সোজা চলে গেছে, সে রাস্তায় মনিন্দ্র লাল স্যারের বাড়ী। তিনি বাড়ীতে যাওয়ার পথে পলাশ তাদের পালা কুকুর টিকে স্যারের পিছনে লাগিয়ে দিতেন। স্যার দৌড়াতে দৌড়াতে নদী পার হতেন। পরদিন যথারীতি পলাশের উপর মনিন্দ্রলালের শাস্তি চলত, আর বাড়ী যাবার পথে পলাশ ঠিকই কুকুর ছুটিয়ে দিতেন। অতঃপর দুই জন একই বছর স্কুল ছাড়ে! একজন ছাত্রত্ব ছাড়ে অন্যজন শিক্ষকতা ছাড়ে।

ভাবলাম এই পাজি ছাত্রকে শাসন করতে গিয়ে উল্টো না জানি আমিই কিনা বিপদে পড়ে যাই। কেননা শিক্ষক মনিন্দ্রলাল স্যার আর ছাত্র পলাশের মাঝখানে আর কোন ব্যক্তি ছিলনা কিন্তু এই কেই সে নানা আর ছাত্রের মাঝে আমি আছি। বুঝলাম লক্ষণ আলবৎ ভাল নয়।

যাক, রাত্রে ছাত্রের মায়ের অনুরোধেই বেত্রাঘাত করতে বাধ্য হলাম। তিনিই অনেক গুলো বেত এনে দিয়েছিলেন। ততদিনে যথেষ্ট উপন্যাস-সাহিত্য পড়েছি এবং বহু তেড়া মানুষের ঘটনাও হজম করেছি, তাই জানতাম একে এভাবে গরু পিটুনি দিয়ে কাজ হবেনা। অন্যভাবে সোজা করতে হবে। এমরানকে সঙ্গ দিয়ে, গল্প বলে, আদর করে কিছুটা বুঝাতে পেরেছি বলে সক্ষম হলাম। সে আমাকে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে এবং বন্ধুর মত আচরণ দেখে আমার দেওয়া গল্পের বই পড়েই সময় কাটাতে লাগল। পরবর্তীতে খাটুনী কাজ দিয়েছে, এর ফলে তার বাবা আমার এত ভক্ত হয়ে যায় যে, যা বলতাম তিনি তাই শুনতেন।

গ্রামের অন্য ছেলেরা তো আর ঢেঁড়স চৌধুরীর পিছু ছাড়ে নাই। তাদের পিছনেও কাজ করতে থাকলাম, এতে ফল হল বলে হল। সন্তানহীন ঢেঁড়স চৌধুরীও এসব বাচ্চাদের সাথে ভাব করতে চাইত, তিনি চাইতেন তাদের হাতে রাখতে কিন্তু এমন বেয়াড়া শিশুর দলে যে পড়বে তার নির্ঘাত ইজ্জত পাংচার না হয়ে পারেনা।

একদা কিছু শিশু গাছের ফাঁক দিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে বলতে রইল, ঐ, ঐ-তো ঔই খানেই তো দেখা যাচ্ছে। এখনিই তো ছিঁড়ে পড়তে পারে, বিপদ হতে পারে! আরেক দল প্রশ্ন করে কোথায়? ঐ, ঐ-তো!

চলার পথে ঢেঁড়স চৌধুরীর আগ্রহ হল, শিশুরা কোন জিনিষটি নিয়ে এত ব্যতিব্যস্ত ও ভয়ে আক্রান্ত! তিনি প্রশ্ন করলেন, কি জিনিষ সেখানে? কয়েক জন বালক ইলেক্ট্রিক্যালের ঝুলানো তারের প্রতি তাঁকে নজর দিতে বলল। সাথে সাথেই ঢেঁড়স চৌধুরী ক্ষিপ্ত হলে বাচ্চাদের পিতা-মাতার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধারে লেগে গেল। এই ফাঁকে বাচ্চারা পগার পাড়!

সাইকেলের চাকার স্পোক কে হুকের মত বাঁকা করে, ঢেঁড়স কে সুতার সাহায্যে বেঁধে, বিদ্যুতের কভার করা তারে লটকানো হয়েছে! একটি-দুটি নয়, বহু ঢেঁড়স বিদ্যুতের তারে লটকে আছে! কেউ আগে থেকে খেয়াল করেনি, তাই যথাযথ ভাবে নজর পড়ার জন্য বাচ্চারা এই নাটক মঞ্চস্থ করল। এসব ঢেঁড়স উদ্ধার করে ফেলে দিতে ঢেঁড়স চৌধুরী দু-দুটি দিন নষ্ট হল। যথারীতি দোষ আমার ছাত্রের উপর এসে গেল! মানে আমার উপরই বর্তাল। ছাত্র নিজে না করলেও, বুদ্ধি পরামর্শ সেই দিয়েছে বলে ঢেঁড়স চৌধুরী বিচার ডাকল। কেননা বাজারে তাদের রয়েছে বিরাটকায় সাইকেল-রিক্সার গ্যারেজ!

বিকাল বেলা সকল বাচ্চারা, মসজিদের পুকুরে ছিপার মাথায় ছোট বরশী বেঁধে মাছ ধরায় লেগে গেল। প্রত্যেকের হাতে একটি করে বরশী। তাদের হৈ হাঙ্গামার শোরগোল শুনে মনে হচ্ছিল প্রতি মিনিটেই মাছে বরশী গিলে নিচ্ছে। বাচ্চারা বরশীকে এমন কায়দায় পানি থেকে তুলে আনে, তাতে করে সপাং করে আওয়াজ হয় এবং বুঝা যায় মাছে বরশীর খাদ্য কামড়িয়ে ধরেছিল, বরশীকে টান মারতে না জানার কারণেই, মাছটি ছুটে গেল।

ঢেঁড়স চৌধুরী যথারীতি উপস্থিত। বরশীতে মাছ ধরার পদ্ধতি তিনি ছেলেদের চেয়ে বেশী জানেন। তাতে হবে কি? তার কাছে তো এমুহূর্তে কোন বাঁশের ছিপা নাই।

তিনিই প্রশ্ন করলেন, তোমাদের কারো কাছে কি অতিরিক্ত বরশী আছে?

একজন উত্তর দিল ‘হ’ আছে তো! ঐ যে ঐখানে রাখা হয়েছে। খাদ্য লাগিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে অনেক আগে থেকেই। মানুষের চেয়ে বরশীর সংখ্যা একটি বেশী। চৌধুরী সাহেব তো এই ধরনের একটি সুযোগ-সৌভাগ্যের জন্যই অপেক্ষা করছিলেন! তিনি ভাবে গদগদ হয়ে বড়শিটিকে স্বযন্তে পানি থেকে তুলতে গেলেন।

ছেলেদের পাল আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। চৌধুরী সাহেব যথারীতি মুহূর্তে সিংহ মূর্তি ধারণ করে ছেলেদের পিছনে লাটি নিয়ে দৌড়ালেন। সকল ছেলেরা মুহূর্তেই উদাও! ছেলেরা চৌধুরী সাহেবের জন্য কায়দা করে যে, বরশীটি পানিতে চুবিয়ে রেখেছিলেন, সেটি পানি থেকে তুলতে গিয়ে দেখেন, মাছের বদলে বরশীর মাথায় বিরাট আকৃতির একটি ঢেঁড়স লটকে আছে!

চৌধুরীরা আদিকালের জমিদার, বিরাট বাড়ী, অনেক পুকুর, শান বাধানো ঘাট, অনতিদূরে মসজিদ। অতি সুন্দর পরিপাটি এলাকা, আমার দেখা গ্রাম গুলোর মাঝে আমার দৃষ্টিতে এই গ্রামটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। একদা চৌধুরীদের ক্ষমতা থাকতে, স্থানীয় মানুষকে হয়রানী করত। তাই একই গ্রামের বাসিন্দা হলেও মানুষের মাঝে কোথাও যেন একটি বিরাট পর্দা ঝুলে আছে। ওরা দাম্ভিকতা ছাড়তে পারেনি, এরাও তেঁদড়ামি ছাড়তে পারেনি। বড়দের কাছে এসব কথা শুনতে শুনতে বাচ্চারাও তাদের জন্য বিরক্তিকর প্রাণিতে পরিণত হয়েছে।

মানুষের কাজ দিয়ে যদি কারো অন্তরে স্নেহ-মমতার বাসা বাঁধতে না পারে তাহলে মানুষের জীবন অর্থহীন। এখানকার সব মানুষ শিক্ষিত হবার পরও অতীত আচরণের কারণে মানুষ গুলো বন্ধনহীন।

চৌধুরীদের আরেক ভাইকে বলা হত ‘ঢিলা চৌধুরী’। সময়ের বিবর্তনে বাংলা ‘ঢিলা’ শব্দটি ইংরেজি ‘স্ল্যাক’ হয়ে ‘ছলক’ এসে থামে। ছলক শব্দের জমানায় আমি সেই গ্রামে তশরিফ নেই। বাচ্চাদের দুষ্টুমি পরিবর্তনে কাজ করতে থাকি এবং এক পর্যায়ে বেশীর ভাগ বাচ্চাদের মসজিদ মুখি করতে সক্ষম হই!

ফজরের নামাজে সবাইকে ‘ছলাত’ বলে বলে মসজিদে আসতে তাগিদ দেই। কাজ হয়! মুসল্লি বাড়ে! বুড়োদের খবর নাই তবে শিশু মুসল্লির সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে রইল! একদা ‘ছলক’ চৌধুরী ফজরের নামাজের ওয়াক্তে বাচ্চা মুসল্লিদের উপর হামলে পড়ল। ছলক চৌধুরী আইন করলেন তাদের মসজিদে যেন আর বাচ্চা মুসল্লিরা নামাজ পড়তে না আসে।

ঘটনা কি? বিচারে জানা গেল, বাচ্চারা সকালে নামাজ পড়তে এসে ‘ছলক’ বলে বলে চিল্লায়। বাচ্চারা দাবী করল আমরা বলি ‘ছলাত’! মুহূর্তে ‘ছলক’ চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে সবার সামনে বলল, শুনছ! তোমাদের সামনেই আমাকে বেইজ্জত করছে।

নামাজ শব্দের বিশুদ্ধ আরবি ‘ছলাত’ এটা চৌধুরী সাহেব জানতেন না, তাই তিনি শুনতেন বাচ্চারা হয়ত ‘ছলক’ বলছে!

ছাত্রজীবনের একটি পর্যায়ে যখন সে এলাকা ত্যাগ করি, ততদিনে বাচ্চারা সবাই নামাজী হয়ে গেছে কিন্তু মুরুব্বীরা অহর্নিশি আমাকে বদদোয়া করতে থাকে এই বলে যে, ‘সুন্নি মনে করে তাকে এলাকায় জায়গা দিয়েছিলাম! ছেলেদের নামাজী বানিয়েছে ভাল কথা কিন্তু সব ছেলেদের আকিদা বরবাদ করে দিয়ে, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের বিরুদ্ধে ছেলেদের বিষিয়ে দিয়ে গেছে। এখন ছেলেরা পীর মানেনা! অলী মানেনা! এটাই হল সবচেয়ে বড় সর্বনাশ, যা কোনদিন শোধ করা যাবেনা।

Previous Post

যেভাবে পশু ডাক্তার হলাম! পর্ব-৩৩ (ধারাবাহিক রোমাঞ্চকর কাহিনী – এক পিকুলিয়ার মানুষ)

Next Post

শিল্প-বিপ্লবোত্তর নারী জাতীর অবস্থা নজরুল ইসলাম টিপু

Discussion about this post

নতুন লেখা

  • জ্বালানী তেল যেভাবে তৈরি হয়
  • শাহ পদবীটা বিরাট অদ্ভুত
  • তীর তথা ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বলিয়ান হতে স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।
  • তসবিহ দানা বৃত্তান্ত!
  • হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী দেওবন্দি ও বেরেলভী আকিদার সূত্রপাত

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় লেখা

No Content Available

নজরুল ইসলাম টিপু

লেখক পরিচিতি । গাছের ছায়া । DraftingCare

Facebook Twitter Linkedin
© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.
No Result
View All Result
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি

© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.