বেশী কথায় বন্ধুত্ব কমে! মানব চরিত্রের একটি বিদঘুটে উপাদান হল, কথা বলে মাঠ দখলে রাখার প্রবণতা। তিনি একাই কথা বলে যাবেন, অন্যরা বাধ্য হয়ে শুনতে হবে। কোন কৌতুক-প্রদ ঘটনা কার আগে কে বলবে, তার জন্য অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। একজন সুযোগ পেলে অন্যজন তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। কিন্তু মাঠ দখলের এই প্রবণতায়, শ্রোতার অনুভূতি কি তা ভুলেও জানার চেষ্টা করেনা। গুরুত্বও বুঝতে চায় না। হয়ত মেহমান হয়ে কারো বাসায় বেড়াতে গেলেন। দেখা যাবে তিনি আপনার সম্পর্কে কোন প্রশ্ন না করে, নিজের কথাই বলা শুরু করেছেন। এতে মেহমানেরা খুব কষ্ট পায় ফলে দ্বিতীয়বার এই বাড়ির মেহমান হবে না। এ ধরনের মানুষ কখনও ধাতস্থ হয়ে শ্রোতাকে প্রশ্ন করেন;
ভাই, আপনি তো কিছু বললেন না?
এ কথায় লজ্জিত হয়ে বলেন, ওহ! এটা আমার বদ অভ্যাসের একটা। তা আপনি কেমন আছেন? কোন কাজে এসেছেন কি? তবুও এসব মানুষ আবারো নিজের বলার মাঝে হারিয়ে যায়। ত্রিশ সেকেন্ড আগানো মাত্র অমনি সে কথা কেড়ে নিয়ে, নিজের আবার কথা বলা শুরু করেন।
হয়ত ফোন করেছেন নিজে, অন্য-প্রান্ত থেকে হালকা কুশলাদি জানার পরই, শুরু হয়ে যায় উল্টো তার বক্তব্য প্রদান। দুঃখের কথা বলতে গিয়েছেন? তিন বাক্য বলার সুযোগ হয়েছে। অমনি শুরু হবে একই বিষয়ে তার অভিজ্ঞতালব্ধ পাওয়া, পাল্টা উদাহরণের পাল্লা। উল্টো নিজেকেই আরো কিছু কথা শুনে, বিফল মনোরথে ফিরতে হয়। রোগী দেখা পরবর্তী কিছু আন্তরিক পরামর্শ দিতে গিয়ে দেখা যাবে, রোগীর কাছের মানুষেরাই কথা কেড়ে নিয়ে উল্টো রোগীকে অসচেতন, বেকুব বানিয়ে ফেলেছে। এমন দৃশ্য চোখে পড়বেই।
এটা চরম অসুখী মানুষের লক্ষণ। নিজে থেকে কথা বলার কারণে শুরুতে এরা মিশুক হিসেবে পরিচিতি পায়। ফলে শুরুতেই এরা অন্যের দৃষ্টিতে পড়ে যায়। সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরুতে এরা খুবই পারদর্শী কিন্তু শেষ দৃশ্য এদের খুবই কষ্টকর হয়। এদেরকে উপদ্রব ভাবা হবে। অন্যের মন বুঝতে চেষ্টা করে না বলে দিনে দিনে বন্ধুর সংখ্যা কমতে থাকে। উত্তম বন্ধু তারাই, গভীর মনোনিবেশের সাথে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনে এবং নিজের কথা আন্তরিকতার সাথে বলে। তারাও বলেও আবার শোনেও। এদের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশী।


Discussion about this post