১৯৪৭ এর আগ পর্যন্ত বাংলার ৯০ শতাংশ মুসলিম ছিল কৃষিজীবি। আর হিন্দুদের ৬০ শতাংশের বেশী ছিল ব্যবসায়ী। আবার সকল জমিদার ছিল হিন্দু। তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তারও আবার হিন্দু।
ওদিকে বাংলার মুসলিম কৃষকদের ছেলেরা সামরিক বাহিনীতে ঢুকার ক্ষেত্রেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। তার উপরে কোন সরকারী চাকুরী পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছিল পিছিয়ে।
মুসলিম প্রজাদের জমিদার বাড়ীর সামনে দিয়ে যাবার সময় ছিল নানা নিষেধাজ্ঞা। তার মধ্যে তিনটি ধরণ উল্লেখে করা হল।
১. জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মুসলমান প্রজাদের জুতো খুলে খালি পায়ে যেতে হতো এবং ছাতা মাথায় দেওয়া নিষেধ ছিল। এটি ছিল জমিদারদের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের সামাজিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের একটি প্রতীক।
২. কর বা আবওয়াব: সাধারণ খাজনার বাইরেও জমিদাররা বিভিন্ন অজুহাতে প্রজাদের উপর অতিরিক্ত কর বা “আবওয়াব” চাপিয়ে দিত। যেহেতু কৃষক ছিল মুসলমান, আর তারাই মূলত প্রজা। সেহেতু এটা তাদের উপরে মড়ার উপর খরার ঘায়ের মত হানা দিত। তার উপরে আবার জমিদারের বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে তার খরচ মেটানোর জন্য প্রজাদের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হতো।
৩. বেগার খাটা: প্রজাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে জমিদারের বিভিন্ন কাজে (যেমন, রাস্তা নির্মাণ, পুকুর খনন) বাধ্য করা হতো। এটি ছিল এক ধরনের দাসত্ব প্রথা। মুসলমান প্রজাদের বেগার খাটতেই হত কেননা জমিদারের দেওয়া জমিতেই প্রজারা চাষ করত।
যদি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন না হত। তাহলে আজো আমাদের মুক্তি আসত না। আজো আমাদের লড়তে হত ভারতীয় হিন্দুদের নিষ্পেষণে। পাকিস্তান আমলেই প্রথম বাংলার মুসলমানেরা সরকারী চাকুরীর মুখ দেখে এবং সামরিক বাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পায়। আস্তে আস্তে তাদের ছেলেরা শিক্ষা দীক্ষায় সুযোগ পেতে শুরু করে।
এসব কাহিনী আমাদের পড়া, আলোচনা, লেখালেখি থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান এমন কি এরশাদের আমলেও এসবের কিছু পাঠ্য বইয়ের অংশ ছিল। আস্তে আস্তে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় হিন্দুদের আচরণের কাহিনী শুনলে যে কোন মুসলমানের মনে খারাপ লাগবে। একটা ঘৃণা বোধ জাগবে, ওটা ভারতীয়রা ভালই জানে।
তাই তারা চায়, ১৯৪৭ পূর্ব কোন কাহিনী যেন বাংলাদেশের সাহিত্য, পত্র, পত্রিকা, আলোচনায় না আসে। কেউ যদি উৎসাহী হয়ে লিখে তার পিছনে তখন তারা খড়গহস্ত হয়ে উঠে।
তাই চলুন ১৯৪৭ পূর্ব ব্রিটিশ আমল নিয়ে আমরা আরে বেশী বেশী পড়ি, বেশী করে জানি, আমাদের দাদা তাদের পিতাদের জীবনের করুণ কাহিনীগুলো আত্মস্থ করি। এগুলো জানতেই হবে, কেননা তখন যাদের হাতে নিষ্পেষিত হয়েছি তারাই এখন আমাদের স্থায়ী প্রতিবেশী। তাহলেই আমরা স্বাধীনতার স্বাদ বুঝতে পারব। নচেৎ আবারো গোলামীতে আবদ্ধ হব।


Discussion about this post