রসুনের কথা বলার আগে একটি সুন্দর ঘটনার কথা আগে বলা হউক। সোলায়মান (আঃ) একদা এক জীনের সর্দারকে গ্রেফতার করে আনার জন্য নির্দেশ দিলেন। এই জ্বীনকে এক বাজারের মধ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রসুনের উপকারিতা
সে এক রসুন বিক্রেতার কাণ্ড দেখে হেঁসে ফেলে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেন তুমি হাসলে। সে বলল, রসুন বিক্রেতার অজ্ঞতা দেখে। কেননা সে চিনেনা কোন জিনিষে কি লুকিয়ে আছে, সে ঔষধ তথা রসুন বিক্রি করে, রোগ তথা পেয়াজ কিনে নিচ্ছিল! (তথ্য সূত্র জ্বীন জাতির ইতিহাস)
প্রাচীন কাল থেকেই রক্ত পাতলা করতে রসুনের ব্যবহার বরাবরই ছিল। কাচা রসুনের কড়া ঘ্রাণ অনেকের কাছে ভাল লাগে না। আবার কাচা রসুন খেলে মুখে ছিলে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
তাই কেউ রসুন তরকারিতে দিয়ে খায়, কেউ সিদ্ধ করে খায় এই পদ্ধতিতে রসুনের মূল গুন থাকেনা। শত বছরের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মানুষ রসুন কে খাওয়ার নিত্য নতুন পদ্ধতি বের করেছে। আজকে সে দিকেই দৃষ্টি দেব।
১. পৃথিবী বিখ্যাত ফাষ্টপুড কোম্পানি, পিজা হার্টের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। তাদের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আইটেমের একটি হল ‘রসুন ব্রেড’। পাউরুটির স্লাইসের মধ্যে চিজ ও রসুনের প্রলেপ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি এই ব্রেড। যত ইচ্ছে খাওয়া যায় কখনও মুখের টেস্ট নষ্ট হয়না। বিশেষ করে রসুনের ঘ্রাণটি খুবই উপাদেয় লাগে। শুধুমাত্র রসুনের কারণেই এই ব্রেড সারা বিশ্বের সুনাম কুড়িয়েছে।
২. রসুনের ‘থউম’। রসুন দিয়ে তৈরি একটি আচার। এটি মূলত লেবাননের মানুষদের প্রিয় খাবার। ডায়াবেটিস রোগীদের আটার রুটি খেতে বলা হয়। আটা অনেকের পছন্দ নয়। তাদের জন্য উত্তম খাবার হল এই ‘থউম’। এটাতে রসুনের হালকা-পাতলা ঘ্রাণ বের হয়। তবে শুধুমাত্র রুটি দিয়েই এই জিনিষটি দারুণ ভাবে উপভোগ করা যায়।
লেবাননের দোকান গুলোতে মাছ-মাংস থাকার পরও অনেকেই শুধুমাত্র ‘থউম’ দিয়েই রুটি খেয়ে ফেলে। আরব দেশের শপিং মলগুলোতে এবং সকল প্রকার আরবি দোকানে থউমের ব্যবহার বরাবরই অগ্রগামী। পেয়াজি, সিঙ্গারা, চমুচার সাথে এর কোন বিকল্প জুড়ি নেই। এটি ঘরে বানানো একেবারেই সহজ। একবার বানালেই ফ্রিজে রেখে সপ্তাহ দশ দিন ধরে খাওয়া যায়।
৩. রসুন ফ্রাই দারুন উপাদেয়। চনাচুর ও মুড়মুড়ে জিনিষের সাথে রসুন ফ্রাই মনে প্রফুল্লতা আনয়ন করে। অনেকে পানি ভাত কিংবা পোলাওয়ের সাথে সুখকর অনুভূতি সৃষ্টি করে।
ইউরোপের বহু কোম্পানী তাদের মচমচে বিস্কিটের মধ্যে রসুনের গুড়ো মিশিয়ে দেয়। এটা মানুষের ক্লান্ত দূর করে। সুটকী ভর্তায়, ফ্রাই রসুনের উপাদান খুবই ভাল লাগে।
৪. যাদের ঘুমের ঘোরে ভুতে ধরে অর্থাৎ যাকে স্থানীয় ভাষায় বোবা ধরা বলে। তারা যদি নিয়মিত কিছুদিন রসুনের পেস্ট খায় তাদের এই রোগ থেকে মুক্তি মিলে।
নেট ঘাটাঘাটি করে রসুনের আরো কিছু উপকারিতার কথা বের করে আনা হয়েছে, চলুন চোখ ফিরিয়ে দেখি। রসুনের উপকারিতা
– দৈনিক চার কোয়া করে খেলে, উচ্চ-রক্তচাপ কমানোর ওষুধের সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারে।
– এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা ১০–১৫ শতাংশ কমে যায়।
– রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা বিপাকীয় ক্রিয়া দূর করে।
– যে সব হৃদরোগী নিয়মিত রসুন খায়, তারা অনেক বেশি অ্যাকটিভ থাকে।
– সংক্রমণ জনিত রোগ কম হয়, আয়ু বাড়ে।
– মহিলাদের ইস্ট্রোজেন লেভেল বেড়ে হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল হয় বলে ধারণা করা হয়।
জার্নাল অফ এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত প্রবন্ধে কাঁচা ও শুকনো রসুনের প্রভাব বিচার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ল্যাবরেটরিতে বড় হওয়া দু’দল ইঁদুরের মধ্যে এক দলকে বেশ কিছু দিন ধরে খাওয়ানো হয় টাটকা কাঁচা রসুন, আর এক দলকে শুকনো রসুন।
এর পর তাদের মধ্যে হালকা হার্ট অ্যাটাক সৃষ্টি করিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেন, কোন গ্রুপের ইঁদুর কি ভাবে সামলাচ্ছে এর ধাক্কা৷ দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের ফলে অক্সিজেনের অভাবে হার্টের পেশির যে ক্ষতি হয়েছে, দু’দল ইঁদুরই তা সামলেছে প্রায় একই রকম দক্ষতায়।
তবে যারা কাঁচা রসুন খেয়েছিল, এই বিপর্যয়ের পরেও তাদের হার্টের মূল ধমনী দিয়ে রক্ত সঞ্চালন বেশি ভাল ভাবে হয়েছে ও হার্টের মধ্যে এমন কিছু পরিবর্তন হয়েছে যাতে চট করে রোগের ধকল সামলে উঠেছে তারা।
এ ব্যাপারে মানুষের ওপর পরীক্ষা এখনও না হলেও মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায়, কাঁচা রসুনের যত উপকার, প্রক্রিয়াকরণের পরে আর তত থাকে না।




Discussion about this post