বাঁশ ফলে ইঁদুরের যৌবন

বাঁশ চিনেনা এমন চালাক মানুষ বাংলাদেশে একজনও নেই। তবে বাঁশের ফুল দেখেনি এমন মানুষের সংখ্যা অগণিত। বাঁশে ফুল হয় এই কথা যখন আমি শুনি, কথাটি তখন আমার কাছেও তাজ্জব ও অবিশ্বাস লেগেছিল! বাঁশ আর ইঁদুর লিখতে চন্দ্রবিন্দু লাগে। সেভাবে বাঁশ আর ইঁদুরের মধ্যেও আছে একটি গুরুত্বপূর্ন সর্ম্পক।
মূলত বাঁশের ফুল প্রতি বছরে আসেনা, তাই বাঁশ ফুল ব্যাপারটি সচরাচর কারো নজরে আসেনা। কিছু বাঁশ তিন বছর, কোন বাঁশে পঞ্চাশ বছর এমনকি সোয়াশো বছর পরেও বাঁশে ফুল আসতে পারে।
বাঁশে ফুল আসার কোন গাণিতিক নিয়ম নেই। কোন এক বাঁশে ফুল আসা শুরু হলে আশে-পাশের সকল বাঁশেই ফুল দেখা যায়। এই ফুল থেকে আসে ফল। আকারে ছোট পেয়ারার মত।
বাঁশের ফুল আসা মানে, সে বাঁশ বাগান নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া বুঝায়। মা বাঁশ ফুল দিতে গিয়ে একেবারেই দুর্বল হয়ে পরে, অতঃপর মারা যায়।
বাঁশ রীতিমত কাটলে ফুল আসার এই প্রবণতা কিছুটা রোধ করা যায় কিন্তু ঘন জঙ্গলে এক কাজ করার সাধ্য খুবই সীমিত।
 
বাঁশে যখন ফুল আসে, তখন কৃষকদের মাথায় হাত পড়ে, তারা দুর্ভিক্ষের আশঙ্ক্ষায় দুঃচিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাঁশে ফুল আসা মানে, সে বনের বাঁশের গোষ্ঠী সমূলে ধ্বংস হওয়া।
তারপরের বছর থেকে আর কোনদিন সে বনে বাঁশ জন্মাবে না। তাজ্জবের কথা! কৃষকের দুঃচিন্তা কিন্তু বাঁশের অস্তিত্ব বিলীন নিয়ে নয়! দুঃচিন্তা অন্য খানে।
বাঁশ ফল কোন প্রাণী খায়না কিন্তু ইঁদুরের কাছে এটা খুবই পছন্দের খাবার। এরা গাছে বসে খায়, গাছের নিচের গুলো খায় এমনকি মাটিতে ঢুকে আছে এমন পুরানো বাঁশ ফল খাবার জন্য পাগল পারা হয়ে যায়।
এই বাঁশ ফলে রয়েছে এমন একটি রাসায়নিক উপাদান, যা ইঁদুরের দেহে প্রবেশ করলে; সকল বয়েসি ইঁদুরের দেহে নব যৌবনের সূচনা হয়। বালিকা, বৃদ্ধা, শিশু, বন্ধ্যা সকল ইঁদুরের অসম্ভব প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যায়।
এতে করে তারা পরবর্তী কয়েক বছর অগণিত ইঁদুরের জন্ম দেয়। সারা জঙ্গল ও জনপদে ইঁদুর বিস্ফোরণ ঘটে। বাঁশ ফল খাওয়ার পরে এত ইঁদুরের জন্ম হয়, যাদের দলবদ্ধ পাদচারণাকে ইঁদুর বন্যা বলে।
এই ইঁদুর কৃষকের ফসলের মাঠ ও বাড়ীর সম্পদের সর্বনাশ করে। ধনী চাষিকে গরীব বানিয়ে ছাড়ে। এত কিছুর মাঝেও ইঁদুরের এই সর্বনাশে দীর্ঘমেয়াদী উপকার ও আছে।
ইঁদুরের বিশ্রামের সময়ে বাঁশ বাগানের, বাঁশের পরিত্যক্ত গোরা গুলো কাটতে থাকবে, মাটিতে গর্ত করে, মাটিকে ঝুরঝুর করবে। কয়েক বছরের বৃষ্টির পর মাটি আবারো উর্বর ও নরম হবে।
ইঁদুরের মাধ্যমে ঝুরঝুরে হওয়া মাটিতে, নতুন করে আবার বাঁশ বাগানের জন্ম হবে। এটা আল্লাহর একটি রহমত ও বাঁশের বংশ টিকিয়ে রাখার অভিনব কৌশল।
পৃথিবীর সকল সৃষ্টি একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। বাঁশ ও ইঁদুরের ব্যাপারটিও সে রকমের একটি।