ওভেন এখন আভিজাত্যের প্রতীক। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে এখন ওভেনের ব্যবহার বাড়ছে। শখের চাহিদার মধ্যে ফ্রিজের পরেই ওভেনের স্থান। অপ্রচলিত জিনিষ বলে অনেক শিক্ষিত মানুষেরাও ওভেনের ব্যবহার জানেনা। তার মধ্যে বাজারে আছে আবার কয়েক প্রকারের ওভেন। কোন ওভেনের কি কাজ, এটা জানতেও সময় লাগে।
হয়ত অনেক ভাবতে পারেন সামাজিকতা নিয়ে লিখি, তাই বলে কি ওভেন নিয়েও লিখতে হবে? মূলত ওভেনের প্রকার ও ব্যবহার বাড়তে থাকবে ও সামনের দিনগুলোতে এটা সামাজিক সমস্যায় রূপ নিবে। তাই আজকের পোষ্ট। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অধ্যয়নের আলোকে এই পোষ্ট সাজানো হয়েছে। সামাজিকতা ও নিয়েও লেখা হবে আবার অনেকের মনের কথাগুলোর উত্তর পেয়ে যাবে। পোষ্টটি ঠিক সেই প্রবাদের মত, ‘কলাও বেচা হবে, রথও দেখা যাবে’।
ওভেনের বাংলা অর্থ হল ‘তন্দুর’। বেকারিতে কেক বানানোর জন্য বিশেষায়িত যে বৃহদাকার চুলা বানানো হয়, সেই তন্দুর হল আধুনিক ওভেনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সেই বড় তন্দুরকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে ছোট করে রান্নাঘরের উপযোগী করে বানানো হয়েছে বলে মানুষের কাছে এর চাহিদা ব্যাপক।
এসব ওভেন গুলো তিন প্রকারের। ইলেকট্রিক ওভেন, গ্যাসীয় ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন। ইলেকট্রিক ও গ্যাস ওভেন দুটো প্রায় কাছাকাছি ধরনের কাজ করে থাকে। ভিন্নতা আছে শুধু মাইক্রোওয়েভে।
– ইলেকট্রিক ওভেনের ভিতরে, হিটারের মত কয়েল থাকে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে সেই কয়েল যখন গরম হয়, তখন ওভেনের ভিতরের পরিবেশ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। সেই উত্তপ্ত পরিবেশে মানুষ নিজের কাজ সেড়ে নেয়।
– গ্যাসীয় ওভেনের পেটের ভিতরে আগুন জ্বালানো হয়। সে আগুনের তাপে ওভেনের ভিতর ধীরে ধীরে গরম হয়। ঠিক চুলার মতই গরম হয়ে উঠে এর পরিবেশ। এটাও ঠিক ইলেকট্রিক ওভেনের একটি বিকল্প। এসব ওভেন দেখতে আলমারির মত। উপরে চুলা থাকে, সেসব চুলাতে রান্নার কাজ চলে। নিচের পেটে আগুন জ্বালিয়ে গরম করা হয়।
উপরের দুটো ওভেন গরম হতে সময় লাগে বেশী, গ্যাস বিদ্যুতের খরচও বেশী। দুটোর কার্যকারিতা ঠিক চুলোর আগুনের মত বলে আলোচনা সহজের জন্য উভয় ওভেনকে আমরা ইলেকট্রিক ওভেন বলব।
– মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভিতরের একটি নির্দিষ্ট স্থানের বাতাসের অণুগুলিকে সংক্ষিপ্ত সময়ে ভয়ানক ভাবে কম্পন ঘটানো হয়। ভয়ানক কম্পনের ফলে উপস্থিত অণুগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, ফলে সৃষ্টি হয় প্রবল কৃত্রিম তাপের। সেই তাপের সাহায্যে মানুষ উপকার নেয়। সময় ও বিদ্যুৎের সাশ্রয় হয় বেশী।
দৃশ্যত মনে হতে পারে এটাতে খাবার জিনিষ গরম হয়েছে কিন্তু এই পদ্ধতি কিছু ক্ষেত্রে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী নয়। মানুষ মূলত খাদ্য বস্তু আগুনের তাপে গরম করে খায়। এটাতে সে অভ্যস্ত। ওভেনের তাপ সে শর্ত পূরণ করেনা, এটা ভিন্ন ধরনের একটি গরম। ব্যাপারটি সাদামাটা ভাবে বুঝার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যায়।
আরব দেশের ভয়ঙ্কর গরমের সময় যদি রান্না করা বাসি তরকারীর ডেকচি পাথরের উপর বসিয়ে রাখা হয়। তাহলে উপরের প্রখর রৌদ্রতাপ ও নিচের পাথরের গরমে সেই তরকারীও সিদ্ধ হতে থাকবে এবং খাবার উপযোগী গরম হয়ে উঠবে। এই গরমটা সৃষ্টি হয় তাপমাত্রার মাধ্যমে, সরাসরি আগুনের তাপের মাধ্যমে নয়। প্রবল তাপমাত্রার সাহায্যে তরকারী গরম হলেও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপাদেয় নাও হতে পারে। মাইক্রোওয়েভের গরম হুবহু এটার মত না হলেও রাসায়নিক বিক্রিয়ার কাজটা প্রায় এটার মতই হয়ে থাকে।
ওভেনের কারিগরি কার্যক্ষমতা:
– এক গ্লাস পানি গরম করতে ইলেকট্রিক ওভেনে বিশ মিনিট লাগতে পারে কিন্তু মাইক্রোওয়েভে তা এক মিনিটে হয়ে যায়।
– এক কেজি ঠাণ্ডা ভাত গরম করতে ইলেকট্রিক ওভেনে ত্রিশ মিনিট লাগতে পারে কিন্তু মাইক্রোওয়েভে মাত্র তিন মিনিট লাগতে পারে।
– ফ্রিজ থেকে বের করা এক বাটি ঠাণ্ডা তরকারী ইলেকট্রিক ওভেনে গরম করতে চল্লিশ মিনিট লাগতে পারে কিন্তু মাইক্রোওয়েভে লাগবে চার মিনিট।
প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে ইলেকট্রিক ওভেনের দরকার কি?
এর সরাসরি উত্তর হল, প্রতিটি ওভেনের কার্যক্রম ভিন্ন। ভিন্নতাকে সামনে রেখে এগুলো বানানো হলেও সবগুলো ওভেনের সাহায্যে গরম করা যায় কিন্তু কোন ওভেনেই ফ্রাই করা যায় না!
ওভেনের আভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য
– ইলেকট্রিক ওভেন গরম হতে সময় লাগে সেভাবে ঠাণ্ডা করতেও সময় লাগে। ফলে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাস জ্বালাতে হয়। এটার কার্যকারিতা ঠিক বেকারির তন্দুরের মতই। তাই এসব ওভেনে বিস্কিট, কেক, পাউরুটি, রুটি বানানো সহজসাধ্য হয়। পিৎজা বানাতে, মাংস গ্রিল করতে ও দই বানানোর জন্য এসব ওভেন খুবই কার্যকরী।
– মাইক্রোওয়েভ ওভেনের দেহ তেমন একটা গরম হয়না কিছু গরম করলেও দরজা খোলার পরপরই স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটা চালু হলে, তাপমাত্রা সেকেন্ডে সেকেন্ডে পরিবর্তন হয়ে, ভিতরে রাখা জিনিষ গরম হয়ে যায়। বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় খুবই কম পরিমাণ। এই ওভেনে বিস্কিট, কেক, পাউরুটি, দই, পিৎজা বানানো যায় না এমনকি মাংসের গ্রিল ও হয় না। এই ওভেনে পানি সহসা গরম হয় বলে, তরল ও ভিজা জাতীয় জিনিষের জন্য খুবই উপযোগী। কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোন কিছু দ্রুত গরম করার জন্য এই ওভেনের জুড়ি নেই। তাই সারা দুনিয়াতে এটার কদর বেশী। আমাদের দেশেও সকল পরিবারে সর্বোচ্চ চাহিদা মাইক্রোওয়েভ কে ঘিরেই।
এই পর্যায়ে পাঠক হয়ত ভাবতে পারে, মাইক্রোওয়েভের ব্যবসা কিংবা খানার ব্যবসা করার ফন্দি আঁটছি কিনা! মোটেও তাই নয়। এটা সৃষ্টি হবার পরে মানুষের অজান্তে একটি ভয়ানক ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে সারা দুনিয়ায়। যা জানলে শরীর শিউরে উঠবে। সেটা ওভেনের কারণে নয় বরং মানুষের বিচিত্র খাসিয়তের কারণেই। আমার লক্ষ্য মানুষের সেই খাসিয়তকে কেন্দ্র করেই। মানুষকে সজাগ করতেই ওভেন সম্পর্কিত আজকের পোষ্টের অবতারণা।
অসতর্ক মানুষের খাসিয়ত যখন ওভেন নির্ভর হয়ে পড়ে তখন, নানাবিধ রোগের কারণ ঘটায়। এই বিষয়টি লিখাই মূল লক্ষ্য ছিল। সে বিষয়ে যাবার আগে আসুন কিছু ঘটনাচক্রের সাথে পরিচিত হই।
১. কোম্পানির একাউন্ট সাহেব সর্বদা পেট চেপে ধরে অফিস করেন। সপ্তাহের শুরুতেই তার এই ব্যথার প্রকোপ হয়। প্রশ্ন করাতে তিনি বললেন, “প্রতি বৃহস্পতিবারেই তো বসের বাসায় যেতে হয়। বসের সাথেই খানাপিনা চলে। কি জানি তারা কি দিয়ে রান্না করে। বলতেও পারিনা আপনার বাসায় খাব না, খেলেও বিপদ বাড়ে। বাসায় পৌছার আগেই পেটের ব্যথা শুরু হয়, তারপর পিচ্ছিল পায়খানা। কি তাজ্জব! শুধু শুক্রবারেই এই রোগের প্রকোপ, তাই বউয়ের ঘেন ঘেন! শনিবারে একটু ভাল লাগে অফিস করি। ভাই, এটা আমার সাপ্তাহিক রোগ।
আসল ঘটনা, তিনি চিংড়ি, মাছ, মাংস ভুনা খুব পছন্দ করেন। বিকাল বেলাতেই তিনি বসের বাসায় যান। ঘরের চাকরানী ভাজি করা জিনিষ যথাযথ ঠাণ্ডা হবার আগে তা ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখে এবং কিছুটা উষ্ণতা থাকার কারণে সে সব আবার বের করে গরম করা ছাড়াই পরিবেশন করে। এটাতেই তাই আমাশয়ের ভাব উঠে।
২. ভদ্রলোক ও গৃহিণী উভয়ই অতিথিপরায়ণ। শুক্রবারে অনেক অতিথি আসবে। তাই মঙ্গলবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন। সুযোগ মত রান্না করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। কাবাব, কোর্মা, মাংস ভুনা, মাছ ফ্রাই আরো কত কি! মেহমান আসার পরে সকল খাদ্য ফ্রিজ থেকে বের করে, ওভেনে গরম করে পরিবেশন করা হল। এতে বেশীর ভাগ মেহমানের পেটের পীড়া দেখা দেয়। অসুস্থতার খবর শোনার পরও ভদ্রমহিলা জানালেন, তারা যে দোকান থেকে বাজার করে, সে দোকানদার সৎ মানুষ, তারা খাদ্যে ভেজাল মেশায় না।
আসল ব্যাপার হল, ফ্রিজ থেকে বের করা খাদ্য অবশ্যই চুলার আগুনে গরম করতে হবে। অনেক আইটেম পুনরায় গরম করাও সময় সাপেক্ষ। তিনি এই গরমের কাজটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মাধ্যমে সেরে নিলেন। এতে তরকারীর তাজা ঘ্রাণ থাকে কিন্তু এই বাসী তরকারীর ব্যাকটেরিয়া জীবাণু কখনও মরে না।
৩. সাহেবের পেটের ব্যথা কোনমতে যায় না। তার উপর যোগ হয়েছে পাতলা পিচ্ছিল পায়খানা। ঘরণী শতভাগ নিশ্চিত তার রান্না করা খাদ্যে কোন দুর্বলতা ছিলনা। সাহেব তো সুস্থ হয় নাই অধিকন্তু দু’দিন পরে ম্যাডামের পেটের ব্যথা শুরু হয়! ভাবলেন, খাদ্যে কোন সমস্যা আছে। তাই সমুদয় কাঁচা বাজার, মাছ গোশত, মসল্লা পরিবর্তন করে আবার নতুন করে বাজার করলেন। কিছুতে কিছুই হল না, দুই দিন পরে ছেলেও বলে, তার পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। ডাক্তার ঔষধ দেবার পরে পায়খানাটা একটু ঠিক হয় বটে, পরিপূর্ণ ব্যথা সাড়ার কোন লক্ষণ নাই।
মূল ঘটনা হল, তারা নতুন কোম্পানির ব্যাপক বিজ্ঞাপন প্রচারণা দেখে, ভেজিটেবল ভোজ্য তৈল ঘরে এনেছিলেন। আসলে ভেজিটেবল তৈলের আড়ালে এসব হল ‘পাম’ তৈল। আগে পাম অয়েল দিয়ে শুধু সাবান বানানো হত। বিজ্ঞানের পরিবর্তিত যুগে এখন পাম তৈলকে খাবার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছে। এ তৈল পরিবর্তন, পরিশোধন করে নতুন নাম ভেজিটেবল লাগিয়ে মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে। বানানো হচ্ছে কনডেন্সড মিল্ক। এই তৈল দুর্বল মানুষের পেট হজম করতে পারেনা। একটু বাসী হলেই তৈল চর্বির মত জমাট বেধে যায়। পরবর্তীতে এই পরিবার তৈল বদলিয়ে ফেলে। এতে করে রোগ ভাল হয়ে যায়।
৪. দেশে গিয়ে নিজেই সস্ত্রীক বাহারি ফাস্টফুডের দোকানে মেহমান নিয়ে ঢুকেছিলাম। বার্গার, স্যান্ডউইচ, চিকেন রোল, চিকেন সমুচা আরো কত কি? ভিন দেশে সারা জীবন ভর এসব খেয়েই ত্যক্ত বিরক্ত হয়েছিলাম। তাই চোখ গেল সমুচা সিঙ্গারার দিকে। মেহমানের পছন্দ বার্গার। তিনি বার্গারে কামড় দিতেই সেই পরিচিত বাসি ঘ্রাণ পেলাম। তাই প্রশ্ন করলাম এসব কবেকার? বললেন, সকালের। অর্থাৎ চার ঘণ্টা আগের। বিদ্যুতের ভাল্ব বসিয়ে উষ্ণ রাখা হয়েছে। ততক্ষণে মেহমানের বার্গার শেষ! সমুচাটা কেমন জানি বিস্বাদ! খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই উভয়ে অসুস্থ হয়ে গেলাম। পরবর্তীতে একই এলাকায় কয়েকটি দোকানের কার্যক্রম লক্ষ্য রাখার সুযোগ হয়।
আসল ঘটনা ছিল, বিকাল বেলা অবধি যেসব সমুচা, সিঙ্গারা বিক্রি হয়নি। তা ফ্রিজে ঢুকানো হয়েছিল। সকাল দশটার দিকে সে সব বের করে গরম তেলে আবারো ভাজা হয়। উত্তপ্ত তেল এসব সমুচা-সিঙ্গারার চামড়াকে তপ্ত করতে পেরেছিল কিন্তু ভিতরের মাল-মসল্লার গায়ে গরমই লাগেনি। এসব বাসি হয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার উপর কতদিনের পুরানো তেল, কিসের তেল এই প্রশ্ন-তো ছিলই। দোকানদারের কথাও ঠিক, সে সকালেই এসব গরম করেছে, জনগণ দেখেছে, সুতরাং জিনিষগুলো ফ্রেশ!
নিশ্চয়ই এসব ঘটনা বাংলাদেশের জীবনে নতুন কোন কাহিনী নয়। সবাই দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু এ ধরনের খাদ্য আমাশয় রোগ তো তৈরি করে অধিকন্তু কোলন ক্যান্সারের কারণ হচ্ছে। গত কয়েক বছরে আমার জানা শোনা এবং আত্মীয় কোলন ক্যান্সারে মারা গেছে। আরো কয়েকজন অসুস্থ আছে। তাদের এই রোগ কেন হয়েছে জানিনা তবে তাদের সকলের কাছে তৈলাক্ত বাসি খানা খাওয়ার অভ্যাস ছিল!
প্রবাস জীবনের শ্রমিকেরা রাত্রের খানা খাবার পরে, একটি পলিথিন ব্যাগে পরবর্তী দুপুরের জন্য প্যাকেট করে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখে। কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য ওভেনের ব্যবস্থা আছে। তারা দুপুরে সেই খাদ্য ওভেনে গরম করে খায়। ওভেনের গরমে প্রতিটি প্যাকেট থেকেই ঝাঁঝালো ঘ্রাণ বের হয়। এটা বাসি তরকারীর নিম্নতম পর্যায়। অর্থাৎ নষ্ট হওয়া শুরু হয়েছে। তারা পরিশ্রমী বলে, হজম হয়ে যায় কিন্তু সবাই কম বেশী পেটের রোগে ভোগে। গ্যাস্ট্রিক মনে করে ওমিওপ্রাজল আর রেনিটিডিন খেতে থাকে। প্রবাসীরা কেজি কেজি এসব ঔষধ দেশ থেকে নিয়ে আসে। ইদানীং কোলন ক্যান্সারের প্রভাব এখানেও দৃশ্যমান।
বাসি খানাকে ঠিক করার জন্য, অবশ্যই চুলার আগুন তথা আগুনের তাপে গরম করতে হবে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের তাপে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস নষ্ট হয়না। মাইক্রোওয়েভে তৈলাক্ত তরকারী অনেক গরম হয় বটে কিন্তু সে তরকারী খেলে অসুস্থ হতে হবেই। কেননা সেই গরম আর আগুনের গরমের মধ্যে তফাৎ আছে। মানুষের জন্য উপাদেয় হল আগুনের গরম। তার মধ্যে ফ্রিজ থেকে বের করে মাছ-গোশত খেলেতো স্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপদ আসবেই।
চুলা ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম হবার প্রকারভেদ:
ধরুন গৃহিণী মাংসের একটি টুকরা চুলায় রাখল। ইলেকট্রিক কিংবা গ্যাস ওভেনের বেলায়ও এই কথা প্রযোজ্য। মাংস টুকরা প্রথমে বাহিরের চারিদিকে গরম হতে থাকবে এবং আস্তে আস্তে তা ভিতরের দিকে ঢুকতে থাকবে। এভাবে মসল্লার রসও ভিতরে ঢুকে। এতে ভিতরের চেয়ে, বাহিরের চামড়া বেশী গরম হবে। ব্যাকটেরিয়া প্রথমে বাহিরের আবরণেই আক্রমণ করে। সে কারণে চুলার আগুন ব্যাকটেরিয়া রোধে অনেক বেশী সহায়ক।
মাইক্রোওয়েভে ঘটে তার উল্টোটা। এই গরম রেডিয়েশনের মাধ্যমে ঘটে থাকে। ফলে প্রথমে গরম শুরু হবে মাংস টুকরার একদম ভিতর থেকে। ভিতর থেকে গরম বাহিরের দিকে আসতে থাকবে। কেউ দেখল মাইক্রোওয়েভে জিনিষ ঢুকানো হয়েছে কিন্তু ভাল করে গরম হয়নি। কামড় দিলে বুঝা যাবে ভিতরে জিনিষটি ভয়ঙ্কর গরম হয়ে আছে অথচ বাহিরের তেমন গরম নয়। ব্যাকটেরিয়া মরে প্রবল তাপ ও চাপের দ্বারা। এর কোনটাই মাইক্রোওয়েভে করা যায় না।
একটি ছোট্ট পরীক্ষা করতে পারেন। একটি সিদ্ধ ডিম যদি ইলেকট্রিক ওভেন, গ্যাসীয় ওভেন কিংবা চুলার উপরের ডেকচিতে রাখা হলে, এক পর্যায়ে ডিমের চামড়া পুড়তে থাকবে। মাইক্রোওয়েভে দিলে, সিদ্ধ ডিমটি তিন মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরিত হবে! না, ডিম বিস্ফোরণের চরম দুর্ঘটনার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে ওভেনটিকে ভাল করে পরিষ্কার করতে হয়ত, লম্বা সময় ব্যয় করতে হবে। এখানে তাপমাত্রার প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল ডিমের ভিতর থেকে, ডিম বাহিরের ঠাণ্ডা চামরা দিয়ে ভেতরের প্রচণ্ড গরম ধারণ করতে পারেনি, তাই বিস্ফোরণ।
ওদিকে ব্যাকটেরিয়া মরে তাপ ও চাপের দ্বারা, এটা আগুনের তাপেই সম্ভব। মাইক্রোওয়েভে সম্ভব নয়। ফলে খাদ্যে সৃষ্টি হওয়া বিষ ঠিকই খাদ্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। খাওয়া মাত্রই শুরু হবে রোগ বালাই। এই সমস্যাটি ওভেনের নয়, আমাদের না জানার ফল।
কিছু তথ্য:
শুকরের গোশতে ফিতাকৃমি থাকে। এটা কদাচিৎ মহিষ, গরু, ছাগল এমনকি মানুষের দেহেও ঢুকে পড়ে। একবার ঢুকলে সেটাকে আর মারা যায় না। এটা বহু লম্বা, দেখতে ফিতার মত, মাথাটি ব্লেডের মত ধারালো। মাংস, কলিজা, ফুসফুস সবই কেটে সামনে এগিয়ে চলে। মাঝখানে ছিঁড়ে গেলে দুটো কৃমির সৃষ্টি হয়। এভাবে যতই কাটা হবে ততই কৃমির সংখ্যা বাড়তে থাকে। শুকরের গোশতের টুকরার সাথে এটা মানুষের দেহে ঢুকে যেতে পারে। সেই গোশত চুলার তাপে দীর্ঘক্ষণ সিদ্ধ হলেও ফিতাকৃমি মরে না! তার জীবন পক্রিয়াটাই এ ধরণের। তবে আমাশয়ের জীবাণু চুলার আগুনে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং মরে যায়। কিন্তু মাইক্রোওয়েভের তাপের মরে না। এখানেই যত সমস্যার মূল।
তাহলে কি ওভেন ব্যবহার বন্ধ করা উচিত?
– বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ওভেনের গরম করা খাদ্যের ভিতরে কিছু রেডিয়েশন লুকিয়ে থাকে। এটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। ক্যান্সারের সুযোগ থাকে।
– সুখের বিষয় হল এই ক্ষতি শুরু হতে মানুষের বয়স দেড়শত বছর হতে হবে। যেহেতু তার আগেই মানুষ মরে যাবে। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে বাধা নেই।
– মাইক্রোওয়েভে পানি, রুটি, চিড়া, মুড়ি, ভাত গরম তথা শর্করা জাতিয় জিনিষ গরম করা নিরাপদ।
– মাছ-মাংস, ডিম, দুধ, তৈল ও চর্বিযুক্ত জিনিষ মাইক্রোওয়েভে গরম করে খেতে নেই। তবে,
– এসব জিনিষ গরম করার চার ঘণ্টার মধ্যে, মাইক্রোওয়েভে উষ্ণ করে খাওয়া যায়।
– কিন্তু বেশী সময়ের বাসী হলে অবশ্যই তা চুলার আগুনে গরম করতে হবে।
– চর্বি সর্বদা বিপজ্জনক, তাই এটা সকল ওভেনেই পরিহার করা উচিত।
– আমাশয় রোগকে হালকা ভাবে দেখা উচিত নয়।
– এসব রোগী কোথাও বেড়াতে গেলে, টয়লেট কোথায় আগে সে খবর নেয়।
– লম্বা ভ্রমণ তাদের জীবনের সাথে মানান সই হয়না।
– সুতরাং সামাজিকতার ভিতরে সুন্দরভাবে বসবাস করতে হলে আমাশয় মুক্ত থাকতে হবে।
– দীর্ঘদিনের আমাশয়ের ভাব কোলন ক্যান্সারের কারণ ঘটাবে।
– কোলন ক্যান্সার এমন এক রোগ যা কোটিপতিকে ফকির বানাবে আবার মেরেও ফেলবে।
– সুতরাং আধুনিক জীবন যেমন কাম্য, তেমনি কাম্য আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্যক জ্ঞান।
– সুখের বিষয় হল এই ক্ষতি শুরু হতে মানুষের বয়স দেড়শত বছর হতে হবে। যেহেতু তার আগেই মানুষ মরে যাবে। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে বাধা নেই।
– মাইক্রোওয়েভে পানি, রুটি, চিড়া, মুড়ি, ভাত গরম তথা শর্করা জাতিয় জিনিষ গরম করা নিরাপদ।
– মাছ-মাংস, ডিম, দুধ, তৈল ও চর্বিযুক্ত জিনিষ মাইক্রোওয়েভে গরম করে খেতে নেই। তবে,
– এসব জিনিষ গরম করার চার ঘণ্টার মধ্যে, মাইক্রোওয়েভে উষ্ণ করে খাওয়া যায়।
– কিন্তু বেশী সময়ের বাসী হলে অবশ্যই তা চুলার আগুনে গরম করতে হবে।
– চর্বি সর্বদা বিপজ্জনক, তাই এটা সকল ওভেনেই পরিহার করা উচিত।
– আমাশয় রোগকে হালকা ভাবে দেখা উচিত নয়।
– এসব রোগী কোথাও বেড়াতে গেলে, টয়লেট কোথায় আগে সে খবর নেয়।
– লম্বা ভ্রমণ তাদের জীবনের সাথে মানান সই হয়না।
– সুতরাং সামাজিকতার ভিতরে সুন্দরভাবে বসবাস করতে হলে আমাশয় মুক্ত থাকতে হবে।
– দীর্ঘদিনের আমাশয়ের ভাব কোলন ক্যান্সারের কারণ ঘটাবে।
– কোলন ক্যান্সার এমন এক রোগ যা কোটিপতিকে ফকির বানাবে আবার মেরেও ফেলবে।
– সুতরাং আধুনিক জীবন যেমন কাম্য, তেমনি কাম্য আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্যক জ্ঞান।
আমার অকৃত্রিম বন্ধু, বহুগুণের অধিকারী মাওলানা মাহবুবুর রহমান ২৬-০৬-২০১৯ তারিখে কোলন ক্যান্সারে মারা যান। বুকের সে ব্যাথার কারণে এই পোস্ট লিখতে বসি। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতে দাখিল করুন।


Discussion about this post