আমি সাধারণ চাকুরীজীবী। ব্যবসায়ের অগ্র-পশ্চাৎ কিছুই বুঝি না, তাই এসব নিয়ে মাথাও ঘামাই না। তাই বলে কোটিপতি হবার খায়েশ কার না থাকে! খুব সহজে, সহসা কোটিপতি হতে পারার ব্যবসায়ের কথা-বার্তা শুনে কান পেতেছিলাম।
শোনার পর বুঝলাম এটা আমার জন্য কঠিন হলেও, পেশাদারী ব্যবসায়ীর জন্য হয়ত কাজে আসতে পারে। ইউটিউব-ফেসবুকে বহু ব্যবসার কথা বলা হয়। আমি নিশ্চিত এই ব্যবসায়ের কথা কেউ কখনও বলেনা, তাই এই সহজ ব্যবসাটির কথা তুলে আনলাম।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লাইন আছে, পকেটে টাকা আছে, এক কোটি টাকাকে দশ কোটিতে পরিণত করার বাসনাও আছে; এমন এক ব্যক্তিকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন মাঠ পর্যায়ের এক ধুরন্ধর পাথর ব্যবসায়ী। তাদের কথাবার্তার সারমর্ম নিম্নরূপ:
ভাই, আপনার তো যথেষ্ট টাকা আছে সরকারী পর্যায়ে লাইন-টাইনও ভাল আছে। আপনি পাথর ব্যবসায়ের একটি লাইসেন্স করে নেন। এই ব্যবসায়ে আগা-গোড়াই লাভে ভরপুর। টন প্রতি তিনশত পঞ্চাশ টাকা দরে পাথর কিনে তিনশত চল্লিশ টাকা দরে বিক্রয় করলেও, বছর শেষে অনেক টাকা আয় হবে। এমনকি যে‘দামে ক্রয় সে দামে বিক্রয় করলেও টাকার পাহাড় জমে উঠবে।
এমন কথায়, অর্থশালী শ্রোতা পেশাদারী ব্যবসায়ী নড়ে-চড়ে বসলেন। কিভাবে হবে? অফিস খরচ, গাড়ী ভাড়া, তেল খরচ, ড্রাইভারের বেতন, লাইসেন্স ফি, স্পীড মানি (ঘুষ) এসবের টাকা তো শ্বশুর বাড়ী থেকে আনতে হবে? বলুন তো এই ব্যবসায়ের মূল রহস্য কি?
দেখুন ভাই এই ব্যবসায়ে, এত কিছু ভাবার দরকার নাই। শুধু “ম্যানেজ এণ্ড মেনটেইন” করতে হয়। আপনার লাইসেন্স আমরাই চালাব। ট্রাক ভরে সাত টন পাথর আনা হবে, ঘটনাস্থলে ঢেলে দেবার আগে দাবী করা হয় তের টন! এত বড় পাথর কে মাপতে যাবে? তাছাড়া মাপার মেশিন তো সর্বদা খারাপই থাকে! তাই এটা কেউ মেপেও দেখে না, দরকারও পড়েনা। কখনও পাথর ভর্তি ট্রাক থেকে পাথর না ফেলে বাহির থেকে ঘুরিয়ে এনে আবারও এন্ট্রি করিয়ে দেওয়া যায়। এসব একটু মেনটেইন করতে হয়। এভাবে দৈনিক একশত ট্রিপ মারতে পারলে, দেখবেন পাথরের পাহাড় বড় হবার আগে টাকার পাহাড় উঁচা হবে। হে, হে, হে
কি বলেন! কোন এক সময় তো ধরা পড়তে পারে? তখন জেল খেটেও পার পাওয়া যাবেনা!
কি যে বলেন ভাই, যে দামে কিনা সে দামে বেচার ব্যবসায়ে ওসব কর্মকর্তারা কারসাজি করে দামকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিজেদের পকেট ভারী করে নেয়। ওখানে ওদের ধান্ধাবাজিও আছে। ধরা পড়ে বিচার হলে তো প্রধান কর্তারই হবে। ছয়মাস জেলে থাকতে হয়, অন্যরা সবাই তার পরিবারের দায়িত্ব নেয়।
হাজার হাজার টন কয়লা যে খাওয়া হল! তা কি গিলে খাওয়া হয়েছে? মোটেও না! এসব তো হিসেবের খাতার মধ্যেই এভাবে খাওয়া হয়েছে। কয়েকজনের চাকুরী গেছে কিন্তু কামিয়েছে তো অনেক বেশী! তাই এই ব্যবসায়ে কোন রিস্ক নাই। চেয়ারে বসে থেকে সহসা কোটি টাকা কামানোর জন্য, দেশের মধ্যে নিরাপদ ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত এটাই উত্তম।


Discussion about this post