Tipu vai
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি
No Result
View All Result
নজরুল ইসলাম টিপু
No Result
View All Result

সুন্দর শিশু চরিত্র সৃষ্টিতে, ভাষা ও আচরণের ভূমিকা

জানুয়ারি ১৪, ২০১৯
in শিক্ষা
2 min read
0
শেয়ার করুন
        
শিশুর বয়স নয় মাসের মধ্যেই দাদ-দা, মাম-মা, বাব-বা শব্দ উচ্চারণ করে। শিশুদের কাছে এই শব্দ গুলোর কোন অর্থ নেই। পৃথিবীর সকল দেশের সকল শিশুরা এই উচ্চারণ করেই কথা বলার চেষ্টা করে। তারা লম্বা নিঃশ্বাস আটকাতে পারেনা বলে, প্রথমে দুই বর্ণের স্বর-শব্দ উচ্চারণের চেষ্টা করে। বাতাস টেনে, আটকিয়ে কিংবা বের করে, মুখ গহ্বরের অনেক স্থান থেকে শব্দ সৃষ্টি করা যায় কিন্তু শিশুরা সোজা পদ্ধতি তথা বাতাস বের করার মাধ্যমে জীবনের প্রথম উচ্চারণে সচেষ্ট হয়। জিহ্বার মাথা, ঠোটের ভিজা অংশই তাদের উচ্চারণের অন্যতম মাধ্যম। জিহ্বার সামনের অংশ দিয়ে ‘দাদা’ বলতে পারে কিন্তু তখনও জিহ্বা বাঁকা করতে শিখে নি বলে ‘নানা’ বলতে পারে না। কদাচিৎ শিশু ভিন্ন শব্দও উচ্চারণ করতে পারে সেটা ব্যতিক্রম।
 
শিশুর বার মাস বয়সের মধ্যেই, বাবা-মা শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারে। চেনা জানা কয়েকটি জিনিসের নাম বলতে চেষ্টা করে। ঘরে ভাই-বোনের নাম বেশী উচ্চারিত হয় বলে, শিশু তাদের মধ্যে সহজ শব্দটিকে উচ্চারণের জন্য বাছাই করে। সে প্রতিটি শব্দকেই মন-প্রাণ দিয়ে খেয়াল করে এবং নিজে নিজে উচ্চারণ করতে সচেষ্ট হয়। সে তার বড় বোন ‘লিয়া’ কে ‘আয়া’ নামে ডাকবে! কেননা শুরুতেই জিহ্বাকে বাঁকিয়ে ‘ল’ বলাটা শিশুর জন্য কষ্টসাধ্য। তাই সহজ স্বর-শব্দ ‘আ’ দিয়ে কাজ সারবে। লক্ষণীয় শিশুর আদুরে নামটিই অনেক সময় মা-বাবার ভাল লেগে যায়। ফলে তারাও লিয়া’কে আয়া বলে ডাকতে শুরু করে। একাজ মোটেও ঠিক নয়! কেননা শিশু তখন মতিভ্রমে আক্রান্ত হয়। সে কিন্তু শব্দটি লিয়াই শুনেছিল এবং লিয়া নামেই ডেকেছিল। উচ্চারণে পরিপুষ্ট হয়নি বলেই পিতা-মাতা আয়া শুনেছে! সেক্ষেত্রে শিশুকে আদর করে আয়া বলা শুরু করলে সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এই ভেবে যে, তাহলে সে কোন শব্দ উচ্চারণের চেষ্টা করবে? এমনিতেই শুরুতে শিশুর মগজে শব্দ ধারণ ভাণ্ডার কম তার উপর মতিভ্রম হলে সে উৎসাহ হারিয়ে, ভিন্ন আরেকটি শব্দ নিয়ে মাথা ঘামায়! এটা শিশুর সঠিক উচ্চারণ ও চিন্তাশক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
 
সচেতন পরিবারের একটি শিশু, আটার মাস বয়সের মধ্যে দুই অক্ষর বিশিষ্ট একক শব্দ উচ্চারণ করতে পারে। শিশুর এই বয়সে ঘরে বিশুদ্ধ উচ্চারণের পরিবেশ গড়ে তোলা ভাল। আঞ্চলিক শব্দ উচ্চারণ থেকে দূরে রাখতে পারলে পরবর্তীতে একাডেমিক ফল শুভ হয়। দুই বছরের মাথায় শব্দের সংখ্যা পঞ্চাশে গিয়ে পৌঁছে। তখন সে দুটি শব্দ যোগ করে ছোট বাক্য বানাতে চেষ্টা করে। যেমন, ভাত খাব, বল কই, পানি দাও ইত্যাদি। যে পরিবেশে মিশ্রিত শব্দের ব্যবহার আছে সেখানে শিশুর বাক্য জট ঘটে। শিশুর মগজে বাক্য জট কিংবা বাক্য জোড়া লাগাতে সমস্যা হলেই তারা তোতলা হয়! আঞ্চলিক পরিবেশে ‘ভাত ময়না’, ‘কদু’ শব্দ শিখে আবার বইয়ে শিখতে হয় ‘শালিক’ আর ‘লাউ’! দুটো জিনিষের চারটি নাম! শিশু বয়সে এই ভিন্নতাকে আলাদা করতে পারেনা ফলে বিভ্রান্তিতে পড়ে এই ভেবে যে, এতদিন কি জানলাম আর এখন কি পড়ায়? শিশু তখন বইয়ের কথায়ও বিশ্বাস আনতে পারেনা। বেতের ভয়ে জোড় করে পড়লেও তার হৃদয়ে ‘কদু’ আর ‘ভাত ময়না’ শব্দটি আসন গেড়ে বসে।
 
বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে উঠা কিছু অভিভাবকের অতি সতর্কতা হিসেবে চির চেনা কিছু জিনিষের নাম ইংরেজিতে পরিচয় করিয়ে দেয়। তারাও উপরোক্ত সমস্যায় পড়ে। সে সব শিশুদের অনেকেই জীবনের শুরুতেই একমনা হয়ে বেড়ে উঠার কারণ হতে পারে। কারো সাথে মেলা-মেশার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে। পিতা-মাতা বুঝতেই পারেনা অকালে একটি শিশুর মনকে কিভাবে থেঁতলে দিয়েছে! যে শিশু যে পরিবেশে বেড়ে উঠে, তাকে সেই পরিবেশের ভাষাতেই উত্তম উচ্চারণে শিক্ষা দিতে পারলেই মোটামুটি সফল বলে ধরা হবে। শিশু যখন তার মনের কথা, নিজের ভাষায় বুঝাতে পারে, তখন সে আনন্দিত হয়। ফলে ভাষা-গত যোগাযোগ বাড়ে, অন্যের মন বুঝা এবং নিজের কথা অন্যকে বুঝানোর দক্ষতা সৃষ্টি হয়। এতে সে দৃঢ় সাহসী হয়। মিশ্রিত ভাষায় বড় হওয়া শিশুরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
 
একদা আমার বাংলা জানা তিন বছরের শিশু ও একই বয়সী আমার বন্ধুর ইংরেজি জানা শিশুটি একটি কচ্ছপের ছবি এনে গৃহীনীর কাছে বিচার দিল। একজনের দাবী এটা ‘কচ্ছপ’ অন্যজনের দাবী এটা ‘টরটইস’। পুরো দিনে তারা সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে, কার কথা সঠিক সেটা নির্ধারণ করতে আমার সহধর্মীনির কাছে বিচার দিয়েছিল। দু’জনের কাছেই তিনি প্রিয়। আবার দুই জনের জানাটাও সঠিক। তাই দুই জনকে খুশী করার জন্য বলেছিল দু’টোই ঠিক। এই উত্তরে দু’জনের কেউ খুশী হয় নি! বরং সাথে সাথেই দু’জনই কান্নার সহিত প্রতিবাদ করে বলেছিল, তুমি মিথ্যা বলছ, আজ  থেকে তোমার কথায় বিশ্বাস নাই। শিশুরা এমনই! তাই তাদের যা বলা হয় তা যেন চিন্তা করেই করা হয়। শিশর মন যে সিদ্ধান্তে দৃঢ় হয়, বড় না হওয়া অবধি সেটা মনেই গেঁথে থাকে। কেউ কথা দিলে সেটা মনে রাখে। কেউ কিছু দিবে বললে সেটাকে আন্তরিকতার সহিত বিশ্বাস করে। মাতা-পিতা মিথ্য ছল দিয়ে তাদেরকে লোভ দেখায় এটা বিরাট আত্মঘাতি ব্যাপার। শিশুকালেই মাতা-পিতার উপর আস্তা হারাবে, ইহ জনমে যা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়! রাসুল (সা) বলেছেন, “ওয়াদা পূরণ করতে ব্যর্থ হবে এমন হলে, শিশুদের সাথে কখনও ওয়াদা করোনা।” পিতা-মাতাকে এটা সারাক্ষণ মাথায় রাখতে হবে।
সুপ্রিয় পাঠক, শিশুদের কোন বয়সে কি পরিক্রমা সেটা লিখা আমার লক্ষ্য নয়। এসব নিয়ে লিখা বই বাজারে প্রচুর আছে। আমার লক্ষ্য হল শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরা। শিশু তিন বছর বয়সে শব্দের পার্থক্য বুঝতে পারে, বাক্যে বিশেষ্য, সর্বনাম প্রয়োগ করতে শিখে। চার বছর পরে প্রশ্ন করতে শিখে। দুই বছর ধরে তার পেটে যত প্রশ্ন ঠাসা ছিল সবই শিকলের মত বের করতে থাকে। এসময় অনেক অভিভাবক বিরক্ত হয়ে সন্তানকে ধমক দেন। এটা বিরাট ভুল সিদ্ধান্ত! সন্তান যেহেতু জন্ম দেওয়া হয়েছে, তাহলে তার এসব প্রশ্নের যথাসম্ভব সদুত্তর দিতেই হবে। এটা মুরুব্বীদের দায়িত্ব। আপনি হয়ত শিশু বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন কিন্তু তার মনে এটা জানতে বিরাট ঝড় বইছে। শিশুর এই প্রশ্ন যে আগ্রহ ভরে শুনবে এবং যথাসম্ভব উত্তর দিবে বাকী জীবন তার কথাকেই বিশ্বাস করবে, তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে। পিতা-মাতা যতই দুধ-কলা খাওয়াক যদি শিশুকে মনের খোরাক না দেয় তাহলে সে বিকল্প খুঁজবেই। এটা শিশুদের দোষ নয় বরং পিতা-মাতার অসতর্কতা ও অবহেলা। শিশুরা ঘর বিমুখ হবার অন্যতম শুরুর কারণ এটিই। সুতরাং শিশুকে বন্ধুর সময় ও মনের খোরাক মিটিয়ে দিতে হবে।

দেখা যাচ্ছে শিশু আনমনে মাটি নিয়ে খেলছে কিংবা তার কোন সহপাঠীর সনে। এটা দেখে অনেক মুরুব্বীরা ভাবে তারা খেলা নিয়ে ব্যস্ত। মোটেও ঠিক নয়। এই অবস্থায়ও শিশুদের গভীর মনোনিবেশ কিন্তু মুরুব্বীদের দিকেই থাকে। তারা কি বলছে, কিভাবে বলছে, শব্দ ও বাক্য প্রয়োগ কিভাবে ঘটাচ্ছে, সেদিকেই তাদের তীক্ষ্ণ নজর। অভিভাবকেরা যে বাক্যটি বেশী সময় ধরে প্রয়োগ করছে, শিশুরা সেটিকেই বাছাই করে। সে কারণে অনেক শিশু থেকে বুড়োমি কথা-বার্তা বের হয়! শিশুরা গালির অর্থ বুঝে না কিন্তু গালি দিলে কেউ উত্তেজিত হয়, প্রতিবাদী হয়, এই প্রতিক্রিয়া শিশুরা ঠিকই বুঝতে পারে। সে বুঝতে শিখে এই বাক্য প্রয়োগে কাউকে বাধা দেওয়া যায়, ফলে সেও তা প্রয়োগ করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুরা স্বার্থ সম্পর্কে বুঝতে পারে, অধিকার আদায়ে আঘাত করা, মারামারি করা, মিথ্যা বলা, লাথি মারা সহ যাবতীয় কর্ম পরিবেশ ও বড়দের থেকেই শিখে। লাথির ব্যথা কিংবা গুরুত্ব শিশু বুঝে না কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করে এ কাজে বাধা দিলে সে প্রতিবাদী হবে। সে ভাবতে থাকে, বড়রা করলে দোষ নেই, সে করলে কেন বাধা দেওয়া হবে। সে জন্য তাকে বুঝাতে হবে, ভাল কাজ করলে আদর ও উৎসাহ দিতে হবে। শিশুর খারাপ কাজের প্রতিবাদে মা-দাদীর অভিমান মারাত্মক কাজ দেয়। কোন অবস্থাতেই শিশু মায়ের আদর হারাতে চায়না। শিশুর মতিগতি বুঝাও, আদর্শ পিতা-মাতার কাজ। শিশু তার বন্ধুর সাথে খেলার জন্য নিজের খেলনা হাওলাত দিয়ে কিছুক্ষণ পরেই তা ছিনিয়ে নেয়। এটা হিংসা নয়!  শিশুর আত্মবিশ্বাসের অভাব। শিশু ভাবনা ভিন্ন। সে চিন্তা করে আমার জিনিষ তার দরকারে খেলতে দিলাম সুতরাং আমি চাওয়া মাত্রই সেও আমাকে তা ফিরিয়ে দিবে। শিশু জীবনের শুরুতে কাউকে সর্বোচ্চ এক মিনিট ভরসা করতে পারেনা। ধীরে ধীরে ভরসা ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে পরিপূর্ণ মানুষ হয়।


শিশু অবস্থায় সাহিত্যের ভাষা শিখার পরিবেশ পেলে, ভবিষ্যৎ জীবন গড়তে বেশী সুবিধার হয়। সাহিত্যের ভাষার গুরুত্ব বুঝার জন্য এই উদাহরণটি জগতে শ্রেষ্ঠ। আমাদের রাসুল মোহাম্মাদ (সা) ইয়াতীম ছিলেন। আল্লাহ তাঁর কুদরতি হাতে শিশু রাসুলের ভার নিয়েছিলেন। শিশুকালে তাঁকে এমন এক জায়গায় বড় হবার ব্যবস্থা করলেন, যেখানে তদানীন্তন জমানার সাহিত্যের সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবি ব্যবহার হত। মানুষ উচ্চ মাত্রার আরবিতে কথা বলত। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে রাসুল (সা) সে এলাকা থেকে চলে আসেন। মানুষ শিশু মোহাম্মাদ (সা) কথা শুনলে তন্ময় হয়ে শুনে থাকত। তাঁকে আদর করার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যেত। শেষ জীবনে নবী (সাঃ) ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আরবি ভাষাভাষীদের মধ্যে আমিই সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আরবি ভাষী মানুষ!’ এই ধরনের ঘোষণা মানুষের কল্পনাশক্তিকে হার মানাবে। তদানীন্তন যুগ তো বটেই আজ পর্যন্ত তাঁর মানের উচ্চাঙ্গ ভাষারীতি কেউ উপহার দিতে পারেনি। তিনি আরো বলেছেন, আল্লাহ আমাকে এমন জ্ঞানে যোগ্য বানিয়েছে যে, “বহু লম্বা কথাকে আমি এক বাক্যে প্রকাশ করতে পারি”! এ ধরণের ভয়ানক ঘোষণা দিতে মানুষকে বিশাল সাহস ও প্রবল আত্মবিশ্বাসের অধিকারী হতে হয়। ভাষার যথাযথ প্রয়োগ এমন এক হাতিয়ার, যা লাখো মানুষকে সম্মোহিত করতে পারে।


যাই হউক আমাদের শিশু তো আর রাসুল (সা) এর মত ভাষাবিদ হতে পারবে না দাবীও করছি না, তবে একটু সচেতন থাকলে অনেক কিছুই অর্জন সম্ভব। যারা গ্রামীণ জীবনে বড় হয় তারা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলবে, সেটাই তার মায়ের ভাষা। চেষ্টা করলেও পরিবর্তন সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সকল ভাষাকে তাঁর একটি নিদর্শন হিসেবে বলেছে। ভাষা দিন দিন বদলাতে থাকে, এটা তার চলমান প্রক্রিয়া। আমার বক্তব্য ভাষা নিয়ে নয়, শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে। অল্পদিন পরেই শিশু স্কুলে যাবে, পরিবেশ থেকে শুরুতেই যদি বিদ্যালয়ের ভাষার উপাদান পায়, সে শিশুটি প্রায় এগিয়ে থাকবে। এই ভাষা সাহিত্যের ভাষা এবং গণমাধ্যমের ভাষা। এই ভাষার চলমান প্রভাব বেশী। কোন শিশু ছয়-সাত বছর বয়সে যদি টিভির সংবাদ বুঝে। গল্পের বইয়ের কথাগুলো বুঝতে পারে। সাথে সাথে বেশীর ভাগ শব্দ বিশুদ্ধ উচ্চারণে বলতে পারে তাহলে বুঝতে হবে পিতা-মাতা হিসেবে এক তৃতীয়াংশ সফলতা শিশু জীবনের শুরুতেই গড়ে দিলেন! 


শিশুরা মায়ের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করবে, আবদার করবে, অভিযোগ জানাবে। মায়ের আদরণীয় কথা গুলোর প্রয়োগ ও মর্মার্থ বুঝবে। সন্তান যখন নিজের ভাষায় আবেদন, নিবেদন, অনুভূতি, সহানুভূতি প্রকাশের ধরণ রপ্ত করতে পারবে। তখন সে অন্য ভাষা শিখলেও সে ভাষায়ও ব্যাপক দক্ষতা দেখাতে পারবে, বুৎপত্তি অর্জন করতে পারবে। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মায়ের ভাষা বাংলায় সেরা ছিলেন বলেই বহু ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করতে পেরেছিলেন। এক কথায় শিশুদের ভাষা প্রয়োগের মূল উপাদান সুন্দর সাবলীল বাক্য প্রয়োগ। এটা নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকেই শিখে নিতে হয়।


সাহিত্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বুঝত না, এমন এক উদাসীন পিতা-মাতাকে দেখেছি, যারা কারো পরামর্শ ধরে সন্তানদের ভাল ইংরেজি বলার উপযোগী মাধ্যম হিসেবে ভিডিও গেইম ধরিয়ে দিয়েছিলেন! হ্যাঁ, কয়েক বছরের মাথায় শিশু অনর্গল বলার মত ইংরেজি শিখে ফেলেছিল। কিন্তু বেকায়দার কথা হল শিশুটি প্রায় প্রতি বাক্যের শুরুতে কিংবা শেষে ইংরেজিতে বিশ্রী গালি দিত। ইংরেজির প্রয়োগ রীতি ছিল খুব রূঢ়, যেন কোদাল দিয়ে মাথা চাঁছার দশা! পিতা-মাতা যথেষ্ট বিব্রত ও অপমানিত বোধ করতেন। কেউ প্রশ্নও ছুঁড়তেন, ‘আপনার ঘরে কে এমন স্টাইলে গালি দেয়?’ আসলে শিশুটি যে গেইম খেলত সেখানে পাশ্চাত্যের পুলিশেরা চোর-ডাকাত ধরে বিশ্রী গালি দিয়ে তাদের এরেস্ট করত। এসব সে পদে পদে রপ্ত করেছিল। পরবর্তীতে এই শিশুকে তারা ইনিষ্টিটিউটে ভর্তি করিয়েছিলেন যাতে করে তার উগ্রতা লোপ পায় এবং মাধূর্যময় ইংরেজি ভাষা প্রয়োগ করতে পারে। সেখান থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়। আসল কথা হল, শিশুর মা-বাবার কথায় অনেক মধুরতা ছিল কিন্তু তা বাংলা ভাষায়। শিশুর মুখে মধুরতা আনতে যে মানের ইংরেজি জানা থাকা দরকার ছিল, সেটা পিতা-মাতা কারো কাছেই ছিলনা। ফলে দায়ের চেয়ে ডাঁট মোটা হয়ে পড়ে এবং সন্তান হয়ে যায় নিয়ন্ত্রণ হীন।


তাই আসুন, শিশুকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য, আগে নিজের ভাষায় পারদর্শী করি, বিশুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি মনোনিবেশ করাই। নিজেরাও সঠিক উচ্চারণের চেষ্টা করি। সর্বদা বড় উচ্চারণে সাহিত্য পড়তে থাকি। সুন্দর উপমা তাকে বলতে শেখাই, তাদেরকে সময় দিই। কোন অবস্থাতেই যেন, নিজের সময় বাঁচানোর জন্য বিকল্প হিসেবে মোবাইল ফোন ধরিয়ে না দিই।

 

Previous Post

স্বপ্ন দেখার পরিবেশ দিন, জ্ঞানবান সৃষ্টিশীল শিশু গড়ে নিন

Next Post

যানজট – (রম্য রচনা)

Discussion about this post

নতুন লেখা

  • জ্বালানী তেল যেভাবে তৈরি হয়
  • শাহ পদবীটা বিরাট অদ্ভুত
  • তীর তথা ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বলিয়ান হতে স্বয়ং রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।
  • তসবিহ দানা বৃত্তান্ত!
  • হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী দেওবন্দি ও বেরেলভী আকিদার সূত্রপাত

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় লেখা

No Content Available

নজরুল ইসলাম টিপু

লেখক পরিচিতি । গাছের ছায়া । DraftingCare

Facebook Twitter Linkedin
© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.
No Result
View All Result
  • মুলপাতা
  • ধর্ম
    • ইসলাম
    • কোরআন
    • হাদিস
    • ডায়েরি
    • জীবনী
  • সাহিত্য
    • গল্প
    • রচনা
    • প্রবন্ধ
    • রম্য রচনা
    • সামাজিক
  • পরিবেশ
    • উদ্ভিদ জগত
    • প্রাণী জগত
    • ভেষজ হার্বাল
    • জলবায়ু
  • শিক্ষা
    • প্রাতিষ্ঠানিক
    • মৌলিক
    • ইতিহাস
    • বিজ্ঞান
    • ভ্রমণ
    • শিশু-কিশোর
  • বিবিধ
    • ঘরে-বাইরে
    • জীবন বৈচিত্র্য
    • প্রতিবেদন
    • রাজনীতি
    • তথ্যকণিকা
  • লেখক পরিচিতি

© 2020 Nazrul Islam Tipu. Developed by Al-Mamun.