আমলকীতে যত ভিটামিন আছে সেটা কভার জন্য যদি বাজার থেকে ভিটামিন ট্যাবলেট খেয়ে পুষানোর দরকার হত। তাহলে একমাসের মধ্যে কারো গাল আর মুখের চামড়া সঠিক স্থানে থাকত না।
একজন মানুষ ইচ্ছে করলে একসাথে দশটি ভিটামিন সি ট্যাবলেট খেতে পারবে না। কিন্তু তার চেয়েও বেশী পরিমাণ সমৃদ্ধ আমলকী খেলে মানুষের উপকার বৈ অপকার হবেনা। আমলকী ভিটামিনের একটি ক্ষুদ্র গোলার মত। যার শুধু গুনই আছে কোন বদনাম নেই।
তবে আমলকীর একটি দোষ আছে। এত গুনের এই ফলের কোনই স্বাদ নেই পুরোটাই বিস্বাদ। তাই জবরদস্তি করে খেতে হয়। পাখ-পাখালী, ইতর প্রাণীদের মধ্যে এই ফলের কোন শত্রু নেই। তাই অযত্নে, অবহেলায় এই ফল গাছের নীচে পড়ে থাকে। এই গ্রুপের আরো দুটো ফল যেমন হরিতকী, বহেড়ার ক্ষেত্রে একই আচরণ পরিলক্ষিত হয়।
আমলকীকে ইংরেজীতে Amla বলে। বাজারে বহু ধরণের আমলকীর পণ্য পাওয়া যায়। আমলকির শরবত, আচার, তৈল, পাউডার, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলাদেশের শত বছরের একটি শ্রেষ্টতম ভেষজ ঔষধের নাম ত্রিফলা। যার একটি ফল এই আমলকী।
মাথা ঠাণ্ডা করা ও চুল কাল রাখার জন্য যত তৈল তৈরি হয়, সব তৈলেই আমলকীর উপস্থিত বিদ্যমান। আমলকী খেলে মানুষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে করোনার এই বিপর্যস্ত সময়ে আমলকীর চেয়ে উপকারী দ্বিতীয় বন্ধু বাংলাদেশের জলবায়ুতে আর একটিও নেই।
দেখুন না এর কতগুণ, মন বিশ্বাস করতে চাইবে না। চলুন তাহলে জেনে নেই আমলকীর ২০ উপকারিতা সম্পর্কে-
আমলকী সংক্রান্ত নিচের তথ্যগুলো একুশে টেলিভিশনের সৌজন্যে তুলে ধরা হলো।
১. আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
২. এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।
৩. আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এ ছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।
৪. এক গ্লাস দুধ বা পানির সঙ্গে আমলকী গুঁড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারলে অ্যাসিডিটির সমস্যা কমবে।
৫. আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে।
৬. প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।
৭. আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ, চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।
৮. আমলকী চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৯. এ ছাড়াও প্রতিদিন আমলকীর রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।
১০. আমলকীর টক ও তেঁতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকীর গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।
১১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।
১২. কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী।
১৩. ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।
১৪. আমলকী শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশি মজবুত করে।
১৫. এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে।
১৬. শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে আমলকী।
১৭. লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।
১৮. এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডি-জেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
১৯. সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভাল কাজ করে।
২০. ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখতে যথেষ্ট সাহায্য করে।


Discussion about this post