বৃক্ষরাজি মানব জাতির জন্য অন্যতম নেয়ামত। মানুষ কখনও তার জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে বৃক্ষের অবদান শেষ করতে পারবে না। পবিত্র কোরআনের বহু জায়গায় বৃক্ক সম্পর্কে কথা এসেছে যেমন,
“তারা কি লক্ষ করে না, আমি ঊষর ভূমির ওপর পানি প্রবাহিত করে তার সাহায্যে উদগত করি শস্য, যা থেকে তাদের গবাদি পশু এবং তারা নিজেরা আহার গ্রহণ করে” সুরা সাজদা: ২৭
আল্লাহ আরো বলেন,
“আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে নয়নাভিরাম সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদ্গত করেছি। আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি-বর্ষণ করি এবং এর দ্বারা উদ্যান ও পরিপক্ব শস্যরাজি উদ্গত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়” সুরা কাফ ৭-৯
অন্য আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,
“তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তা স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান, তখন তারা আনন্দিত হয়” সুরা রুম: ৪৮
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃতির বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ উপমা দিয়েছেন। যেন মানুষ প্রাকৃতিক বিচিত্র, প্রকারভেদ, বর্ণ, গন্ধ ও সৌন্দর্য দেখে পুলকিত ও অভিভূত হয়। সব কিছুর উন্নতি, অগ্রগতি ও সক্রিয়তা দেখে মানুষ আল্লাহর শক্তিমত্তার কথা স্মরণ করে। আল্লাহ বলেছেন
“তিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে জন্মান শস্য, জাইতুন, খেজুর-গাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন” সুরা নাহল: ১১
রাসুল (সা) বৃক্ষকে ভালবাসতে, বৃক্ষের গুরুত্ব নিয়ে বহু কথা বলেছেন। এসব যুগান্তকারী কথা মানুষ খুব কমই অনুধাবন করে। কিছু কথার দিকে আমরা চোখ রাখতে পারি।
রাসুল (সা) বলেছেন,
“যদি কোনও মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনও শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনও মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা (দান) স্বরূপ গণ্য হবে” বুখারি: ২৩২০
আরো বিস্তারিত ভাবে অন্যত্র বলা হয়েছে,
“কোনও ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ করে তা ফলদার হওয়া পর্যন্ত তার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে ধৈর্য ধারণ করে, তার প্রতিটি ফল যা নষ্ট হয়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে সদকার নেকি দেবেন”
মুসনাদ আহমাদ: ১৬৭০২
একই গ্রন্থের অন্য হাদিসে বলা হয়েছে,
“যে ব্যক্তি কোনও বৃক্ষ রোপণ করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে ওই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দান করবেন”
মুসনাদে আহমাদ: ২৩৫৬৭
মানব জীবন রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কতটা গুরুত্ব, সেটা উল্লেখ করতে গিয়ে রাসুল (সা) বলেছেন,
“যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে কিয়ামত এসে গেছে, তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, যা রোপণ করা যায়, তবে সেই চারাটি রোপণ করবে”
আদাবুল মুফরাদ: ৪৮১
অন্যত্র বলা হয়েছে
“কিয়ামত এসে গেছে, এমন অবস্থায় তোমাদের কারো হাতে যদি ছোট একটি খেজুর-গাছ থাকে, তাহলে সে যেন গাছটি রোপণ করে দেয়”
মুসনাদে আহমাদ: ১২৯০২
ইসলাম ধর্মে যে গাছ রোপণ করার জন্য এতটুকু উৎসাহ দেওয়া হয়েছে তার বিপরীতে কেউ যদি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে, অনর্থক, বিনা প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলে তার জন্য রয়েছে চরম শাস্তির বিধান। হাদিস শরীফে এসেছে
“যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটবে, আল্লাহ তার মাথা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন”
বায়হাকি:৬/১৪০
অনেকে বলেছেন এটি একটি দুর্বল হাদিস। তবু গাছের গুরুত্বের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা নষ্ট হয়না।
রাসুল (সা) ফলবান বৃক্ষের নীচে কিংবা ছায়াদার বৃক্ষের নীচে পায়খানা প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। যুদ্ধ বিজয়ী জনপদের বৃক্ষরাজি কেটে বিরান করতে নিষেধ করেছেন। একধরনের অগণিত প্রাসঙ্গিক হাদিস পাওয়া যাবে যেখানে বৃক্ষের গুরুত্ব উঠে এসেছে বিপুল ভাবে।
চলুন আমরা গাছের যত্ন করি এবং নিজের হাতে একটি বৃক্ষ রোপণ করে হলেও পৃথিবীর মাটিকে সাক্ষী বানাই।


Discussion about this post