আমাদের জাতীয় পাখির নাম দোয়েল। একদা দোয়েল দেশের সর্বত্র দেখা যেত, তাইতো দোয়েল জাতীয় পাখি।
বাংলাদেশের দুই টাকার নোটে দোয়েলের ছবি দেখা যায়। দোয়েলের ছবি যুক্ত দুই টাকার এই নোটটি সেরা ডিজাইন হিসেবে সমাদৃত!
দোয়েলের কণ্ঠ ও শিষ খুবই দারুণ। শস্যের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় তার একমাত্র খাদ্য। সে কৃষকের পরম বন্ধু। কিন্তু আমার গ্রামের বাড়ীতে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও একটি দোয়েলের দেখা পাই নি!
পরে কারণ বের করতে পারলাম। গর্ত-যুক্ত গাছের শাখাটি আবিষ্কার করি প্রায় শতাধিক গাছ বাছাইয়ের পরে। ছবিটি নিজের হাতে ধারণ করা। এর পিছনে কারণ আছে যা চিন্তাশীল মানুষকে ভাবাতে পারে।
দোয়েল বাসা বুনে গাছের পরিত্যক্ত গর্তে। একটি গর্তকে কেন্দ্র এক মৌসুমে কয়েক জোড়া দোয়েলের জন্ম হয়। সাথে চন্দনা, ঝুট শালিক সহ আরো বহু প্রজাতির পাখি রয়েছে যারা গাছের গর্তে বাচ্চা উৎপাদন করে।
সব ধরনের গাছে এ ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয় না। কাঁঠাল, মান্দার, তুলা, জারুল সহ বাংলাদেশের কিছু দেশীয় ও স্থানীয় গাছেই গর্ত তৈরি হয়।
স্থানীয় পাখিরা এখানে বসত গড়ে তুলে। বর্তমানে স্থানীয় গাছের সংখ্যা কমে গেছে, মানুষ যে পরিমাণ গাছ কাটে সে পরিমাণ গাছ রোপণ করেনা। আবার রোপণ করলেও, বিদেশী গাছ তথা ইউক্যালিপটাস, অ্যাকাশিয়া গাছের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
এসব বিদেশী গাছ স্থানীয় পাখিরা চিনেনা, এসব গাছের ঘ্রাণ তাদের শিশু সন্তানদের জন্য অনুপযোগী, তাছাড়া এসব গাছে বাসা বানানোর উপযোগী কোন পরিবেশও থাকেনা।
তাই পাখিদের বাসা বানানোর গাছের অভাব যেমন সৃষ্টি হয়েছে, সেভাবে আশংকা জনক হারে পাখির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। সাথে সাথে এটা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
এক পাখির এক ধরনের উপকার। আমরা জানিনা কিংবা গবেষণা করিনা বলেই, বিষয়টি সামনে আসেনা। এটা মানব সমাজের জন্য ক্ষতিকর। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আর কিছুদিন পরেই দোয়েল আর জাতিয় পাখির তালিকায় থাকবে না!
দোয়েল ইতিমধ্যেই প্রায় হারিয়ে গেছে। দোয়েলের মত আরো বহু স্থানীয় পাখিরা আবাসের অভাবে বিলুপ্তির পথে। শেষাবদি মুরগীকেই জাতিয় পাখি বানাতে হয় কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়।



Discussion about this post