মুয়াজ্জিন ইকামাত দিচ্ছেন, ঈমাম সাহেব সোজা সটান পশ্চিমদিকে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবর বলার জন্য প্রস্তুত। তার পিছনের কাতারে অগোছালো দশা।
মুসল্লিদের মধ্যে বিস্তর ফাঁক। পিছনের একজনকে সামানের কাতারে আসার জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি বললেন, আমি একটু মোটা, তাই জায়গা হবেনা।
বললাম আপনার শরীরের চেয়েও কাতারে অনেক জায়গা রয়েছে। তিনি সামনের কাতারে আসলেন। অমনি আগে থেকে দাঁড়ানো আমার বাম পাশের ব্যক্তি পিছনের কাতারে চলে গেলেন! ওনাকে বললাম এটা কি করলেন? রাসুল (সা) বলেছেন সালাতে পাশাপাশি দাঁড়াতে।
অন্য একজনের কাছে কথাটি মনপূত হল, তিনি কাতারের খালি অংশে ঢুকলেন। অমনি ডান পাশের ব্যক্তিটি পিছনে সরে গেলেন! আমি যথারীতি ডান দিকের খালি স্থান পূরণে একটু পাশে সরে এসে পিছন থেকে আরেকজনকে আহবান করলাম। এক তরুণ এসে ঢুকলেন। চরম বেজার হয়ে ডান পাশে দাঁড়ানো প্রবীণ ব্যক্তিটি পিছনে চলে গেলেন!
আমাদের এই গুনগুন আওয়াজ ঈমাম সাহেবের একাগ্রতায় ছেদ পড়ল না, তিনি যথারীতি আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করে দিলেন।
অথচ এই ঈমাম সাহেব মহরমের ওয়াজ মাহফিলের শেষে জিকিরে অংশ নেওয়া মানুষদের বলছিলেন, গায়ে গায়ে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বসে যেন জিকির করে। যাতে করে ফাঁকা যায়গায় শয়তান ঢুকে পড়তে না পারে!
কোথাকার হাদিস কোথায় তিনি লাগিয়ে দিলেন! বাংলাদেশের অনেক মসজিদের দৃশ্য কম-বেশী এ ধরণেরই।
ইকামাত শেষ হবার পরেও, আরব দেশের মসজিদ গুলোতে ঈমাম সাহেব মুসল্লিদের দিকে ফিরে দাঁড়ান। নিজের চোখে তাকিয়ে দেখেন কাতার সোজা হয়েছে কিনা, মাইকেও এ ব্যাপারে আহবান করেন। কাতারের মুসল্লিদের মাঝে কোন ফাঁক রয়েছে কিনা নিজ দায়িত্বে তদারকি করেন।
নিজের চোখে যখন বিষয়টি নিশ্চিত হয় তখনই তিনি তাকবীরে তাহরীমা মাধ্যমে নামাজ শুরু করেন। প্রথম কাতারের মুসল্লিরা কখনও কাতারে এমনভাবে ঠেসে দাড়ায়, এক একজন মুসল্লি যেন মুখের দাঁতের মত লাগালাগি করে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছে।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,
“তোমরা সারিসমূহকে পরস্পরের সমান কর, সারির মধ্যে ফাঁকা জায়গা ভরে ফেল, তোমাদের ভাইদের হাত নরম থাকবে (অর্থাৎ কেউ ধরে সোজা করতে কিংবা কাছে টানতে চাইলে যেন মেনে নেয়) এবং শয়তানের জন্য মাঝখানে ফাঁকা স্থান রাখবে না। যেই ব্যক্তি সারিকে মিলায়, আল্লাহ তা’য়ালা ও তাহাকে (অনুগ্রহের সাথে) মিলায়। আর যেই ব্যক্তি সারিকে বিচ্ছিন্ন করে, আল্লাহ তা’য়ালা ও তাকে ( নিজ অনুগ্রহ হতে) বিচ্ছিন্ন করে।”আবু দাউদ, নাসায়ী ও মিশকাত।
উপরের হাদিস থেকে বুঝা যায়, যারা পরস্পর মিলিয়ে দাঁড়ায়, তাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেন এবং পরস্পরের সহিত আন্তরিকতার সাথে মিলিয়ে দেন। অর্থাৎ বন্ধুত্ব বাড়িয়ে দেন।
আর ফাঁক করে দাঁড়ালে, সে ফাঁকে শয়তান দাড়িয়ে যায় এবং পাশের দু’জন ব্যক্তিকে কু-মন্ত্রণা দেবার সুযোগ নেয়। সর্বোপরি শয়তান এই সুযোগ করে দেবার অপরাধে আল্লাহ তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দেন।
এভাবে একে অপরের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ বাড়তে থাকবে। যার ফল উপরের বর্ণনা মতে, আমি হাতে নাতে আমি পেয়েছি।
নিশ্চয়ই সতর্ক পাঠকেরাও এটাও নিয়মিত দেখতে থাকবেন। হতে পারে আজ মুসলমানদের মধ্যে দূরত্ব ও ভেদাভেদের অন্যতম কারণ এটাই।
তাই আসুন আমরা সতর্ক হই, এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করি। ঈমামদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি, তারা যাতে আগামী জুমাবার হতেই মুসল্লিদের এ ব্যাপারে অব্যাহত সতর্ক করতে থাকেন।

Discussion about this post