পরনির্ভর ব্যক্তি অন্যের কাছে হাত পাততে লজ্জা করেনা কিন্তু নিজের হাতে কাজ করে খেতে বেজায় সম্মানহানির ব্যাপার মনে করে। সে নিজের বাজার মূল্য অনুধাবন করতে পারেনা কিন্তু নিজেকে অনেক যোগ্য ভাবে, ফলে সে অন্যের মূল্যও বুঝে না। অন্যের কাছে হাত পেতে খেতে খেতে এক পর্যায়ে নিজেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ভাবতে থাকে।
যার কারণে তাকে যদি পরামর্শ দেয়া হয় যে, টিউশনি করে আয়-রোজগার কর, তখন সে বলবে আমি কি টিউশনির মত ক্ষুদ্রকায় কাজ করার মানুষ! আমি তো স্কুলের শিক্ষক হবার যোগ্য! যদি তার জন্য স্বল্প বেতনের স্কুলের শিক্ষকতার একটি পদ জুটিয়ে দেয়া হয়, তখন সে বলবে, আমিতো হেড মাষ্টার হবার যোগ্য।
স্থানীয় নির্বাচনে মেম্বার পদে দাঁড়াতে উৎসাহ দিলে সে বলবে, আমাকে এত অপমান করার হেতু টা কি? ছোট-খাট মেম্বারী কি আমার জন্য শোভনীয়? আমিতো চেয়ারম্যান হবার যোগ্য! অর্থাৎ কোন পরামর্শ শুনতে কিংবা মানতে এসব ব্যক্তি অভ্যস্ত হয় না। এটা দাম্ভিকতা ও অকৃতজ্ঞতার লক্ষণ; আর অকৃতজ্ঞ মানুষই দাম্ভিক হয়।
পরনির্ভর মানুষ একটি চলমান বোঝা। আয় রোজগার করে খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিলে, সেখানে সে এত পরিমাণ নেতিবাচক তথ্য উপাত্ত হাজির করবে যাতে উপদেশ দাতাই বেকুব বনে যাবে। আমাদের সমাজে কিছু কিছু সম্মিলিত পরিবারে পরনির্ভর ব্যক্তি সৃষ্টি হয়। একজনের আয়ের উপর নির্ভর করে বাকিরা পায়ের উপর ঠ্যাং তুলে খায়।
এরা মজ্জাগত পর নির্ভরতায় আক্রান্ত হয়। যে ঘরে একজন সচ্ছল প্রবাসী আছে, সে ঘরে এই রোগের আয়তন বড়। কদাচিৎ তাদের পিতাও তার পুরনো কাজ ছেড়ে দিয়ে, বসে খাবার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। ধনীর ঘরে আদুরে পরিবেশে বড় হওয়া সন্তানেরাও অনেক ক্ষেত্রে পরনির্ভর হয়ে পড়ে।
আমাদের সমাজে পরনির্ভর ব্যক্তির সচ্ছল হবার অন্যতম মাধ্যম হল, যৌতুকের মাধ্যমে বিয়ে করা! আসল কথা হল, পরনির্ভর ব্যক্তি অযোগ্য, অলস ও অকর্মণ্য। যৌতুকের কথা বাদ, এদের হাতে কোটি টাকা তুলে দিলেও তা শূন্যে পরিণত হতে, বেশী সময়ের দরকার পড়েনা। যার কারণে ধনবানের ধনের পাহাড় স্বীয় অকর্মণ্য সন্তানের হাতে হাওয়া হয়ে যেতে পারে নিমিষেই।
কর্মঠ মানুষ সৃষ্টি করে, ভিত্তি দাঁড় করায়; পরনির্ভর মানুষ লয় ঘটায়। পরিবারের ক্ষুধার জ্বালা নিবারণে এক ভিক্ষুক হাত পাতলে, রাসুল (সা) তার ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ ও একজন কর্মঠ মানুষ হিসেবে সমাজে বসবাস করার নিমিত্তে, তার ঘরের একমাত্র সম্বল, কম্বল বিক্রি করে তার হাতে কুঠার তুলে দিয়েছিলেন।
এই ঘটনা সবারই জানা। তাই জীবনকে সচ্ছল ও সচল রাখার জন্য একমাত্র মাধ্যম হল কাজ। কাজ নিয়ে ভেদাভেদ না তুলে, একাগ্র চিত্তে সেখানে লেগে থাকাই হল মানব জীবনে উন্নয়নের মূল মন্ত্র। তবেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়, নতুবা নয়। হাদিস শরীফে ঘোষণা আছে, “স্বহস্তে উপার্জন কারী আল্লাহর বন্ধু”। তাই আসুন আলস্য ছেড়ে নিজের হাতকে কাজে লাগাই, দুর্ভাগ্য নিভিয়ে দেই এবং নিজের হাতের উপার্জনের বরকতকে, মহাকাশের মালিকের হাত থেকে অর্জন করি।


Discussion about this post