রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিজিক বাড়তে থাকুক এবং আয়ু বর্ধিত হোক, যে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে।
আয়ু বাড়ার জন্য আল্লাহর দেখানো পথ হল আত্মীয়তার সম্পর্কে যাতে শিথিলতা না আসে। অনেকে ভাবেন, আত্মীয়রা এটা চেয়ে ওটা চেয়ে বিরক্ত করে। আবদার আর অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে নিজের নাভিশ্বাস হয়। এটা আসলে একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা। আত্মীয়কে সাহায্য করতে না পারলেও তার বিপদে-আপদে দৌড়ে যাওয়া, একাকীত্বে খোজ খবর রাখা, মুরুব্বীদের সময় দেওয়া যে কোন ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। এখানে ইচ্ছাটাই যথেষ্ট। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় ইসলামে বহু কথা আছে কিন্তু আজকের বক্তব্যটা ছোট কিন্তু বিষয়টা বিশাল।
রুশ প্রবাদ আছে, ‘যদি বাদশাহ হতে চাও তাহলে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কিনে নাও’। এই পৃথিবীতে মানুষের যত যশ, যত খ্যাতি প্রচার হয়েছে তাতে আত্মীয়ের ভূমিকাই ছিল বেশী। ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়ার মধ্যে বিস্তর মতবিরোধ বিদ্যমান কিন্তু এই মহাশক্তি সৃষ্টি হয়েছিল আত্মীয়তাকে কেন্দ্র করেই।
রাসুল (সাঃ) আরবের মানুষদের যুদ্ধংদেহী আগ্রাসী মনোভাব কে চুরমার করে তদস্থলে ধৈর্যশীল নেতা ও উদারতা পূর্ণ গুনি মানুষ সৃষ্টি করার মুল হাতিয়ারই ছিল আত্মীয়তা বৃদ্ধি। তিনি আত্মীয়তার অস্ত্রে শান দেবার জন্যই আরবের বিভিন্ন কবিলা থেকে দশের অধিক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন! এ কারণে মহা-শত্রু পর্যন্ত তাঁর অনুগত অনুসারীরে পরিণত হয়!
কারো বীরত্ব ও খ্যাতিতে প্রথম আত্মীয়রাই গৌরব প্রকাশ করে। তারাই প্রথম আনন্দ পতাকা উড়ায়, তারাই নিজে অর্থ খরচ করে অন্যদের কাছে খবর পৌছায়। যার আর্থিক সামর্থ্য না থাকে সে তার মুখ খানাকেই প্রচারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। তাদের কারণেই চারিদিকে ধন্য ধিন রব সৃষ্টি হয়।
সকল রোগের যাত্রা শুরু হয় মানসিক অস্থিরতা থেকে। সেজন্য ইসলাম মানুষকে মানসিক সুস্থতার পথ দেখায়। যার স্ত্রী পরিবারে সর্বদা ঝগড়া জিইয়ে রাখে, তার স্বামী পালোয়ান হলেও সে স্বল্প-জীবন পায়, এই মানসিক সুস্থতার অভাবেই। যার পরিবার ও সমাজ তাকে নিয়ে প্রশংসা করে, আনন্দ করে; তার দেহ-মন সজীব ও সতেজ হয়। সে বেঁচে থাকে মানুষের মনে, তাদেরই সমাজে। সে জন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আত্মীয়তার সম্পর্কে দৃঢ় রাখতে তার বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

Discussion about this post