‘হামাহ’ নামের একজন শয়তান হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। হামাহ’র বাবা ‘হাইম’ তার বাবা ‘লাকীস’ তারই বাবা ‘ইবলীস’। সে হিসেবে তিনি সরাসরি ইবলিসের পৌপুত্র বা নাতির ছেলে! রাসুল (সাঃ) এর যুগ পর্যন্ত তিনি বেঁচেছিলেন এবং সাহাবীদের উপস্থিতিতে তিনি রাসুল (সাঃ) কে সাক্ষাতকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “কাবিল যখন হাবিলকে হত্যা করে, তখন আমার বয়স বছর কয়েক হবে, আমি বড়দের কথা বুঝতে পারতাম। তখন আমার কাজ ছিল পাহাড়ে পাহাড়ে লাফালাফি করা, খানা নষ্ট করা, আত্মীয়ের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি এবং যুবকদের মাঝে অলসতা সৃষ্টি করা”!
তিনি আরো বলেন, আমি শুরুতে নূহ (আঃ) বিরক্ত করতাম। তাঁকে পথহারা করার ব্যর্থ চেষ্টা করে আমি নিজেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। আমি নূহ (আঃ) প্রশ্ন করেছিলাম, হাবিলের হত্যাকাণ্ডে আমিও জড়িত ছিলাম। ক্ষমা পাবার কোন সুযোগ আছে কিনা? তিনি বলেছিলেন অবশ্যই আছে, তুমি এখনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। আমি তাঁর সাথী হয়ে যাই ও তার নির্দেশানুসারে আমল শুরু করি এবং আসমান থেকে আমার তওবা কবুল হবার সংবাদ পাই। আমি শুকরিয়া স্বরূপ এক হাজার বছর সেজদায় পড়ে থাকি। আমি হুদ (আঃ) এর সাথেও সেজদায় শরীক হই। অতঃপর ইয়াকুব, ইউসুফ, আল-ইয়াসা (আঃ) সাথে ছিলাম। মুসা (আঃ) আমাকে তাওরাত শিখিয়েছেন, ইসা (আঃ) আমাকে বলেছিলেন, মুহাম্মাদ (সাঃ) সাথে সাক্ষাত হলে, যেন তার সালাম পৌঁছাই।
সুপ্রিয় পাঠক, বর্ণনা একটু লম্বা হল কিন্তু এতে প্রচুর শিক্ষণীয় উপাদান রয়েছে।
এক. একজন শয়তান বহু নবীর সাক্ষাত পাওয়া স্বত্বেও নূহ (আঃ) এর মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। হেদায়েতের জন্য ‘হামাহ’ -এর আগ্রহ ছিল। এখানে নূহ (আঃ) প্রধান নন বরং আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই তিনি হেদায়েত পেয়েছিলেন।
দুই. শয়তান একটি মাত্র ভুল করে পথভ্রষ্ট হয়েছে কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল করেও গাফেল থাকে।
তিন. শয়তানের তওবা কবুল হয়েছে এই সংবাদে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ হাজার বছরের লম্বা সেজদা করেছে, মানুষ প্রতিনিয়ত নেয়ামতে ডুবে ন্যুনতম কৃতজ্ঞতা প্রকাশেও আন্তরিক নয়!
এক. একজন শয়তান বহু নবীর সাক্ষাত পাওয়া স্বত্বেও নূহ (আঃ) এর মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। হেদায়েতের জন্য ‘হামাহ’ -এর আগ্রহ ছিল। এখানে নূহ (আঃ) প্রধান নন বরং আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই তিনি হেদায়েত পেয়েছিলেন।
দুই. শয়তান একটি মাত্র ভুল করে পথভ্রষ্ট হয়েছে কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল করেও গাফেল থাকে।
তিন. শয়তানের তওবা কবুল হয়েছে এই সংবাদে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ হাজার বছরের লম্বা সেজদা করেছে, মানুষ প্রতিনিয়ত নেয়ামতে ডুবে ন্যুনতম কৃতজ্ঞতা প্রকাশেও আন্তরিক নয়!
ইসলাম গ্রহণ করা আরেকজন জিন-শয়তানের নাম ‘কারীণ’। যিনি রাসুল (সাঃ) সাথে ছিল। রাসুল (সাঃ) তাঁর সম্পর্কে এতটুকু বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং সে মুসলমান হয়ে গেছে। সে আমাকে সৎকাজ ছাড়া অন্য কিছুর কথা মনে করিয়ে দেয় না’। একই বক্তব্য এখানে, রাসুল (সাঃ) আল্লাহর সহায়তাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
উপসংহারে বলা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে দামী জিনিষ হল ‘হেদায়েত’। কেউ না চাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ এটি কাউকে দেন না, তবে চাইলে অবশ্যই দেন। কেউ চেষ্টা করেও কাউকে হেদায়েত প্রাপ্ত করাতে পারেন না। এটা পরিপূর্ণ আল্লাহর এক্তিয়ারে থাকে।
রাসূল (সা) চাচা আবু তালেব ইসলাম গ্রহণ করুক, এই কামনা রাসুল (সা) এর হৃদয়ে সদা ঘুরপাক খেত। তিনি ইসলাম বিস্তারে বাধা দেন নাই কিন্তু তার মৌনতা ইসলাম প্রচার ও প্রসারে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। সে জন্য রাসূল (সা) বাধ্য হয়ে চাচাকে অনুনয়-বিনয় করেছেন, যেন কলেমা পড়ে ঈমান আনে কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।
হেদায়েত নামক এই নেয়ামত, আল্লাহ দয়া করে কখনও কাউকে দিয়ে থাকেন এই জন্যই যে, যাতে সে এটার মর্যাদা ও গুরুত্ব দিতে শিখে। তারপরও বেশীরভাগ মানুষ নেয়ামতের অবহেলা করে! সে জন্য আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি কারো কল্যাণ করতে চেয়েছি তো, তাকে দ্বীনে দাখিল করেছি’।
রাসূল (সা) চাচা আবু তালেব ইসলাম গ্রহণ করুক, এই কামনা রাসুল (সা) এর হৃদয়ে সদা ঘুরপাক খেত। তিনি ইসলাম বিস্তারে বাধা দেন নাই কিন্তু তার মৌনতা ইসলাম প্রচার ও প্রসারে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। সে জন্য রাসূল (সা) বাধ্য হয়ে চাচাকে অনুনয়-বিনয় করেছেন, যেন কলেমা পড়ে ঈমান আনে কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।
হেদায়েত নামক এই নেয়ামত, আল্লাহ দয়া করে কখনও কাউকে দিয়ে থাকেন এই জন্যই যে, যাতে সে এটার মর্যাদা ও গুরুত্ব দিতে শিখে। তারপরও বেশীরভাগ মানুষ নেয়ামতের অবহেলা করে! সে জন্য আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি কারো কল্যাণ করতে চেয়েছি তো, তাকে দ্বীনে দাখিল করেছি’।

Discussion about this post