খালি ঘর কিংবা অবহৃত বাড়ীতে জীন-শয়তান অবস্থান করে। কোন ঘরে মানুষের চলাচল অনিয়মিত হয়ে গেলে, সে ঘরে কিংবা বাড়ীতে তারা বসবাস শুরু করে দেয়। সে জন্য অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ঘর তৈরি করতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিষেধ করেছেন। মানুষ যে ঘর, জমি-সম্পদ ব্যবহার করেনা, তা জীনেরা ব্যবহার করতে পারে; এটা তাদের অধিকার। বেশী বছর ব্যবহার করার সুযোগ পেলে, জিনেরা সেটার অধিকার ছাড়তে চায়না। অনেকে হয়ত দেখে থাকবেন, শহরাঞ্চলে খালি বাড়ী থাকা তো দূরের কথা খালি ঘরও পাওয়া যায় না। সে কারণে শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামীণ জনপদে জিনের উপদ্রব টা একটু বেশী।
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন কুকুর, সাপ, উট এরা জ্বিন প্রজাতির! রাস্তার কুকুরকে কিছুদিন নিজ ভবনের নীচ তলায় আরামে থাকতে দিন। নিরুপদ্রব জীবন পেয়ে তারা দু’দিন ভবনের মালিক পক্ষকে সমীহ করে চলবে। সপ্তাহান্তে ভবনের মালিক নিজের ফ্লাটে উঠতে গেলে, কুকুর দল উল্টো ঘেউ ঘেউ করে উঠবে! তখনই যদি এদের দূর করা না হয়, তাহলে পরবর্তীতে এসব কুকুর ভবন মালিকের সন্তানদের কামড়াবে। এটা কুকুরের স্বভাব। কয়েকদিন আরামে কোথাও থাকতে পারলে, সেটাকে সে নিজের বলে ভাবতে শুরু করে। সে অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ঠিক তদ্রূপ খাসিয়ত জ্বিনেরও। তারা একবার বসার স্থান পেলে শুয়ে পড়বে এবং নিজের ঘর বলে দাবি করে ঘরের মালিকের স্ত্রী, সন্তানদের উৎপাত করবে।
দুনিয়ার মোহে আকৃষ্ট বিত্তবানেরা যত উচ্চে পৌঁছেন তত অপ্রয়োজনীয় ঘর বাড়াতে থাকেন। এক সময় এগুলো পোড়া বাড়ি কিংবা বিরান প্রাসাদে পরিণত হয়। কোনটা যাদুঘরের মর্যাদা পায় কোনটা ভুতের বাড়ি। মূলত এখানে দুষ্ট জিনেরা উঠে সংসার পাতে। পথে চলাচলের পথিকেরা ভয় পায়। হয়ত প্রশ্ন আসবে শয়তান থেকে জিনে চলে আসলাম কেন? মূলত শয়তান জিনেরই জাতি। ভাল জিনেরা মুমিন আর ইবলিশের অনুসারীরা শয়তান। মানুষের মধ্যে যার হৃদয় কলুষিত, যে ব্যক্তি জীবনের কোন ইতিবাচক দিক দেখে না, সর্বদা অন্যকে কু-পরামর্শ দেয়, চাকচিক্য দেখিয়ে ভুলিয়ে রাখে, কারো কষ্টে-অনিষ্টে তৃপ্তি পায় তাকে ‘খান্নাস’ তথা মনুষ্য শয়তান বলে। যদিও জিন শয়তান থেকে মানুষ শয়তান আরো মারাত্মক। মানুষ বেশী জাহান্নামে যাবে মনুষ্য শয়তানের কারণে। তারপরও মানুষের আগ্রহ অদেখা শয়তানকে নিয়ে, আমার বিষয়ও তাকে নিয়েই।
মহিলারাই বেশীর ভাগ সময় ঘরে থাকে। যে সমস্ত মহিলারা আল্লাহ ওয়ালা তাদেরকে শয়তান দু’চোখেই দেখতে পারেনা। তার বিরুদ্ধে বদনাম, ঘৃণা ছড়াতেই থাকে। কেননা একজন মুত্তাকী মহিলা সর্বদা দোয়া-দরুদ পড়েন, ঘরকে নামাজের উপযোগী করেন এবং স্বামী-সন্তান, নাতি-পতিদেরকে দোয়া দরুদ শিখিয়ে, সেভাবে আমল করতে অভ্যস্ত করেন। ঘরের সবাই যখন এমন হয় সে ঘরের চৌহদ্দির মধ্যেই শয়তান সুযোগ করতে পারেনা। তাকে উপোষ জীবন যাপন করতে হয়। শয়তান এমন ঘরে নিজেদের মধ্যে নিজেকে ভাগ্যহত মনে করে। একজন মুত্তাকী মহিলা একাকী এভাবেই একটি বংশকে দৃঢ় ভিত্তির উপর টিকিয়ে রাখতে পারে। সে জন্যই আল্লাহ একজন মুত্তাকী মহিলার মূল্য আসমান-জমিনের সকল সম্পদের চেয়েও বেশী বলেছেন। আবার অন্যত্র বলেছেন, মুশরিক ধন্যাঢ্য সুন্দরী কণ্যার চেয়ে মুত্তাকী দাসী অনেক উত্তম।
সুতরাং ব্যক্তি জীবনে আমল তথা চরিত্রের পরিবর্তন বেশী জরুরী। কতলক্ষ তাসবীহ জপলাম তাতে কিছুই আসে যায়না। বুঝে চিন্তে নিজেকে সংশোধন করে আন্তরিকতার সাথে একাগ্রচিত্তে একবার আল্লাহর শোকরিয়া করা হাজার গুনে উত্তম।
(মুশরিক অর্থ, পূজারী, আল্লাহকে পেতে অন্যের সাহায্য গ্রহণ কারী, আল্লাহকে পেতে মাঝামাঝি কাউকে মাধ্যম মনে করে তার অনুগত হওয়া)
Discussion about this post