বিভিন্ন ধর্মে নারী জাতীর অবস্থা : খৃষ্ট ধর্মে নারী
নজরুল ইসলাম টিপু
বর্তমান পৃথিবীর খৃষ্টানেরা নিজেদের খুবই সভ্য বলে দাবী করে, নারীর সমান অধিকারের জন্য চর্বিত চর্বণ করেন এবং আমাদের দেশের স্বাধীনতাকামী নারীদের জন্য তারা বড় পথ-প্রদর্শক হিসেবে ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করেন। খৃষ্ট ধর্মে নারীকে তো মানুষ হিসেবে স্বীকার করে না নারীকে সমস্ত পাপের প্রতীক হিসেবে বিশ্বাস করে। নারীরাও বেহেশতে যাবে, এই কথাটি ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের আগ পর্যন্ত খৃষ্ট ধর্ম স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয় নাই। পরবর্তীতে বাইবেলে সংস্করণ এনে ঠিক করা হয়, এখন থেকে নারীরাও বেহেশতে যাবে!
মানুষের আদি মাতা একজন নারী হবার কারণে তিনিও পাপ মুক্ত নন। বরং মানব শরীরে মাতৃরক্তের অংশ বিশেষ থাকে বলে সমস্ত মানবজাতিই পাপী! স্বয়ং যীশু তাঁর মাকে একজন নারী বলে ধিক্কার দিয়েছেন। যিশুর জন্মের পরে প্রথম একজন নারী তথা মায়ের মুখ দেখার কারণে যিশু নিজেও কিছুটা পাপী ছিলেন! অতঃপর যিশু নিজেকে উৎসর্গ করে, সে পাপ থেকে মানবজাতিকে মুক্তি করে গেছেন।
খৃষ্ট ধর্মে নারীকে শয়তানের প্রতিচ্ছায়া-শয়তানের শক্তি হিসেবে বলা হয়। নারী হল, বিষধর সাপের ন্যায় বিষাক্ত, এক বিচ্ছু স্বরূপ, যে দংশনের জন্য সদা প্রস্তুত থাকে। নারী শয়তানের প্রবেশ দ্বার, যাবতীয় সকল দুঃখ-দুর্দশার জন্য তারাই দায়ী। নারী হয়ে জন্মটাই লজ্জার! নারী পৃথিবীর জন্য অভিশাপ, এক অনিবার্য পাপ, জন্মগত দুষ্ট প্ররোচক, আনন্দদায়ক বিপদ ও ধ্বংসাত্মক প্রেম-দায়িনী।
সমুদয় পূর্ণ্যকর্ম বরবাদ হবার ভয়ে, খৃষ্টান ধর্মবেত্তাগন মা’কে পর্যন্ত স্পর্শ করেনা। নারীকে দেখলেই সমুদয় পূর্ণ্যকর্ম বিনষ্ট হয়ে, জীবনটা বিরাট শূন্যে পরিণত হবার ভয়ে, পাদ্রী-গন লোকালয় ছেড়ে গভীর অরণ্যে জীবন যাপন করেন।


Discussion about this post