মানুষের অঙ্গের সাথে কিছুটা সাদৃশ্য আছে, এমন প্রাণীদের কথা বলার যোগ্যতা সম্পর্কে যাচাই করতে গিয়ে, বিজ্ঞানীরা পেয়েছে একটি ভিন্ন মাত্রার তথ্য! শিম্পাজী, বানর, হনুমান গোত্রের প্রাণীদের অঙ্গ কিছুটা মানুষের মত।
তবে তারা মানুষের মত কথা বলতে পারে না। তারা তাদের মত করে একটি ভাষা ব্যবহার করেই কাজ চালায়। যা মূলত সংকেতের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। একে অপরের ভাব বিনিময় ও তথ্যের আদান প্রদান সংকেতের মাধ্যমেই করে থাকে।
প্রাণী ভেদে সংকেতের তারতম্য থাকলেও, তাদের সবারই একটি নিজস্ব ভাষা আছে। তবে সে ভাষাটি মানুষের মত ব্যাখা মূলক নয়। Sapiens : A brief History of Humankind গ্রন্থে বিজ্ঞানী Yuval Noah Harari উল্লেখ করেছেন,
জীব বিজ্ঞানীরা দলবদ্ধ একদল সবুজ বানরের শব্দ প্রয়োগের অর্থ বের করেছে। যেমন “হুশিয়ার, ঈগল!”, “হুশিয়ার, সিংহ!” বিজ্ঞানীরা এই শব্দগুলো রেকর্ড করে, বানর দলের অজ্ঞাতে লক্ষ্য করে বাজিয়েছে।
হুশিয়ার ঈগল শব্দটি শুনলেই তারা আকাশ পানে তাকায়। আবার হুশিয়ার সিংহ শুনা মাত্রই ভয়ে আতঙ্কে গাছে লাফিয়ে উঠে।
তথ্য সূত্র: Sapiens : A brief History of Humankind – Page-10
এর দ্বারা বুঝা গেল, তারা পরিবেশ ও ক্ষেত্র বিশেষে সুনির্দিষ্ট সংকেত ব্যবহার করে। ফলে যখন টেপ রেকর্ডারের শব্দ শুনেছে তখন তারা শব্দের বিশ্লেষণ করার সুযোগ ব্যতিরেকেই পালানোর জন্য চিন্তা করেছে।
এভাবে ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকল প্রাণীরাই এই পদ্ধতিই গ্রহণ করে থাকে। একটি ছোট্ট শব্দের উচ্চারণ থেকে তারা পরিস্থিতির ধারণা পায়। শিম্পাজী
আমরা জানি, অর্থবোধক শব্দের সমষ্টিই বাক্যের সৃষ্টি করে। প্রাণীরা শব্দ সমষ্টির মাধ্যমে বাক্য সৃষ্টি করতে পারে না। তারা শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমেই ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়, এভাবেই তাদের জীবন আবর্তিত হয়।
মানুষ শব্দের মাধ্যমে বাক্য সৃষ্টি করতে পারে। ফলে মানুষ ঘটনাকে বিস্তারিত বর্ণনা করতে পারে। কেননা প্রাণীদের মত এমন পরিস্থিতিতে মানুষ মুখোমুখি হলে, তারা বিষয়টিকে এভাবে বলবে,
“সবাই হুশিয়ার! গ্রামের দক্ষিণ পার্শ্বে, নদীর বাঁকে, কদম গাছের নীচে, সিংহ লুকিয়ে আছে”।
মানুষ এমন বিস্তারিত লম্বা কথা অনুধাবন করতে পারে। এমন কথা শুনা মাত্রই, মানুষের মনোজগতে চিন্তার ঝড় শুরু হয় এবং ভাবনা-চিন্তা করে করণীয় ঠিক করতে পারে। এর দ্বারা বুঝা যায়, মানুষ শুধু কথাই বলতে পারে না। সে কথার গভীরে যাবার জন্য বিশ্লেষণও করতে পারে!
প্রাচীন কাল থেকেই এঁকে, খোদাই করে, সাংকেতিক চিহ্নের মাধ্যমে মানুষ নিজেদের কথা গুলোকে রেখে যেতে চেষ্টা করেছে। যাতে পরবর্তী কেউ এগুলো বিশ্লেষন করে মর্ম উদ্ধার করতে পারে। তাই কথা বিশ্লেষন ও লিখা সংরক্ষনের কাজে পারদর্শী বলেই মানুষ পৃথিবীতে সৃষ্টিশীল এবং তার কাছে রয়েছে নান্দনিক উদ্ভাবনী ক্ষমতা! যার মূলে রয়েছে এবং বাক্যের ব্যবহার।
এই যে ভাষার কারণে মানুষের এত শ্রেষ্ঠত্ব এত গুরুত্ব, সেই ভাষা কিভাবে মানুষ আয়ত্ব করল, তার প্রমাণ বিজ্ঞানীদের কাছে না থাকলেও, তার ব্যাখা দিয়েছেন থিউরীর মাধ্যমে! আর তা হল, Accidental Genetic Mutations Change তথা ‘দুর্ঘটনা জনিত জেনেটিক পরিবর্তন’!
হ্যাঁ, বিজ্ঞানীদের কাছে মানুষ কিভাবে কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, এর স্বপক্ষে বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও ইসলাম দাবী করে এই প্রশ্নের উত্তর তার কাছে রয়েছে। আমরা সামনের দিকে দেখতে পাব, মানুষ কিভাবে কার মাধ্যমে এই অবিস্মরণীয় যোগ্যতা অর্জন করেছে। শিম্পাজী


Discussion about this post