১৮৫৬ সালে নিয়াণ্ডারথাল নামে জার্মানির একটি উপত্যকায় মানুষের হাড়ের মত কিছু ফসিল আবিষ্কৃত হয়। বলা হয়, তারা ৩০ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া মানুষ সদৃশ প্রাণী।
বিজ্ঞানীদের কাছে ভূপৃষ্ঠে প্রাচীন মানবের উপস্থিতি প্রমাণের জন্য এটা ছিল অন্যতম নজির। জার্মানির সেই উপত্যকার নাম অনুসারের মানুষের সাদৃশ্য এই প্রজাতির নাম রাখা হয় “নিয়াণ্ডারথাল”।
উনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়ান্ডারথালের আরো ফসিল আবিষ্কৃত হয়। সে থেকে বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গবেষণা করে নিত্য নতুন থিউরি আর থিসিস দিতে থাকেন। তথ্যসূত্র : National History Musem ওয়েব পেইজ
যেহেতু নিয়ান্ডারথালের কোন ছবি কারো কাছে নেই সেহেতু বলা যাচ্ছে না, তাদের প্রকৃত আকৃতি-অবয়ব কেমন ছিল। তবে কম্পিউটার প্রোগ্রাম দ্বারা, ডিজাইন করে, প্রাপ্ত হাড়ের উপর মাংস বসিয়ে, সে সব প্রজাতির অবয়ব কেমন হতে পারে, বিজ্ঞানীরা তা অনুধাবন করার চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞানীদের অঙ্কিত সে সব চিত্র দেখলে বুঝা যায় যে, তারা দেখতে অনেকটা মানুষের মতই ছিল। পাঠকদের আগ্রহ বিমোচনার্থে অনলাইন গুগলে তল্লাশি করলে, এসব ছবি পাওয়া যেতে পারে।
যাই হোক, তাদের উচ্চতা ছিল ১.৫ থেকে ১.৭৫ মিটার লম্বা। ওজন ৬৪ থেকে ৮২ কেজি পর্যন্ত ধারণা করা হয়। তাজা মাংস, লতাপাতা, ছত্রাক, মাছ, শামুক, ঝিনুক তাদের প্রধানতম খাদ্য ছিল। তাদের মাথার খুলিটা কিছুটা লম্বাটে; যদিও বর্তমান মানুষের খুলির আকার প্রায় গোলাকার। লম্বাটে মাথার খুলির মুখমণ্ডলের ঠিক নিচে কোন চিবুক নেই!
মানুষের যেখানে দাড়ি গজায়, সেটা তাদের ছিলনা। চিবুক বিহীন চেহারাটা দেখতে অনেকটা, সামনের দিকে একটু বেশী প্রসারিত এবং ঠোঁটের নিচ থেকেই চোয়াল গলার দিকে ঘুরে গেছে। গায়ে পশম ছিল তবে তা পশুর মত ঘন নয়, আবার বর্তমান মানুষের মত হালকাও নয়।
ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে পশুর চামড়া ব্যবহার করত। দাঁত ছিল বড় ও লম্বা। শক্ত জিনিষ চিবাতে এরা ছিল বেজায় পারঙ্গম। গুহায় বসবাস করত। বুদ্ধিমত্তা ও আচরণ ছিল মার্জিত এবং মগজের আকার ছিল বর্তমানের মানুষের চেয়ে বড়। তারা বর্শা, কুড়াল বানাতে পারত এবং শিকার করায় পারদর্শী ছিল।
তাদের মুখের গঠন এবং কানের হাড়ের গঠন এই ধারণা দেয় যে, আধুনিক মানুষের মতো তারা শুনতে পেত। তবে গবেষকরা দেখেছেন যে, তাদের সামাজিক জীবন ছিল খুবই জটিল এবং নিজেদের মধ্যে টুকটাক কথা বলতে পারতো। তবে তাদের ভাষাটা ছিল একেবারেই সাদামাটা ধরনের।
নিয়ান্ডারথালের যে বর্ণনা উপরে তুলে ধরা হলো, তা বিজ্ঞানীদের ফসিল বিশ্লেষণ ও জীন গবেষণার উপর ভিত্তি করেই। এই বর্ণনার সাথে ইসলাম ধর্মের মত-দ্বিমত কোনটাই নেই। নিয়ান্ডারথালকে যদি প্রাণী হিসেবে দাবী করা হয়, হতেও পারে। মানুষের সাদৃশ্য শিম্পাজি, বানরের মত প্রাণী তো আজো আমরা হরহামেশা দেখে থাকি।
তবে বিজ্ঞান যেহেতু নিয়ান্ডারথালকে মানুষের পূর্ব পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করছে, সে হিসেবে দুটো কথা আছে। কেননা ইসলাম ধর্মে মানুষের সৃষ্টি বিষয়ে পরিষ্কার ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। তাছাড়া ইসলাম ধর্মের ব্যাখ্যাগুলোকে আমরা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার চেয়েও অধিক যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখতে পাব।
সামনের পোষ্টগুলোতে আমরা দেখতে পাব, শুধুমাত্র তাদের মুখে চিবুক ছিলনা! এই একটি বৈসাদৃশ্যই নিয়াণ্ডারথাল যে মানুষ ছিলনা, তা প্রমাণের জন্যে যথেষ্ট হবে।


Discussion about this post