– মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাদানি এবং মিশরের আল আযহার ভার্সিটির ছাত্র আযহারী হিসেবে চিত্রিত।
– আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে। এটি মূলত ইসমাইলিয়া শিয়া সম্প্রদায়ের হাতে সৃষ্টি। যাদের বর্তমান পরিচিতি ‘আগা খান’ হিসেবে, বাংলাদেশে ইস্পাহানী গ্রুপের কর্ণধার। পরবর্তীতে তাদের হাতে এর নিয়ন্ত্রণ থাকেনি। রাসুল (সা) কন্যা ফাতিমাতুয্ যাহরা (রা) এর নামে এর নামকরণ করা হয়। যাহরা শব্দের বহু বচন ‘আযহার’।
উইকির তথ্য মতে, “এটি পাঠ্যক্রমের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ বিষয় সহ একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়”।
– ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মদিনা ইউনিভার্সিটি, তারও আগে তৈরি হয় মক্কা ভার্সিটি, তারও আগে হয় মক্কার উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়। সৌদি সরকারে রাজ ডিক্রির মাধ্যমেই সৃষ্টি হয় এসব বিশ্ববিদ্যালয়। সৌদি আরবের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলার শিপের ব্যবস্থা থাকলেও, মদিনা ভার্সিটিতে বিদেশীদের জন্য বরাদ্দ অনেক বেশী। প্রতিবছর বহু বিদেশী ছাত্র এখান থেকে বের হয় বলে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বেশী ছড়িয়েছে।
উইকির তথ্য মতে, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ‘সালাফি’ মতবাদের ধ্যান ধারনায় গড়ে উঠে”।
মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিত্ব:
– মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর বহু যোগ্য আলেম বের হয়।
– মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা বার থেকে পনের জনের মত ব্যক্তি জগতে বেশী আলোচিত।
– তার মধ্য থেকে বাংলা ভাষীদের কাছে বেশী পরিচিত তিন জনের নাম দেওয়া হল,
– ড. বিলাল ফিলিপস – নও মুসলিম, কানাডার ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
– ড. রাবি আল মাদখালি – ইসলামী রাজনীতির বিপক্ষে মুসলিম সরকারকে সমর্থনের পক্ষে জনমত সৃষ্টিকারী সালাফি ইসলামী চিন্তাবিদ।
– সফিউর রহমান মোবারক পুরী – আর বাহিকুল মাকতুমের স্রষ্টা, রাসুল (সা) জীবনী লিখে সারা বিশ্বের অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে সৌদি সরকারের রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার অর্জন করেছেন।
– এঁদের কারো নামে পিছনে মাদানি টাইটেল লাগানো হয়না, অন্যদেরও না।
নামের শেষের টাইটেলের পিছনের কথা
– সাহাবী সালমান ফারসি (রা); তিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন বলে ফারসি টাইটেল ছিল।
– বাবা আদম শহীদ মক্কী (র); তিনি মক্কার মানুষ, ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে বল্লাল সেনকে পরাজিত করেন।
– শাহজালাল ইয়েমেনী (র); তিনি ইয়েমেনের মানুষ ছিলেন, সিলেটে গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করেন।
– ঈমাম বোখারী (র); তিনি বোখারী শরীফ লিখেছেন এবং মধ্য এশিয়ার বোখারায় তাঁর জন্ম।
– শায়খ আহমদ সরহিন্দি (র); সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গীরের শাসন পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়েছেন। তিনি পাঞ্জাবের পাতিয়ালা রাজ্যের সরহিন্দে জন্মগ্রহণ করেন।
– কাশেম নানুতুবি (র); দেওবন্দ আলীয়ার প্রতিষ্ঠাতা, তিনি উত্তর প্রদেশের শাহারান পুরের নানুতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
– আল্লামা জাফর থানেশ্বরী (র); ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতার সিংহ পুরুষ, তিনি ভারতের থানেশ্বরে জন্মগ্রহণ করেন।
– আবদুল আহাদ আল মাদানী (র); চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদের ঈমাম, তিনি মদিনার অধিবাসী ছিলেন।
– আবদুল আহাদ আল মাদানী (র); চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদের ঈমাম, তিনি মদিনার অধিবাসী ছিলেন।
এভাবে হাজার হাজার উপমা লিখা যায়। এঁরা সবাই নিজ যুগে দ্বীনের পথের কাণ্ডারি ছিলেন। এসব টাইটেলের মাধ্যমে তাঁর দেশ কোথায় সেটা নির্ধারণ করা হত। এখনও কওমি মাদ্রাসা গুলোতে এই নিয়ম মেনে চলা হয়। কিন্তু কেউ নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম লাগায় নাই। আজকাল কিছু নবীন আলেম তাঁদের নামের পিছনে মাদানি, আযহারী এবং নাদভী (ভারতে অবস্থিত দারুন নাদওয়ার ছাত্র) উপাধি লাগিয়ে প্রচার প্রচারণা চালায়। বুঝতে পারিনা এটা কি শায়খদের ইচ্ছায় নিজেরা লাগায় নাকি সমর্থকেরা দর্শক আকৃষ্ট করতে এভাবে টাইটেল যোগ করে।
ফেসবুকের কল্যাণে মদিনা / আযহারী ডিগ্রী ধারী নবীন শায়খদের কিছু ওয়াজ শোনার সুযোগ হয়েছে। মন্তব্য না করাই সমীচীন। অনেক শ্রোতাদের কাছে দৃঢ় ধারণা, এখান থেকে যারা ডিগ্রী নিয়ে বের হয়, তারা সবাই সহি, শুদ্ধ, সঠিক ও নির্ভুল। আর দেশের মাদ্রাসায় যারা পড়ে বের হয়েছেন তাদের মধ্যে আছে ভুলের বেসাতি!
পৃথিবীতে নামকরা বহু বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেখান থেকে দলে দলে গুণীজন বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এদের কোন খবরও রাখে না। ছত্ররাও নামের শেষে সে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইটেল লাগায় না; কেননা এতে উপহাসের মুখোমুখি হবার ভয় থাকে। ছাত্রকেই এমন কৃতিত্ব-বান হতে হয়, যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই গৌরবান্বিত হয়ে সেই ছাত্রকে দাওয়াত দিয়ে, অনুষ্ঠান করে ঘোষণা করতে হয় যে, ইনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিত্ব-বান ছাত্র।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “আমার কাছে সেই ব্যক্তিই সেরা, যে তাকওয়ার মানদণ্ডে উত্তম”। তাকওয়া মানুষ দেখতে পায়না কিন্তু কাছাকাছি থাকলে কিছুটা বুঝতে পারা যায়। আমলে সালেহ তথা সৎ কর্ম মানুষ কিছুটা দেখতে পায়। সে হিসেবে ভাল মানুষের দ্বিতীয় মানদণ্ড হল ‘আমল’। বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই যে, এই গুন থাকে এমন নয়, গ্রামের একটি ছোট্ট মাদ্রাসার ছাত্রও অনেক তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।
তাই ইসলামী পণ্ডিতদের উচিত, তাঁদের নামে অনুসারীরা কি কি টাইটেল লাগায় সেটার প্রতি নজর রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইটেল লাগানো পরিহার করা। আর এমন ভূমিকা রাখা, যাতে করে উৎসাহী মানুষই আগ্রহী হয়ে প্রশ্ন করে যে, শায়খ কোন স্থান থেকে শিক্ষা অর্জন করেছেন।

Discussion about this post