পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পরে যে বিষয়টি ছাত্রদের ভাবিয়ে তুলে সেটা হল, কিভাবে সিরিয়াল অনুসারে সাজিয়ে বিষয় সিলেকশন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইড থেকেও জানানো হয় যে, খুবই চিন্তা করেই যেন এ’কাজটি করা হয়। সামান্য ভুলের কারণে পছন্দনীয় বিষয় হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এই বিষয়টি পরিষ্কার করতেই আজকের এই পোষ্ট।
পাশের সিরিয়ালে যারা প্রথম দিকে থাকে তাদের দুঃচিন্তা সিরিয়ালের শেষের দিকে থাকার প্রার্থীর চেয়ে অনেক কম। যারা মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে তারা পড়ে বেশী মুসিবতে।
আর যারা ওয়েটিং লিস্টে থাকে, তারা থাকে বেজায় টেনশনে। না জানি কোন ধরনের বিষয় কপালে জুটে! এক্ষেত্রে একটু সচেতন ও সতর্ক হলে ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীও পছন্দের বিষয় পেয়ে যেতে পারে।
বিষয়টি সহজে বুঝার জন্য এখানে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে আনা হয়েছে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল, কম্পিউটার সাইন্স, আর্কিটেক্ট, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং, ওয়াটার রিসোর্স, আরবান ও রিজিওনাল প্লানিং সহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে এক হাজারের মত সিট রয়েছে।
বর্তমান সময়ের প্রার্থীদের মধ্যে বেশীর ভাগ ছাত্রই ইলেক্ট্রিক্যাল কিংবা কম্পিউটার সাইন্স পড়তে বেশী আগ্রহী। এই ধরনের একটি সময়ে কারো সিরিয়াল পাঁচ শ’য়ের ঘরে হলে তার পক্ষে কি উপরের দুটি বিষয় পড়ার সুযোগ হবে? এক বাক্যেই না।
ভাগ্য যদি উদ্ভট আচরণ করে তাহলে হয়ত সম্ভব হতে পারে। এই ধরনের ভাগ্য যাচাই করা একজন ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রের জন্য মোটেও সুখকর সিদ্ধান্ত হবেনা। সুতরাং প্রথম ও দ্বিতীয় চয়েসের তালিকা থেকে এসব বিষয় বাদ দিতে হবে।
শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিন, ওসব বিষয় আকাঙ্ক্ষিত হলেও পরীক্ষার রেজাল্টই ভাগ্যকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এদিক বাদ দিয়ে নতুন করে ভিন্ন দিকের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
একটা কথা মানতে হবে, যে ছাত্র প্রথম হয়েছে আর যে ছাত্র হাজারের শেষে আছে কিংবা যারা ওয়েটিং লিস্টে আছে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সবাইকে ব্রিলিয়ান্ট হিসেবে ধরে নেয়।
কেননা তারা সবাই পরীক্ষা দেবার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং যার সিরিয়াল পাঁচ শ’য়ের ঘরে তার জন্য বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে, যে বিষয় গুলো তার চিন্তার সিরিয়ালে যথাক্রমে তিন ও চার নম্বরে ছিল, সেগুলোকে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে নিয়ে আসতে হবে।
ধরুন প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে ১৫০টি করে সিট আছে আর ৫৫০ নম্বর সিরিয়ালের একজন প্রার্থী তার সিরিয়ালটি এভাবে সাজিয়েছে, যেমন, EEE, CSE, MIE, CE, ETE, PME, BME.
ফাইনালি যখন তালিকা প্রকাশ হবে তখন দেখা যাবে এই প্রার্থী এক থেকে পাঁচ কোন ডিপার্টমেন্টেই সুযোগ পায়নি একেবারে শেষের দিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় তার ভাগ্যে জুটেছে। যা সে ভাবেনি। অধিকন্তু আট শয়ের একজন এমনকি ওয়েটিং এ থাকা একজন প্রার্থীও তৃতীয় অথবা চতুর্থ বিষয়টি পেয়ে গেছে!
আমার লিখার উদ্দেশ্য এই বিষয়টি পরিষ্কার করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ধাপে ছাত্র ভর্তি হয়ে যাবে। ভর্তি কার্যক্রম যদি অপূর্ণাঙ্গ থাকে কিংবা কিছু ছাত্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।
তখন দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর সেই মেরিট সিরিয়াল দেখবে না। তারা দেখতে চাইবে এসব বিষয়ের শূন্যস্থানে ঢুকার জন্য, কাদের আগ্রহের তালিকায় বিষয়টি প্রথম ছিল, তাকেই অগ্রাধিকার দিবে।
ফলে পিছনের ছাত্ররা সুযোগ পেয়ে যাবে। ধরুন ৫৫০ সিরিয়ালের একজন প্রার্থীর তিন নম্বরের পছন্দ ছিল ‘মেকানিক্যাল’ আবার ৮৫০ সিরিয়ালের একজন ছাত্রের মেকানিক্যাল পছন্দ ছিল এক নম্বরে।
সুতরাং মেকানিক্যালের এই শূন্য স্থানটি ৮৫০ সিরিয়ালের ছাত্রকে দেওয়া হবে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের পরীক্ষা পাশের গুনগত মান বিচারের চেয়ে, ছাত্রদের আগ্রহকে অধিকতর মূল্যায়ন বেশী করে।
এতে করে সে ক্লাসে মনযোগী হবে এবং তারা একজন ভাল ছাত্র বানাতে পারবে। সুতরাং বর্তমান সময়ের ছাত্রদের আগ্রহের চাহিদাকে সামনে নিয়ে, চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করে তালিকা বানালে সে কৃতকার্য হবে সহজেই।

Discussion about this post